নতুন ব্লগারদের সাংঘাতিক কয়েকটি ভুল – Blogging Mistakes

Rate this post

নতুন ব্লগারদের মধ্যে সাধারণ কিছু ভুল

আপনি যদি একজন নতুন ব্লগার হন এবং প্রচুর চেষ্টা করেও আপনার ব্লগে কোনও ফ্রি ট্রাফিক বা দর্শক না আনতে পারেন, তখন বিষয়টি অবশ্যই চিন্তায় ফেলে দিতে পারে। গুগল সার্চে আপনার ব্লগের দর্শক সংখ্যা বৃদ্ধি করতে অক্ষম হলে, সম্ভবত আপনি কিছু সাধারণ ভুল করছেন। এসব ভুল আপনার ব্লগে ট্রাফিক আসতে বাধা দিচ্ছে।

ব্লগিংয়ে সাধারণত এমন ভুলের কারণে নতুন ব্লগাররা হতাশ হয়ে সুযোগ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে, যদি আপনি শুরুতেই কিছু মৌলিক ভুল থেকে শেখেন এবং সেগুলোর প্রতি সজাগ থাকেন, তাহলে আপনার ব্লগে সার্চ ইঞ্জিন থেকে ট্রাফিক ও দর্শক পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল।

নতুন ব্লগারদের সাংঘাতিক কয়েকটি ভুল - Blogging Mistakes
নতুন ব্লগারদের সাংঘাতিক কয়েকটি ভুল – Blogging Mistakes

একজন সফল ব্লগার হওয়ার জন্য, কেবল লেখা নয়, বরং আপনার দ্বারা অজান্তে হওয়া ভুল সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। এ লেখায় আমি আপনাদের ৯টি এমন ভুলের কথা বলবো যা নতুন ব্লগাররা প্রায়শই করে। হতে পারে, আপনি নিজেও এসব ভুল করছেন।বিশ্বাস করুন, যদি আপনি ব্লগিং-এর এ ৯টি ভুল না শুধরান, তাহলে সফল ব্লগার হয়ে ওঠার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। 

নতুন ব্লগারদের মধ্যে ৯টি ভুল

একজন সফল ব্লগার হওয়ার মানে হলো, এমন একজন ব্যক্তি যে ব্লগিংয়ের মাধ্যমে অনলাইনে বিপুল পরিমাণ অর্থ অর্জন করছেন এবং যার ব্লগে লক্ষ লক্ষ দর্শক রয়েছে। তবে, যদি আপনি নিচে উল্লিখিত ভুলগুলি করেন, তাহলে আপনার ব্লগে সার্চ ইঞ্জিন থেকে ট্রাফিক বা দর্শক পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কমে যাবে। আর এর ফলশ্রুতিতে, সফল ব্লগার হয়ে ওঠার স্বপ্ন শুধুই একটি স্বপ্ন হিসেবে রয়ে যাবে।

তাহলে নিচে আলোচনা করা বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং বুঝুন।

১। নিম্নমানের হোস্টিং ব্যবহার করা

প্রায় ৯০% ব্লগারই একটি নিম্নমানের বা সস্তা হোস্টিংয়ের ওপর নির্ভরশীল। একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইটের সফলতার জন্য হোস্টিংয়ের মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সস্তা এবং অযোগ্য ওয়েব হোস্টিং ব্যবহারের ফলে আপনার ব্লগের গতিশীলতা বাধাগ্রস্ত হবে।

একজন ব্লগার যখন নিচমানের হোস্টিং ব্যবহার করেন, তখন ব্লগের লোডিং স্পিড কমে যায় এবং সার্ভার প্রায়ই ডাউন থাকে। এর ফলে, গুগল সার্চ আপনার ব্লগকে নিম্নমানের হিসেবে চিহ্নিত করে, যা আপনার ব্লগে ট্রাফিক এবং দর্শক আসার সম্ভাবনা ৭৫% পর্যন্ত কমিয়ে দেয়।

এজন্য, ব্লগ তৈরির সময় কখনোই সস্তা ও নিম্নমানের ওয়েব হোস্টিং নির্বাচন করবেন না। সবসময় ভালো মানের, প্রখ্যাত এবং ব্র্যান্ডেড থেকে হোস্টিং কিনতে চেষ্টা করুন।

২। ফ্রি ডোমেইন নেইম ব্যবহার করবেন না

যদি আপনি একজন পেশাদার ব্লগার হয়ে ব্লগের মাধ্যমে অনলাইনে আয় করতে চান, তাহলে বিনামূল্যে ডোমেইন ব্যবহার করা আপনার জন্য সহায়ক হবে না। আমি অনেক ব্লগারকে দেখেছি যারা Blogger.com-এ ব্লগ তৈরি করেছেন এবং ফ্রি blogspot ডোমেইন URL ব্যবহার করছেন।

এটি মনে রাখুন, একটি প্রিমিয়াম ডোমেইন (.com, .in, .info, .org) খুবই কম খরচে পাওয়া যায়। বর্তমানে, মাত্র ৮০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যেই আপনি একটি প্রিমিয়াম ডোমেইন নেম ক্রয় করতে পারবেন।

তাহলে, সামান্য অর্থ সাশ্রয়ের জন্য ফ্রি ডোমেইন ব্যবহার করা আপনার ব্লগের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং এর ফলে আপনার ব্লগে সার্চ ইঞ্জিন থেকে খুব কম ট্রাফিক বা দর্শক আসতে পারে। ফলে, এটি সম্ভবত ব্লগিং যাত্রায় আপনার ব্যর্থতার একটি বড় কারণ হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে।

৩। কীওয়ার্ড রিসার্চ ও অপটিমাইজেশন না করা

কিওয়ার্ড রিসার্চ এবং কীওয়ার্ড অপটিমাইজেশন করা ছাড়া ব্লগে আর্টিকেল লেখা হচ্ছে ব্লগারদের একটি প্রধান ভুল। এবং, সফলতার অভাবে ৯৫% ব্লগারের জন্য এটি একটি মৌলিক কারণ।

মূলত, “কীওয়ার্ড রিসার্চ” সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) এর একটি অংশ। এই প্রক্রিয়ায়, যেকোনো বিষয় নিয়ে আর্টিকেল লিখার আগে সেই বিষয় বা টপিকের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু কীওয়ার্ড নির্বাচন করতে হয়। পরে, এসব নির্বাচিত কীওয়ার্ডকে লক্ষ্য করে আমরা আর্টিকেল লিখি।

তবে, পাশাপাশি কোন কীওয়ার্ড লাভজনক এবং গুগল সার্চ ইঞ্জিনে কোন কীওয়ার্ড বেশি সন্ধান হচ্ছে সেটা আগে থেকে খুঁজে বের করা আবশ্যক। এছাড়া, নির্বাচিত কীওয়ার্ডগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা কেমন তা জানা যায় কীওয়ার্ড রিসার্চের মাধ্যমে।

কীওয়ার্ড রিসার্সের সাহায্যে, আমরা কেমন কীওয়ার্ড লাভজনক এবং কোনগুলি টার্গেট করা উচিত তা নির্ধারণ করতে পারি। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি “কিভাবে ব্লগ তৈরি করবো” বিষয়ে নিবন্ধ লেখার ভাবনা করেন, তবে কীওয়ার্ড গবেষণা করে ওই কীওয়ার্ডটি “মাসে কতবার গুগলে সার্চ হচ্ছে” এবং “প্রতিযোগিতা বেশি না কম” সম্পর্কে সব তথ্য জানতে পারবেন।

এভাবে, কীওয়ার্ড গবেষণার মাধ্যমে আপনি সহজে লাভজনক কীওয়ার্ড চিহ্নিত করে আর্টিকেল লেখায় গুগল সার্চ থেকে অধিক ট্রাফিক ও দর্শক আকর্ষণ করতে সক্ষম হবেন।

কীওয়ার্ড গবেষণার জন্য আপনি কিছু অনলাইন টুল ব্যবহার করতে পারেন। যেমন:

  • Ubersuggest (ফ্রি কীওয়ার্ড রিসার্চ টুল)
  • Google Keyword Planner (ফ্রি রিসার্চ টুল)
  • Ahrefs (সবচেয়ে জনপ্রিয় টুল) (পেইড)
  • Semrush (সেরা কীওয়ার্ড গবেষণা টুল) (পেইড)
  • Kwfinder (আমার পছন্দের টুল) (পেইড)

সুতরাং, যদি আপনি কীওয়ার্ড গবেষণা না করেই আর্টিকেল লেখেন, তবে ৮০% সম্ভাবনা রয়েছে যে আপনি ভুল কীওয়ার্ড টার্গেট করছেন। এবং, ফলে আপনার নিবন্ধের গুণগত মান ভালো হলেও, ব্লগে সার্চ ইঞ্জিন থেকে ট্রাফিক বা দর্শক আসবে না।

কীওয়ার্ড অপটিমাইজেশন

আমি পূর্বে কীওয়ার্ড রিসার্চের বিষয়টি আলোচনা করেছি। এখন, এই রিসার্চের মাধ্যমে আমরা আমাদের ব্লগের নিবন্ধের জন্য লাভজনক কীওয়ার্ড চিহ্নিত করতে পারি। কিন্তু এর পর আমাদের কীওয়ার্ড অপটিমাইজেশন করতে হবে।

কীওয়ার্ড অপটিমাইজেশনের মাধ্যমে আমাদের শনাক্ত করা কীওয়ার্ডগুলো ব্লগের নিবন্ধের কিছু নির্দিষ্ট স্থানে ব্যবহার করতে হবে। যেমন, নিবন্ধের টাইটেল, ডেস্ক্রিপশন, URL এড্রেস, ছবির ALT ট্যাগ, এবং আর্টিকেলের প্রথম প্যারাগ্রাফে, এমনকি নিবন্ধের অন্যান্য অংশেও।

এতে করে সার্চ ইঞ্জিন সহজেই বুঝতে পারে যে আপনার নিবন্ধ নির্দিষ্ট কীওয়ার্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ কারণে, লক্ষ্যভেদের মাধ্যমে কীওয়ার্ড ব্যবহার করে আপনি আপনার ব্লগের লেখা থেকে বেশি পরিমাণে সার্চ ইঞ্জিন ট্রাফিক এবং দর্শক আকর্ষণের সম্ভাবনা পান।

যদি আপনি সঠিকভাবে কীওয়ার্ড অপটিমাইজেশন না করেন, তাহলে খুব ভালো লেখা থাকা সত্ত্বেও আপনার আর্টিকেল গুগল সার্চ ফলাফলের শীর্ষ ১০ এ স্থান পাবে না। অধিকাংশ ৯০% বাংলা ব্লগার এ সমস্যায় পড়েন।

সুতরাং, প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই যুগে ব্লগিংয়েতি সফল হতে হলে এবং আপনার ব্লগে বেশি ট্রাফিক কিংবা দর্শক পাওয়া প্রয়োজন, তাহলে “কীওয়ার্ড রিসার্চ” এবং পরে “কীওয়ার্ড অপটিমাইজেশন” করতে হবে।

যদি আপনি ওয়ার্ডপ্রেস প্ল্যাটফর্মে ব্লগ তৈরি করে থাকেন, তাহলে Yoast অথবা Rank math এর বিনামূল্যের এসইও প্লাগইন ব্যবহার করে সহজেই আপনার লেখা কীওয়ার্ড অপটিমাইজ করতে পারবেন।

৪। ফ্রি নিম্নমানের থিম ব্যবহার করা

আপনি ওয়র্ডপ্রেস বা ব্লগার যেটি ব্যবহার করেন না কেন, কখনোই ফ্রি নিম্নমানের থিম নেবেন না। পূর্বে আমি উল্লেখ করেছি, গুগল থেকে দর্শক এবং ট্রাফিক আকর্ষণ করতে হলে ব্লগটি পরিষ্কার এবং দ্রুত হওয়া প্রয়োজন।

অতএব, যদি আপনি একটি নিম্নমানের ফ্রি থিম ব্যবহার করেন, তাহলে সেই থিমের কোড যথাযথভাবে লেখা নাও হতে পারে এবং থিমটি আপডেট হওয়ার সম্ভাবনা কম।

অতিরিক্তভাবে, সাধারণত ফ্রি থিমগুলো স্বাধীন ডেভেলপারদের দ্বারা তৈরি হয়, যার কারণে তাদের গুণগত মান কম হয়। ফলে আপনার ব্লগের গতি ধীর হয় এবং গুণবাদে সমস্যা দেখা দেয়।

তাহলে, নতুন ব্লগার হিসেবে এই ভুলগুলো আপনাকে এড়াতে হবে। একটু খরচ করলেও একটি ভালো এবং প্রিমিয়াম ব্লগ থিম কিনে আপনার ব্লগে ব্যবহার করুন। Themeforest থেকে সস্তায় এবং মানসম্মত ওয়ার্ডপ্রেস এবং ব্লগার প্রিমিয়াম থিম কিনতে পারবেন।

আপনার ব্লগে একটি প্রিমিয়াম ওয়ার্ডপ্রেস থিম থাকলে ব্লগের লোডিং স্পিড দ্রুত হবে, ব্লগ ধীর হবে না এবং নিয়মিত থিম আপডেটের ফলে ব্লগ সুরক্ষিত ও উচ্চমানের থাকবে।

অন্যদিকে, প্রিমিয়াম থিমগুলোতে আপনি অনেক ধরনের উন্নত ফিচার বা কার্যকরী ব্যবস্থা পাবেন, যা ফ্রি থিমে মেলে না। অথবা, যদি আপনি ভাবছেন নতুনভাবে যখন কাজ শুরু করবেন, তখন প্রিমিয়াম থিম না কিনে ফ্রি থিম ব্যবহার করবেন, তাহলে নিচে দেওয়া ফ্রি ওয়ার্ডপ্রেস থিমগুলো চেষ্টা করতে পারেন।

  • Astra (সবচেয়ে দ্রুত এবং পরিষ্কার ফ্রি ওয়ার্ডপ্রেস থিম)
  • OceanWP (আমার সবচেয়ে প্রিয় ফ্রি ওয়ার্ডপ্রেস থিম)

৫। স্থিতিশীলতার অভাব

আমি বহু ব্লগ বা ব্লগারের উদাহরণ দেখেছি, যারা নিজেদের ব্লগে মাঝে মাঝে lengthy সময় নিয়ে একটি আর্টিকেল প্রকাশ করেন। অনেক ক্ষেত্রেই মাসে মাত্র ১ বা ২টি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়। দীর্ঘ সময় নিয়ে ব্লগ আপডেট করা একটি মারাত্মক ভুল। 

যদি ব্লগিংয়ে সফল হতে চান এবং গুগল সার্চ থেকে অধিক ট্রাফিক ও দর্শক পেতে চাইলে, আপনাকে নিয়মিতভাবে আর্টিকেল প্রকাশ করতে হবে।

স্থিতিশীলতার অভাব থাকলে সফল হতে অনেক বেশি কষ্টকর হয়ে পড়ে। তাহলে, আপনার ব্লগকে নিয়মিত আপডেট করুন এবং প্রতি সপ্তাহে অন্তত ২টি আর্টিকেল প্রকাশ করুন। 

নিয়মিতভাবে মানসম্মত আর্টিকেল প্রকাশ করলে গুগল সার্চে আপনার ব্লগের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এর ফলে সার্চ ইঞ্জিন থেকে ট্রাফিক পাওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।

৬. নিম্ন মানের আর্টিকেল লেখা উচিত নয়

বাংলা ব্লগ ও ব্লগারদের মধ্যে আমি লক্ষ করেছি যে, অনেকেই ব্লগে আর্টিকেল লেখার ক্ষেত্রে কিছু মৌলিক নিয়ম অনুসরণ করেন না। এই অসতর্কতার ফলে তাদের প্রকাশিত বিষয়বস্তুগুলো হয়ে যায় নিম্ন মানের আর্টিকেল।

নিম্ন মানের আর্টিকেল পড়া কেউ উপভোগ করে না এবং সার্চ ইঞ্জিন থেকেও এ ধরনের নিবন্ধে ট্রাফিক পাওয়া খুবই কঠিন। তাই ব্লগে আর্টিকেল লেখার সময় যদি কিছু মৌলিক নিয়ম অনুসরণ করা হয়, তবে আপনার নিবন্ধের গুণগত মান উন্নত হতে পারে।

উন্নত মানের আর্টিকেল লেখার নিয়ম – 

  • খুবই সংক্ষিপ্ত আর্টিকেল লেখা উচিত নয়। অন্তত ১০০০ শব্দের মধ্যে নিবন্ধ তৈরি করুন।
  • আর্টিকেল লেখার সময় সংক্ষিপ্ত প্যারাগ্রাফ ব্যবহার করুন। এতে দর্শক বা পাঠকের জন্য বিষয়বস্তু পড়া সহজ হবে এবং দেখতেও কল্যাণকর ও সুস্পষ্ট লাগবে।
  • নিবন্ধের মধ্যে মাঝে মাঝে H ট্যাগ (h2, h3, h4) ব্যবহার করা উচিত।
  • যে বিষয় নিয়ে আপনি লিখছেন, সেখানে যথাযথ জ্ঞান অর্জন করে বিস্তারিত তথ্য দিন।
  • আপনার ব্লগে অন্তত একটি ছবি ব্যবহার করা বাঞ্চনীয়। ছবিটি আপলোড করার আগে অবশ্যই সঠিকভাবে রিসাইজ এবং কমপ্রেস করুন।

তাহলে, বন্ধুরা, ব্লগে নিবন্ধ লেখার আগে এই মৌলিক নিয়মগুলো অনুসরণ করলে আপনার নিবন্ধের গুণগত মান অনেক উন্নত হবে।

এর ফলে, ভিজিটররা নিবন্ধটি পড়ে সন্তুষ্ট হবে এবং গুগলও আপনার নিবন্ধকে সহজে র‍্যাংক করবে। আর্টিকেলের গুণগত মান হচ্ছে আপনার ব্লগের পরিচায়ক। ব্লগিংয়ে সফলতার জন্য এটি সচেতনভাবে লক্ষ্য করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

৭। ইন্টারলিন্কিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে না

বাংলা ব্লগগুলোর মধ্যে প্রায় ৮০% ব্লগাররা আর্টিকেল লেখার সময় ইন্টারলিন্কিং পদ্ধতি ব্যবহার করেন না। এটি অন-পেইজ এসইওর (On page SEO) একটি কার্যকরী উপায় এবং ভালো সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের জন্য এটি খুবই প্রয়োজন।

internal linking ব্লগারদের ভুল
internal linking 

আপনারা উপরের ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন, আমি আমার নিবন্ধ লেখার এক অংশে একটি লিংকের (link) ব্যবহার করেছি। এই লিংকটি ইন্টারলিন্ক।

এটি আমার ব্লগে লিখা অন্য একটি নিবন্ধের লিংক। যখন কেউ ওই লিংকে ক্লিক করে, তারা সেই অন্য নিবন্ধে চলে যাবে। এইভাবে, আপনি যখন ব্লগে নিবন্ধ লেখেন, তখন সেই বিষয়বস্তুর সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য নিবন্ধগুলোর লিংক যুক্ত করতে হবে। 

এটিই ইন্টারলিন্কিং বলা হয়। সঠিক এসইও ব্যবহারের জন্য এই পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবং, যদি আপনি ব্লগ নিবন্ধে ইন্টারলিন্কিং করছেন না, তাহলে এটি একটি বড় ভুল। 

৮। ব্লগ ও ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিড

আপনাদের মধ্যে কতজন নিজেদের ব্লগের লোডিং গতির উপরে মনোযোগ দিয়েছেন? আপনার ব্লগ কত দ্রুত লোড হয়, তা কি জানেন? আমি বলতে পারি, আমার ব্লগ মাত্র ২.৫ সেকেন্ডের মধ্যে যেকোনো ওয়েব ব্রাউজারে সম্পূর্ণরূপে লোড হয়ে যায়। 

কিন্তু, আপনি যদি এই বিষয়ে মনোযোগ না দিয়ে থাকেন, তাহলে আপনার ব্লগের কতটা ক্ষতি হচ্ছে তা কি জানেন? একটি স্লো লোডিং স্পিডের ব্লগ, যদি ৬ সেকেন্ডের বেশি সময় নেয় লোড হতে, তাহলে ৯০% ভিজিটর বা ট্রাফিক ব্লগ খুলতে না দিয়েই চলে যায়।

একটি ধীর লোডিং ব্লগ কারোরই ভালো লাগেনা, সেটা আপনি হোন বা আমি। আমরা কখনোই ওয়েবসাইট খোলার জন্য ৫ কিংবা ৬ সেকেন্ডের বেশি অপেক্ষা করবো না। তাই, ব্লগার হিসেবে আপনার নিজের ব্লগ অথবা ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিড সম্পর্কে যত্ন নেয়ার গুরুত্ব অগ্রাহ্য করা ভুলগুলোর মধ্যে অন্যতম।

আরো গুরুত্বপূর্ণ হলো, গুগল সার্চ ইঞ্জিন ধীর লোডিং স্পিড সম্পন্ন ব্লগগুলোকে পছন্দ করে না। এই কারণে আপনার ব্লগটিতে গুগল সার্চ থেকে ট্রাফিক বা দর্শক আসার সম্ভাবনা ৭৫% কমে যেতে পারে।

অতএব, যদি আপনার ব্লগে দর্শক না আসে অথবা সার্চ ইঞ্জিন থেকে খুব কম ভিজিটর পাওয়া যায়, তবে এর পেছনে “ব্লগের ধীর লোডিং স্পিড” দায়ী হতে পারে। সুতরাং, সবসময় ভালো ও উন্নত ওয়েব হোস্টিং পরিষেবা ব্যবহার করুন এবং দ্রুত থিম বাছাই করুন। এছাড়া, ব্লগে ছবি আপলোড করার আগে সেগুলো কম্প্রেস ও ছোট করে নিন। এতে আপনার ব্লগটি সব সময় দ্রুত লোড হবে।

৯। Duplicate page গুলি block বা noindex না করা

ডুপ্লিকেট পেজগুলো ব্লক বা নোইন্ডেক্স না করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। গুগল তার অ্যালগরিদম ব্যবহার করে আমাদের ব্লগে প্রবেশ করে এবং সেখানে থাকা বিভিন্ন লিঙ্কগুলোতে গিয়ে সেগুলো সার্চ রেজাল্টে সংরক্ষণ করে।

এই প্রক্রিয়ায়, গুগল আমাদের ব্লগের কিছু ডুপ্লিকেট পেজ, ট্যাগ ও আর্টিকেল পোস্টকে রেকর্ড করে নেয়। উদাহরণস্বরূপ, আমাদের ব্লগের একটি আর্টিকেলের URL হতে পারে “www.itshohorbd.com/article” এবং আমরা চাইব গুগল এই URL তার কাছে সংরক্ষণ করুক।

কিন্তু কখনও কখনও, ব্লগের একটি আর্টিকেলের জন্য একাধিক URL তৈরি হয়ে যায়, যাকে আমরা ডুপ্লিকেট পেজ বলি। যেমন, “www.itshohorbd.com/category/article” বা “www.itshohorbd.com/tag/article”—এসব হলো ডুপ্লিকেট পেজ, যা আপনার মূল আর্টিকেল পেজ “www.itshohorbd.com/original-article-url-address” এর সাথে সম্পর্কিত। এই ধরনের ডুপ্লিকেট পেজগুলো মূল URL এ থাকা আসল কনটেন্ট বা আর্টিকেল প্রদর্শন করে।

এক্ষেত্রে গুগল বিভ্রান্তিতে পড়ে যায় এবং বুঝতে পারে না কোনটি আসল URL। এর ফলে, একেকটি কনটেন্টে ভিন্ন ভিন্ন URL থাকার কারণে, গুগল কোনোটিকেই তাদের সার্চ রেজাল্টে দেখায় না, কারণ তাদের কাছে সেগুলো নকল কনটেন্ট হিসেবে চিহ্নিত হয়।

এমন পরিস্থিতিতে আমরা ভাবতে থাকি কেন ব্লগে ট্রাফিক আসছেনা বা গুগল কেন ভিজিটরের পাঠাচ্ছে না, কিন্তু আসলে আমরা একটি বড় ভুল করে ফেলছি। সুতরাং, একজন ব্লগার হিসেবে এই ভুলগুলো করবেন না। ব্লগ তৈরির পর, ব্লগের সকল ধরনের ক্যাটাগরি ও ট্যাগ পেজগুলোকে নোফলো বা ব্লক করতে হবে। এই কাজটি “robots.txt” ফাইল ব্যবহার করে করা সম্ভব।

এতে গুগল সার্চ অ্যালগরিদম সেই পেজগুলোকে তার সার্চে নথি করবে না এবং ডুপ্লিকেট আর্টিকেল পেজ অথবা ডুপ্লিকেট URL এড়াতে পারবেন। শেষ কথা, নতুন ব্লগার হিসেবে অনেকেই উপর্যুক্ত ভুলগুলো করে থাকেন, এবং এই সমস্যাগুলোই তাদের ব্লগে গুগল সার্চ থেকে ট্রাফিক আসে না।

শেষ কথা

যদি আপনি একজন ব্লগার হন এবং আপনার ব্লগে ট্রাফিক বা দর্শক আসছে না, তাহলে একটু মন দিয়ে ভাবুন, “আপনিও কি এই ভুলগুলো করছেন?”।

আমি আমার ৬ বছরের ব্লগিং অভিজ্ঞতায় এসব ভুলের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি এবং ভুল করে শিখেছি। তাই আমি চাই না যে আপনিও আমার মতো সময় নষ্ট করুন ব্লগিং সম্পর্কিত এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জানার জন্য। অতএব, সব কিছু আমি আপনাদের জানিয়ে দিয়েছি।

Share Is Caring.. ❤️

           

আসসালামু আলাইকুম। আমি পেশায় একজন চাকুরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। আমি ব্লগ পড়তে এবং আর্টিকেল লিখতে পছন্দ করি। অবসর সময়ে ব্লগে বিভিন্ন বিষয়ে লিখে শেয়ার করে থাকি।

Leave a Comment