সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি? কেন এবং কিভাবে করবেন

5/5 - (2 votes)

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বলতে কী বোঝায়?

প্রিয় পাঠক আজ আমরা জানব “সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি?” সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কেন করা হয়? এবং এই মার্কেটিং করে কি লাভ হয়। সাধারণ ভাবে আমরা বলতে পারি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং হলো ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি অংশ বা ভাগ।

আপনি হয়তো ইতিমধ্যে জানেন, সোশ্যাল মিডিয়া বলতে আমরা কি বুঝি। যেমন – ফেইসবুক, টুইটার, ইনস্ট্রাগ্রাম, টিকটক এমন আরও কিছু সাইট হলো জনপ্রিয় কিছু সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম।

বাংলায় সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি?

এসব জনপ্রিয় এবং ইন্টারনেটে এদের মতো আরো অনেক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। এসকল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আমরা বিভিন্ন চেনা এবং অচেনা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে থাকি। কথা বলে, ছবি, ভিডিও দিয়ে এবং বিভিন্ন স্ট্যাটাস এর মাধ্যমে নিজেদের মনের ভাব প্রকাশ করে থাকি এসকল প্ল্যাটফর্মে।

বর্তমানে বহু ক্ষেত্রে, এসব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলো অনলাইন মার্কেটিং এর একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে বহু প্রোডাক্ট, ব্র‍্যান্ড, সার্ভিস বা সেবার প্রোমোশনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার হচ্ছে।

অনলাইন মার্কেটিং হলো আমরা ইন্টারনেটে সক্রিয় থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছে নিজেদের প্রোডাক্ট, সার্ভিস এবং যেকোনো জিনিস প্রচার করা থেকে শুরু করে বিক্রি করে থাকি। অথবা এভাবে বলা যায় আমরা আমাদের নিজেদের পণ্য বা সার্ভিস এর প্রমোশন করিয়ে ক্রেতাদের সেসব প্রোডাক্টসের বিষয়ে জানাতে পারি।

বর্তমানে, অনলাইনে এক্টিভ থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে থাকে। তাই বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলোতে যেকোনো পণ্য বা ব্যবসার প্রচার প্রসারণ করা বেশ লাভজনক প্রমাণিত হয়েছে।

এতে ঘরে বসে মানুষেরা আপনার প্রচার বা মার্কেটিং করা পণ্য বা সেবা অনেক সহজেই পেতে পারে। এসব সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটা অনলাইনে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে হয়ে থাকে।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কিভাবে কাজ করে?
বর্তমানে অধিকাংশ কোম্পানি বা ব্র‍্যান্ডের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল রয়েছে। তারা ফেইসবুক পেজ, টুইটার পেজ বা ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে তাদের পণ্য, সেবা বা ব্যবসার প্রোমোশন করছেন অনলাইনে সক্রিয় থাকা সেসব মানুষের কাছে। এর মাধ্যমে প্রোডাক্টসের প্রচার অনেক সহজ এবং কম সময়ে যেকোনো পণ্যের মার্কেটিং করা যায়।

আপনি যদি একজন ব্যবসায়ী হয়ে নিজের পণ্য মার্কেটিং করতে চান তাহলে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রোফাইল বা পেজ তৈরি করে “সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ” করতে পারেন। অথবা আপনি একটি নিজস্ব ব্লগ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করেও এই কাজটি করতে পারেন। এতে আপনি ঘরে বসে অনেক ক্রেতা পেয়ে যাবেন।

সহজভাবে বললে, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং হলো এমন এক প্রক্রিয়া, যেখানে বিভিন্ন ভিন্ন ভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পণ্য বা সেবার মার্কেটিং করা হয়। যেমন – ফেইসবুক, টুইটার, ইনস্ট্রাগ্রাম, ইউটিউব এমন আরও অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিদের টার্গেট করে,পণ্য বা সেবার গুণমান সচেতনতা প্রচার করা হয়। এটি হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং প্রসেস।

এই মার্কেটিং পদ্ধতিতে ইন্টারনেটে এক্টিভ থাকা অসংখ্য ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে মার্কেটিং করা হয়। এজন্য এটিকে ডিজিটাল মার্কেটিং এর সবচেয়ে সেরা এবং জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে ধরা হয়।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করার উপায়-

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং-itshohorbd

সোশ্যাল মিডিয়া বিজ্ঞাপন –

সোশ্যাল মিডিয়া বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আপনি যেকোনো পণ্য, সেবা বা যেকোনো জিনিসের বিশ্বব্যাপী অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচার করতে পারবেন। কারণ, ইন্টারনেট ব্যবহার করা ব্যক্তিদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেইসাথে মানুষ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং সোশ্যাল মিডিয়া এপস গুলোও অধিক পরিমাণে ব্যবহার করছেন।

সোশ্যাল মিডিয়া বিজ্ঞাপন হলো এমন একটি মাধ্যম, যেখানে যেকোনো পণ্যের বিজ্ঞাপন খুব সহজেই পেইড মার্কেটিং এর মাধ্যমে প্রচার করা যায়। আপনি যদি একজন ব্যবসায়ী হন। তাহলে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং মাধ্যমটি ব্যবহার করে নিজের পণ্য বা সেবা অনেক সহজেই বিশ্বের যেকোনো যায়গায় পৌঁছাতে পারবেন।

এসব প্রক্রিয়া করণ করতে একটি ল্যাপটপ থাকলে ভালো হয়। ল্যাপটপ না থাকলেও কোন সমস্যা নেই বর্তমানে এটি আপনার হাতের স্মার্টফোনের সাহায্যেও করতে পারবেন। এটি করলে ঘরে বসে আপনার পণ্য বা সেবার অনেক গ্রাহক পাবার সুযোগ অনেক বেড়ে যায়।

কিভাবে করব সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ?

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর নিয়ম অনেক সহজ। আপনাকে শুধু এমন কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম বেছে নিতে হবে যেখানে মানুষজন অনেক বেশি সক্রিয় থাকে। যেমন – ফেইসবুক এবং টুইটার ইত্যাদি। মার্কেটিং শুরু করার পূর্বেই আপনার পণ্য বা সেবার একটি প্রোফাইল, পেজ বা গ্রুপ তৈরি করতে হবে। আর আপনি এসব পুরো প্রসেসটা সম্পূর্ণ ফ্রি তেই করতে পারবেন।

এরপর প্রোফাইল, পেজ বা গ্রুপ তৈরি করার পর আপনার উদ্দেশ্য থাকবে সেগুলোতে ফলোয়ার বা লাইক বা সাবস্ক্রাইবের সংখ্যা বৃদ্ধি করা। মনে রাখবেন , যত বেশি ফলোয়ার বা লাইক সংখ্যা বেশি হবে তত জনপ্রিয় হবে আপনার প্রোফাইল বা পেজ।

এরপর, বিভিন্ন সময়ে নিজের বিজনেজ, প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের সম্পর্কিত খবর, বিভিন্ন অফার বা নতুন পণ্য বা সেবা সম্পর্কিত পোস্ট করুন। এতে আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটিভ থাকা লোকজন আপনার ফলোয়ার্রসরা আপনার প্রচারগুলো দেখতে পাবেন। আর এভাবেই ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে আপনার বিজনেস, ব্র‍্যান্ডের মার্কেটিং হতে থাকবে।

এভাবে আপনি অনলাইনে আপনার বিজনেস বা ব্র‍্যান্ডের গুরুত্ব তৈরি করতে পারবেন। এবং ধীরে ধীরে মানুষজন আপনার বিজনেস বা প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানবে।

আপনার যদি একটা ওয়েবসাইট থাকে তাহলে এর মাধ্যমে নিজের লেখা আর্টিকেলগুলো প্রচার করতে পারবেন। এছাড়া, এর দ্বারা নিজের ওয়েবসাইটে প্রচুর পরিমাণে সোশ্যাল ট্রাফিক পেয়ে যাবেন।

ইউটিউব দ্বারা মার্কেটিং –

ইউটিউব ভিডিও সহজে ভাইরাল হবার উপায়
ইউটিউব ভিডিও সহজে ভাইরাল হবার উপায়

বর্তমানে ইউটিউব এমন একটি মার্কেটিং মাধ্যম হয়েছে, যার দ্বারা খুব সহজেই আপনি আপনার লক্ষ্য পূরণ করতে পারবেন। বর্তমানে জনপ্রিয়তার তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইউটিউব। বর্তমানে মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ ইউটিউবে নিজের সমস্যার সমাধান করার ভিডিও খুঁজে থাকেন।

ভিডিও দ্বারা যেকোনো জিনিসের ব্যাপারে জানাটা অনেক বেশি সহজ। তাই আপনি সম্পূর্ণ ফ্রি তে নিজের একটি ইউটিউব চ্যানেল বানাতে পারেন। তারপর নিজের ব্যবসার, ব্র‍্যান্ডের, পণ্য বা সেবার সঙ্গে সম্পর্কিত ভিডিও তৈরি করতে পারেন। এতে অনেক সহজে আপনার ব্যবসার বা পণ্যের বিজ্ঞাপন বা প্রমোশন মার্কেটিং করাতে পারবেন।

ইউটিউব চ্যানেলে যদি সাবস্ক্রাইবের সংখ্যা অনেক বেশি বানাতে পারেন তাহলে আপনার ব্যবসার বা ব্র‍্যান্ডের প্রচার তত বাড়বে। আর আপনার পণ্যের ক্রেতার সংখ্যাও বাড়বে।

এছাড়াও ইউটিউবে যাদের অনেক বেশি সাবস্ক্রাইবার রয়েছে তারা তাদের ব্যবসার বা পণ্যের বিজ্ঞাপন বা প্রমোশন করছেন। আপনি যদি তাদের চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দেখাতে চান তাহলে চ্যানেলের মালিককে টাকা দিতে হবে।

টাকা দিয়ে হলেও মাত্র একটি ভিডিওর মাধ্যমে আপনার বিজনেস বা ব্র‍্যান্ডের বা প্রোডাক্টসের ব্যাপারে মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষদের একসঙ্গে জানিয়ে দিতে পারছেন। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো যতদিন ইউটিউবে ঐ ভিডিওটা থাকবে ততদিন আপনার প্রমোশনও হতেই থাকবে।

আশা করছি বুঝতে পেরেছেন, ইউটিউবের ভিডিওর দ্বারা যেকোনো বিজনেস বা প্রোডাক্টসের বিজ্ঞাপন বা মার্কেটিং করা কতটা লাভজনক হতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর ৫ টি লাভ ও সুবিধা

বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবি সহ বয়স্ক মানুষজনও ব্যবহার করছেন সোশ্যাল মিডিয়া। এজন্য সোশ্যাল মিডিয়া দ্বারা মার্কেটিং করলে অনেক সহজে মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষের কাছে সহজেই পৌঁছানো যায়। এছাড়াও আরো কিছু সুবিধা রয়েছে যেগুলো শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর মাধ্যমে হতে পারে। নিচে গুরুত্বপূর্ণ ০৫ টি সবচেয়ে সেরা লাভ বা সুবিধার কথা উল্লেখ করছি।

১। যেকোনো জিনিসের প্রমোশন সম্ভব –

ছোট কিংবা বড় যেকোনো পণ্যের বা সেবার প্রমোশন করাতে পারবেন। বর্তমানে বিভিন্ন মানুষজন নিজের ঘরেই বিভিন্ন প্রোডাক্ট এনে সেগুলো সোশ্যাল মিডিয়া দ্বারা মার্কেটিং করে বিক্রি করছেন। এজন্য আপনার প্রোডাক্ট যেমনই হোক না কেন আপনি সহজেই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং দ্বারা আপনার ব্যবসার প্রচার করতে পারবেন।

২। কম খরচে বিজ্ঞাপন –

google ads কি google ads নাকি facebook ads
google ads কি

এই প্রক্রিয়া অবলম্বন করে অনেক কম টাকায় মার্কেটিং বা প্রোমোশন সম্ভব। এখানে বেশিরভাগ কাহ নিজেই ফ্রি তে করে নিতে পারবেন। আপনার শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রোফাইল বা পেইজ বানাতে হবে। এরপর নিজের ব্যবসার ব্যাপারে মানুষদের ফ্রি তেই জানাতে পারবেন।

এবং সেই সম্পর্কে সময়ে সময়ে আপডেট দিতে পারবেন। তারপরও আপনি যদি অনেক বেশি পরিমাণে আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন করাতে চান তাহলে পেইড বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সেটা সম্ভব। এতে আপনার কিছু টাকা খরচ হবে। টাকা খরচ হলেও অফলাইনের চেয়ে অনলাইনে অনেক কম খরচে মার্কেটিং করা সম্ভব।

৩। টার্গেটেড প্রমোশন মার্কেটিং-

অফলাইনের মাধ্যমে আমরা কখনো কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারিনা। অর্থাৎ আপনি যদি রাস্তার পার্শ্বে বা অন্য কোন স্থানে বিজ্ঞাপন লাগান, তাহলে সেই বিজ্ঞাপন কে দেখবে আর কে দেখবে না সেটা আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে না। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া দ্বারা মার্কেটিং করলে এই অপশনটি আপনার হাতের নাগালে থাকে।

অর্থাৎ আপনি কোন স্থানের মানুষদের টার্গেট করে কতদিন পর্যন্ত বিজ্ঞাপন চালাবেন সেটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এছাড়াও আপনি যাদের কাছে বিজ্ঞাপন দেখাবেন তাদের বয়স কত হবে এবং মানুষের আগ্রহ এবং চাহিদার উপর ভিত্তি করে বিজ্ঞাপন চালাতে পারবেন।

আশা করি বুঝতে পেরেছেন, আপনার প্রোডাক্টসের উপর ধ্যান রেখে অনলাইনে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দেন তাহলে আপনার ব্যবসার সাথে জড়িত গ্রাহকদের টার্গেট করতে পারবেন। এভাবে আপনার এড দেখানোর উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ সফল হবে। নিজের ব্যবসার জন্য টার্গেটেড কাস্টমার বা ক্রেতা পেয়ে যাবেন।

৪। সহজ ভোক্তা বা ক্রেতা –

যা উপরে আলোচনা করা হলো, অফলাইনে বিজ্ঞাপনের তুলনায় অনলাইনে মার্কেটিং করে আমরা সহজে যেকোনো স্থানের বিশেষ ব্যাক্তিদের বয়স হিসেব টার্গেট করে বিজ্ঞাপন চালাতে পারি।

এই ক্ষেত্রে ভালো ভাবে টার্গেটেড কাস্টমারকে বিজ্ঞাপন দেখানোর ফলে, প্রচুর পরিমাণে গ্রাহক বা ক্রেতা পাবার সুযোগ বেড়ে যায়। বর্তমানে এভাবে মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষেরা নিজের ব্যবসার জন্য টার্গেটেড কাস্টমার পেয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

৫। ক্রমবর্ধমান ব্র্যান্ড সচেতনতা –

বর্তমানে আমরা সবাই যেকোনো পণ্য কেনার আগে, সেই প্রোডাক্টসের ব্র‍্যান্ড বা কোম্পানির নাম অবশ্যই দেখে থাকি। তাহলে বিষয়টি হলো একটি ভালো ব্র‍্যান্ড মানেই হলো অধিক বিশ্বাস এবং নিরাপত্তা। এজন্যই আপনি Social Media Marketing এর মাধ্যমে আপনার নির্দিষ্ট ব্র‍্যান্ডের একটি ভ্যালু তৈরি করতে পারেন মানুষের কাছে।

দেশে কিংবা বিদেশে যেকোনো স্থানের মানুষদের কাছে আপনার নিজস্ব কোম্পানি বা ব্র‍্যান্ডকে নিয়ে যেতে পারবেন। আগেকার দিনের মার্কেটিং এর তুলনায় সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এ অনেক লাভ এবং সুবিধা রয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ভালো নাকি খারাপ?

আপনি একবার ভেবে দেখুন আপনার একটি কাপড়ের ব্যবসা রয়েছে। যখন আপনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বয়স, চাহিদা এবং জায়গা টার্গেট করে নিজের ব্যবসার মার্কেটিং করবেন। তখন ঘরে বাহিরে, অফিসে বা পার্কে বসে থাকা মানুষেরা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে আপনার পণ্য বা ব্যবসা সম্পর্কে জানতে পারবে।

মানুষ না চাইলেও আপনার ব্যবসা বা পণ্যের ব্যাপারে জানবেন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। এভাবেই ধীরে ধীরে আপনার ব্যবসা বা পণ্যের ব্যাপারে মানুষ জানবে। আর মানুষের মধ্যে আপনার ব্যবসার আস্থা বাড়বে।

মনে রাখবেন, বর্তমানে যতো বড় কোম্পানি রয়েছে, সবাই কিন্তু টেলিভিশন বা রেডিও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেই আমাদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। এজন্য মানুষের কাছে নিজের ব্যবসার ভ্যালু তৈরি করতে বর্তমানে টেলিভিশন বা রেডিওর কোন কাজ নেই। বর্তমান যুগ হলো ডিজিটাল। আর মার্কেটিং এর সেরা মাধ্যম হলো ডিজিটাল মার্কেটিং। যেখানে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর গুরুত্ব অপরিসীম।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর গুরুত্ব –

বর্তমানে যেকোনো ব্যবসার অনেক প্রতিযোগিতা রয়েছে। অর্থাৎ একই ব্যবসা অনেকেই করছেন। এক্ষেত্রে আপনি যদি নিজের বিজনেস দ্বারা করাতে চান বা নিজের ব্যবসার জন্য অধিক ক্রেতা পেতে চান তাহলে আপনাকে সবার চেয়ে আলাদা কিছু করতে হবে।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং আপনাকে এক্ষেত্রে অনেক সাহায্য করবে। আপনি এর মাধ্যমে অনলাইনে সক্রিয় থাকা ব্যক্তিদের কাছে নিজের ব্যবসার প্রচার করাতে পারবেন। এভাবেই অনলাইনে মার্কেটিং এর কারণে আপনার ব্যবসার ব্যাপারে অনেকেই জেনে নিতে পারবে।

এভাবেই আপনার প্রতিযোগিদের তুলনায় নিজের ব্যবসার মার্কেটিং করে আপনার ব্যবসায়ে সফলতা পাবেন। এজন্য বলা যায়, আপনার ছোট বা বড় যেকোনো ব্যবসা এই ডিজিটাল মার্কেটিং সফলতা বয়ে আনতে অনেক সাহায্য করবে। এজন্য সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর গুরুত্ব অপরিসীম।

শেষ কথা –

প্রিয় পাঠক আশা করছি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি? এবং কেন এই মাধ্যম এই যুগে ব্যবহার করা উচিৎ। এই সম্পূর্ণ বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। আজকের পোস্ট সম্বলিত আপনার যদি আপনার কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকে তাহলে নিচে কমেন্ট বক্সে জানাবেন।

“নিজে জানুন এবং অন্যকে জানান ” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে আমাদের পোস্টগুলো ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন। নিয়মিত বিভিন্ন টিপস এবং ট্রিকস পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। মনযোগ দিয়ে সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Share Is Caring.. ❤️

           

আসসালামু আলাইকুম। আমি পেশায় একজন চাকুরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। আমি ব্লগ পড়তে এবং আর্টিকেল লিখতে পছন্দ করি। অবসর সময়ে ব্লগে বিভিন্ন বিষয়ে লিখে শেয়ার করে থাকি।

Leave a Comment