ন্যারো AI কি? এর উদাহরণ, সুবিধা ও ব্যবহার

5/5 - (1 vote)

ন্যারো এআই কি?

প্রিয় পাঠক ন্যারো এআই (Narrow AI) হল এক ধরনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ন্যারো এআইকে “Artificial Narrow AI” ও বলা হয়।

ন্যারো ai কি ও এর ব্যবহার
ন্যারো এআই (Narrow ai) কি ও এর ব্যবহার

এই ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট কাজ বা কাজ সম্পাদন করার জন্য তৈরি করা হয়। অনেক সময় একে দুর্বল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও বলা হয়। এটি মানুষের মতো কিংবা সাধারণ বুদ্ধিমত্তার মতো চিন্তা বা বুঝতে পারে না।

কিন্তু একে যে নির্দিষ্ট কাজের জন্য প্রোগ্রাম করা হয়েছে সেই কাজ সে দক্ষতার সাথে সঠিক কাজটি করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ,
Google Assistance, Chatbot ইত্যাদি।

ন্যারো AI এর উদাহরণ?

ন্যারো ai এর প্রকারভেদ
ন্যারো এআই (Narrow ai)
  • ➢ Google Assistance
  • ➢ Alexa
  • ➢ Chatbot
  • ➢ Siri
  • ➢ Face Recognition

ন্যারো AI তৈরি করতে কোন প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ব্যবহৃত হয়?

ন্যারো AI প্রোগ্রামিং এর জন্য নিম্নলিখিত ভাষাগুলো ব্যবহৃত হয়,

  • ➢ Python
  • ➢ R
  • ➢ Java
  • ➢ C++
  • ➢ Julia
  • ➢ Matilab

জেনারেল AI কী? –

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একটি অংশ হলো জেনারেল AI, এর আরেকটি নাম Artificial General Intelligence (AGI)। জেনারেল AI (General AI) জেনারেল AI হলো এমন এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যা মানুষের মতো চিন্তা করতে, বুঝতে বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করতে পারে।

জেনারেল এআই ন্যারো এআই থেকে আলাদা এবং উন্নত। যেখানে ন্যারো AI এক সময়ে একটি কাজ
করে, একটি সাধারণ AI একই সময়ে একাধিক কাজ সম্পাদন করতে পারে, যেমন কোন কিছু শেখা, সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সমস্যা সমাধান করা ইত্যাদি।

ন্যারো AI এবং জেনারেল AI এর মধ্যে পার্থক্য কী?

ন্যারো AI – Narrow AI (ANI)

ন্যারো AI কে দুর্বল AI ও বলা হয়। এই ধরনের
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট কাজ করতে পারে। উদাহরণ, যেমন Siri, Alexa, এবং Google Assistant, AI যা আমাদের ভয়েস কমান্ড অনুযায়ী কাজ করে।

জেনারেল এআই – General AI (AGI)

জেনারেল এআই, যা Artificial General Intelligence নামেও পরিচিত, এ ধরনের এআই মানুষের মতো বিভিন্ন জিনিস চিন্তা করতে, বুঝতে এবং কাজ করতে পারে।

উদাহরণ, স্মার্ট রোবট: এই ধরনের রোবট বাড়ির কাজ থেকে অফিসের কাজ পর্যন্ত সব ধরনের কাজ করতে পারে। আজকাল এই রোবটটি অনেক কারখানা ও রেস্তোরাঁয় ব্যবহার করা হচ্ছে।

ন্যারো AI কে দুর্বল AI বলা হয় কেন?

ন্যারো AI কে দুর্বল এআই ও বলা হয় কারণ ন্যারো AI শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। অর্থাৎ, এই ধরনের AI দিয়ে শুধুমাত্র একজনই করতে পারে। এটির সাধারণ মানুষের মত চিন্তা এবং বোঝার ক্ষমতা নেই।

চ্যাট জিপিটি কি ধরনের এআই?

চ্যাট জিপিটি একটি ন্যারো এআই। কারণ চ্যাট জিপিটি শুধুমাত্র প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে বা Chat GPT এর সাথে কথোপকথন করতে পারে।

চ্যাট জিপিটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন-

ব্রড এআই কি?

ব্রড এআই (Broad AI) কে Artificial General Intelligence (AGI) ও বলা হয়। এটি এক ধরণের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যা মানুষের মতো কোন কিছু চিন্তা করতে এবং শিখতে পারে । সহজ কথায় যদি বলি, ব্রড AI ন্যারো AI এর চেয়ে অনেক ভালো ও উন্নত।

এটি এমন একটি AI যা মানুষের মতো অনেক কিছু বুঝতে, শিখতে এবং কাজকরতে পারে। উদাহরণ: রোবট: একটি রোবট যা বাড়িতে সমস্ত কাজ করতে পারে, যেমন ঘর পরিষ্কার করা, রান্না করা এবং বাচ্চাদের যত্ন নেওয়া ইত্যাদি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনক কে?

জন ম্যাকার্থিকে (John McCarthy) কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পিতা বলা হয়। ১৯৫৬ সালে তিনি একটি ডার্টমাউথ সম্মেলনের আয়োজন করেন, যেখানে তিনি প্রথম “আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স” শব্দটি ব্যবহার করেন, যাকে AI এর শুরু বলা হয়।

তিনি এমন প্রোগ্রাম এবং প্রযুক্তি তৈরি করেছেন যা একটি মেশিনকে নিজে থেকে চিন্তা করতে এবং শিখতে সাহায্য করে।

এআই সম্পর্কে জানতে আরও পড়ুন-

ন্যারো AI এর ভবিষ্যত কি?

আজকাল আমরা প্রায় সর্বত্র ন্যারো AI এর ব্যবহার দেখতে পাচ্ছি। আমাদের ফোন, গাড়ি এবং বাড়ি, কর্মক্ষেত্রে, সব ক্ষেত্রে। এখন আমরা ধীরে ধীরে এর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি কারণ এটি আমাদের জীবনকে সহজ করে তুলছে।

আমরা কম সময়ে বেশি কাজ করতে পারি। তাছাড়া, ন্যারো এআই দিন দিন উন্নত হচ্ছে। এখন প্রযুক্তি যেমন দ্রুত গতিতে অগ্রসর হচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও অগ্রসর হচ্ছে। একটি ন্যারো AI এর ভবিষ্যত খুব উজ্জ্বল। উদাহরণস্বরূপ,

➤ ন্যারো AI মানে হলো এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যা শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য তৈরি করা হয়। এটি একটি নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধান করতে পারে, কিন্তু অন্য কিছুই এটি করতে পারে না।

উদাহরণস্বরূপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটবটগুলি এখন সমস্ত গ্রাহক পরিষেবাগুলিতে ব্যবহার করা হচ্ছে যা শুধুমাত্র প্রশ্নের উত্তর দিতে দক্ষ।

➤ ন্যারো AI অটোমেশন অর্থাৎ এটি অটোমেশনের কাজ করতে যথেষ্ট উন্নত। উদাহরণস্বরূপ, কারখানাগুলিতে, রোবটগুলি বারবার একই কাজ করে, যেমন জিনিস জোড়া লাগানো, প্যাকিং করা, ভারী বস্তুগুলিকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরানো ইত্যাদি।

ফলস্বরূপ, কাজটি দ্রুত, সঠিক এবং কম ভুল হয়। মানুষের দ্বারা করা অনেক একঘেয়ে কাজ এখন ন্যারো এআই-এর সাহায্যে মেশিন বা রোবট দিয়ে করা হচ্ছে।

➤ স্বাস্থ্য খাতে ন্যারো AI এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এটি ডাক্তারদের যেকোনো রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার পরিকল্পনা করতে সাহায্য করছে।

উদাহরণস্বরূপ, আইবিএম ওয়াটসন (IBM Watson) নামক একটি ন্যারো এআই সিস্টেম ক্যান্সার নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে দক্ষ।

এটি রোগীর রিপোর্ট ও ডাটা বিশ্লেষণ করে কীভাবে এবং কখন রোগের চিকিৎসা শুরু করতে হবে তা বলে দিচ্ছে। ফলস্বরূপ, ডাক্তাররা সহজে এবং সঠিকভাবে চিকিৎসার পরিকল্পনা করতে পারছে।

➤ ন্যারো AI ব্যাংকিং এবং আর্থিক পরিসেবায় প্রতারণা সনাক্ত করতে ও লেনদেন পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করে। এটি দ্রুত প্রচুর পরিমাণে ডেটা প্রক্রিয়া করে এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ সনাক্ত করে।

উদাহরণস্বরূপ, এটি ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি বা মানি লন্ডারিং সনাক্ত করতে খুব কার্যকর। ফলস্বরূপ, গ্রাহকদের অর্থ সুরক্ষিত থাকে এবং ব্যাঙ্কের খরচ কমে যায়।

➤ ন্যারো AI এখন শিক্ষায় একটি বড় পরিবর্তন আনতে সাহায্য করছে। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যক্তিগত শিক্ষার সুযোগ তৈরি করছে। শিক্ষার্থীদের জন্য শেখার প্রক্রিয়া সহজ, দ্রুত এবং আরও কার্যকর করতে ন্যারো AI ব্যবহার করা হচ্ছে।

অনলাইন শিক্ষা, ইউটিউব, ব্লগ, অনুবাদ ইত্যাদি অনলাইন শিক্ষার মাধ্যমে নেওয়া হচ্ছে। তাই বিনা দ্বিধায় বলা যেতে পারে যে আগামী সময়ে এআই বা ন্যারো এআই-এর ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল।

দৈনন্দিন জীবনে ন্যারো এআই-এর উদাহরণ

ভার্চুয়াল পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হল এক ধরনের ন্যারো এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করে তোলে। আমাদের প্রশ্নের উত্তর দেয় এবং বিভিন্ন কাজ করতে সাহায্য করে।

➣ আপনি যদি জিজ্ঞাসা করেন, “আজকের আবহাওয়া কেমন?” অথবা “এখন ঢাকায় সময় কত?”, তখন এগুলো সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেয়।

➣ আপনি যদি বলেন তবে এটি আপনার জন্য রিমাইন্ডার সেট করতে পারে, যেমন: আপনি যদি সকাল ৬ টায় উঠতে চান তবে তিনি আপনাকে মনে করিয়ে দেবেন।

➣ যদি আপনার ঘরে একটি স্মার্ট লাইট, ফ্যান বা টিভি থাকে, আপনি শুধুমাত্র এই সহকারীকে বলে সেগুলি চালু বা বন্ধ করতে পারেন৷ উদাহরণস্বরূপ: “লাইট
বন্ধ করে দাও।”

➣ আপনি আপনার হাত ব্যবহার না করে শুধুমাত্র শব্দের মাধ্যমে গান বাজাতে, কল করতে বা বার্তা পাঠাতে পারেন। উদাহরণ স্বরূপ: “যেকোন বাংলা অথবা হিন্দি গান চালাও। এই ধরনের ন্যারো AI এর উদাহরণ হল, Siri, Alexa, Google Assistant ইত্যাদি।

রিকমেন্ডেশন সিস্টেম হলো একধরণের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সি যা আপনার পছন্দ এবং ব্যবহারের হিস্টরি আপনাকে উপযুক্ত জিনিসের পরামর্শ দেয়। এটি আপনার জীবনে খুব উপকারি। কারণ এটি আপনাকে আপনার পছন্দের জিনিস খুব সহজেই খুঁজে এনে দেয়।

আপনি যদি Netflix-এ কিছু সিনেমা বা সিরিজ দেখেন, তাহলে লক্ষ্য করে দেখবেন এটি আপনার পছন্দ অনুযায়ী সেই মুভি বা সিরিজের সাজেস্ট করে থাকে। যেমন আপনি যদি থ্রিলার সিনেমা দেখতে পছন্দ করেন তাহলে সেটি আপনাকে থ্রিলার সিনেমা দেখার পরামর্শ দেবে।

আপনি যে ধরনের গান শুনেছেন তা দেখে Spotify নতুন গানের পরামর্শ দেয়। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি রবীন্দ্র সঙ্গীত বেশি শোনেন, তাহলে এটি আপনাকে আরও রবীন্দ্র সঙ্গীত বা অনুরূপ গান শুনতে বলবে।

Amazon এ আপনি যদি হেডফোন কেনেন তাহলে দেখবেন সে আপনাকে আরো কিছু সিমিলার পণ্য সাজেস্ট করছে। যেমনঃ স্ক্রিন প্রটেক্টর কিংবা মোবাইল কভার ইত্যাদি।

নেভিগেশন এবং মানচিত্র হল এমন প্রযুক্তি যা আপনাকে রাস্তা দেখাবে, আপনাকে সঠিক পথ নির্দেশ করবে এবং সহজেই আপনার গন্তব্যে পৌঁছাবে, আপনি যদি কোনো জায়গায় যেতে চান তাহলে এই অ্যাপগুলি আপনাকে দেখায় যে কোন রাস্তাগুলি বেশি ট্রাফিক বেশি এবং কোনটি খালি।

উদাহরণ, Google Maps আপনাকে বলে যে কোন রাস্তায় কম ট্রাফিক আছে। AI এই ক্ষেত্রেও কাজ করে। আপনি যদি একটি ঠিকানা খুঁজতে চান, তাহলে এটি আপনাকে ধাপে ধাপে নির্দেশনা দেয়। যেমন: “ডান দিকে মোড় নিতে হবে,” “সরাসরি যেতে হবে, ইত্যাদি।”

আপনি যদি জানতে চান যে আপনার কাছে কোন রেস্তোরাঁ, হাসপাতাল বা এটিএম আছে কি না, তাহলে এই অ্যাপগুলি সহজেই সেগুলি খুঁজে দেয়। উদাহরণ: Google Maps, Waze, Apple Maps.

ফেসিয়াল রিকগনিশন টেকনোলজি হল একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক প্রযুক্তি যা মানুষের মুখ চিনতে পারে এবং এর মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করে। এটি নিরাপত্তা বাড়াতে, ডিভাইসটি আনলক করতে এবং ছবির ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।

ডিভাইস আনলকিং (iPhone Face ID): আইফোনের ফেস আইডি আপনার মুখ চিনে নিয়ে আপনার ফোন খোলে দেয়। পাসওয়ার্ড টাইপ করার দরকার হয় না।

বিমানবন্দরে এই টেকনোলজি ব্যবহার করে, সঠিক ব্যক্তি ভ্রমণ করছেন তা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করে যাত্রীদের মুখ চিহ্নিত করা হয়।

চ্যাটবট এবং কাস্টমার সাপোর্ট

চ্যাটবট হল এক ধরনের ন্যারো AI যা মানুষের মতো কথা বলে এবং গ্রাহকদের প্রশ্নের দ্রুত উত্তর দেয় এবং গ্রাহক সহায়তা পরিষেবাগুলিকে সহজ এবং দ্রুত করে।

আপনি যখন একটি ব্যাঙ্ক বা ই-কমার্স সাইটে কিছু জানতে চান (যেমন ব্যালেন্স বা অর্ডারের স্থিতি পরীক্ষা করা), চ্যাটবট সাথে সাথে উত্তর দেয়। চ্যাটবট আপনাকে ফান্ড ট্রান্সফার, রিফান্ডের স্ট্যাটাস জানতে বা কোন পরিষেবা চালু/বন্ধ করতে সহায়তা করে।

এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ে মানুষের মতো কাজ করা বন্ধ করে না। দিন এবং রাতে ২৪ ঘন্টা পরিষেবা প্রদান করে। গ্রাহকদের সাধারণ সমস্যাগুলি দ্রুত সমাধান করে বা একটি বড় সমস্যায় একজন কর্মীর সাথে সংযোগ স্থাপন করে।

ন্যারো এআই এর সুবিধা কি কি?

বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে ন্যারো AI ব্যবহার করা হয়। আর আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এটি ব্যবহার করি। এই ন্যারো AI এর কিছু সুবিধা হল,

১। দক্ষতা (Effeciency):

একটি ন্যারো AI একটি নির্দিষ্ট কাজ কে খুব দ্রুত এবং সঠিকভাবে করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ন্যারো AI ব্যাঙ্কগুলিতে চেক প্রক্রিয়াকরণে খুব কার্যকর।

২। প্রাপ্যতা (Avability):

ন্যারো AI যেহেতু এটি একটি মেশিন, এটি 24/7 কাজ করার জন্য তৈরি করা যেতে পারে। মানুষের মতো বিরতির প্রয়োজন নেই এবং ক্রমাগত পরিষেবা সঠিকভাবে প্রদান করতে পারে। এমনকি এটি যে কোনও কাজের জন্য একটি নতুন উপায়ে প্রশিক্ষিত হতে পারে।

৩। অটোমেশন ওয়ার্ক (Automation) :

যেকোন কাজ অটোমেটিক ভাবে ন্যারো AI দিয়ে করা হয়, তাই কাজের ভুল অনেক কম, যেহেতু এর প্রশিক্ষণ খুব সঠিকভাবে দেওয়া হয়।

৪। নিরাপত্তা বৃদ্ধি (Improved Safety):

বৃহৎ কারখানা বা শিল্পে, ন্যারো AI বিপজ্জনক এবং একঘেয়ে কাজ করানো হয়, যার ফলে নিরাপত্তা অনেক বেড়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, ড্রোনগুলি যন্ত্রাংশ তৈরি করতে বা রোবট ব্যবহার করে আগুন নেভাতে ব্যবহার করা হয়।

সবশেষে বলা যায় , ন্যারো AI এর সাহায্যে, কাজকে অনেক সহজ, নিরাপদ এবং দ্রুত করা যেতে পারে, তবে এটি শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট কাজে দক্ষ।

ন্যারো এআই কি মানুষের চিন্তা শক্তি বা সৃজনশীলতা কমাতে পারে?

ন্যারো AI কিছু পরিমাণে মানুষের চিন্তা শক্তি বা সৃজনশীলতাকে প্রভাবিত করছে কিন্তু তাদের সম্পূর্ণরূপে কমাতে পারে না। কারণ মানুষের মতো অনুভূতি, সংবেদন বলে কিছু নেই, কারণ এটি একটি মেশিন। তবে এর ভালো দিক আছে এবং কিছু খারাপ দিক রয়েছে।

আমি যদি ভাল দিক বলি,

নতুন ধারণা দেওয়া: ন্যারো এআই গান, beats, tune এর ক্ষেত্রে অনেক সাহায্য করে। এই AI অনেক সঙ্গীতের তথ্য বিশ্লেষণ করে এবং নতুন সঙ্গীত তৈরি করার ধারণা দেয়।

যেহেতু ন্যারো AI প্রচুর ডেটা বিশ্লেষণ করতে পারে, সেই ডেটা বোঝে কিছু ধারণা দেয় যা মানুষকে নতুন ধারণা সম্পর্কে চিন্তা করতে সহায়তা করে।

আমি যদি এর নেতিবাচক দিক বলি,

যদি আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে খুব বেশি ব্যবহার করা শুরু করি তবে আমরা ধীরে ধীরে এর উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়ব। আমরা ছোট ছোট কাজের জন্য AI ব্যবহার করা চালিয়ে যাব যা আমাদের মস্তিষ্কের বিকাশকে ধীর করে দিতে পারে।

অধিকন্তু, অত্যধিক ন্যারো AI ব্যবহার করা আমাদের নিজস্ব চিন্তা শক্তি, বোধগম্যতা হ্রাস করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন লেখক বা কবি সর্বদা এআই-এর সাহায্যে লেখেন, তবে লেখালেখি, চিন্তাশক্তি, আবেগ ইত্যাদির হ্রাস হতে পারে যা একজন লেখকের মধ্যে থাকা আবশ্যক।

শেষ কথা :

প্রিয় পাঠক, ন্যারো এআই আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এটি একটি নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য যেমন একটি প্রশ্নের উত্তর জানা, ভাষা অনুবাদ, ছবি চিনতে, সুপারিশ ব্যবস্থা ইত্যাদি যা আমি এই নিবন্ধে বলেছি।

যাইহোক, ন্যারো AI পূর্ব-নির্ধারিত কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এবং একজন সাধারণ ব্যক্তি হিসাবে বুদ্ধিমত্তা হিসাবে কাজ করতে পারে না, তবে ভবিষ্যতে, এর উন্নতির মাধ্যমে, মানুষের কাজ আরও সহজ এবং কার্যকর করা সম্ভব হবে। এই পোস্ট সম্পর্কিত কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকলে কমেন্ট বক্সে জানাবেন।

Share Is Caring.. ❤️

           

আসসালামু আলাইকুম। আমি পেশায় একজন চাকুরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। আমি ব্লগ পড়তে এবং আর্টিকেল লিখতে পছন্দ করি। অবসর সময়ে ব্লগে বিভিন্ন বিষয়ে লিখে শেয়ার করে থাকি।

Leave a Comment