আসসালামু ওয়ালাইকুম। অনেকেরই আশা আছে ফ্রিল্যান্সিং করার। কিন্তু সঠিক গাইডলাইন নেই বিধায় এই ফিল্ডে কাজ করতে পারছে না। তাই আজ আমি এই আর্টিকেলে ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইনটি আলোচনা করব।
এই আর্টিকেলে আজ আমরা জানব ডিজিটাল মার্কেটিং কি? কেন আপনার Digital Marketing করা উচিৎ? কিভাবে আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং শিখবেন? ইত্যাদি বিষয়।
আজ আমি আপনাকে এবিষয়ে সম্পূর্ণ গাইডলাইন দেওয়ার চেষ্টা করব। এজন্য আপনাকে ধৈর্য ধরে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনযোগ দিয়ে পড়তে হবে। এই আর্টিকেলে আপনি আরো জানবেন কিভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং করলে আপনার ব্যবসায়ে সফলতা বয়ে আনা সম্ভব।
এছাড়াও ডিজিটাল মার্কেটিং এর সুবিধা কি? এমন সকল প্রশ্নের উত্তর এই আর্টিকেলে আপনি পেয়ে যাবেন। তার জন্য আমি আবারও বলছি আপনাকে শুধুমাত্র এই আর্টিকেলটি মনযোগ সহকারে পড়তে হবে। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।
ডিজিটাল মার্কেটিং কি?
সোজা কথায় ডিজিটাল মার্কেটিং হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করে পণ্য বা সেবা (Product বা Service) সমূহ গ্রাহক বা ভোক্তার পর্যায়ে পৌঁছানো।
বেশ কিছু দিন আগেও কোন কোম্পানি তাদের কোন প্রোডাক্ট বিক্রি করার জন্য বিভিন্ন মার্কেটার নিয়োগ দিতেন। সেসকল মার্কেটাররা গ্রাহক পর্যায়ে গিয়ে তাদের পণ্যের গুনাগুনগুলো গ্রাহকদের নিকট তুলে ধরতেন।
এবং গ্রাহকদের ঐসকল পণ্য কেনার জন্য আকৃষ্ট করতেন। বর্তমান সময়ে সেই একই কাজ ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে করা হয়। যেটাকে আমরা সবাই ডিজিটাল মার্কেটিং বলে থাকি।
যেমনটা আমারা বর্তমানে প্রতিদিনই দেখছি, ফেসবুকে বা ইউটিউবে কোন ভিডিও চালালে আমরা কোন ন কোন বিজ্ঞাপন দেখতে পাই। আর এই সব বিজ্ঞাপন বা প্রচার প্রচারণাকেই ডিজিটাল মার্কেটিং বলে। আপনি যদি একজন ব্যবসায়ী হোন তবে আগেকার দিনের ট্রেডিশনাল সিস্টেমের মার্কেটিং বাদ দিয়ে আপনাকে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের উপর ফোকাস দিতে হবে।
কারণ বর্তমান যুগ হচ্ছে ইন্টারনেটের যুগ। যদি আপনি এখনো ট্রেডিশনাল সিস্টেমে আপনার প্রোডাক্টের মার্কেটিং করেন, তাহলে আপনার প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গে পেরে উঠতে পারবেন না।
Also Read
ডিজিটাল মার্কেটিং কি কিভাবে করতে হয়?
বর্তমান যগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দিনদিন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। এর সঙ্গে সঙ্গে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের প্রবণতাও বেড়ে যাচ্ছে। কারণ বর্তমানে অধিকাংশ মানুষই অনলাইন মুখী হয়ে যাচ্ছে।
যদি আপনি আপনার ব্যবসার প্রসার আরও বাড়াতে চান বা ব্যবসায়ে সফল হতে চান। তবে আপনার ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের উপর ফোকাস দেয়া দরকার। কারণ এর দ্বারা আপনি আরও বেশি পরিচিতি পাবেন। যা অনায়াসে আপনার ব্যবসায়ের ক্রয় এবং বিক্রয়ের সেবা বাড়াতে সহায়তা করবে।
যার মার্কেটিং সম্পর্কে ভাল ধারণা রয়েছে, সে খুব সহজেই বুঝতে পারবে, ভবিষ্যতে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের প্রভাব ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কেটিং হচ্ছে এমন বিষয় যেখানে বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে , একটি ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা মানুষের কাছে পণ্যের ভাল রিভিউর মাধ্যমে প্রোডাক্টিভ ক্রয় বা বিক্রয়ের প্রতি উৎসাহিত করা।
আপনি মানুষের মাঝে আপনার পণ্য বা সেবার বিজ্ঞাপন বা প্রচার প্রচারণা যত বেশি করতে পারবেন। তত বেশি আপনার বিক্রয়ের পরিমাণ বেড়ে যাবে। একজন মার্কেটারের উদ্দেশ্য থাকে পণ্য বা সেবার ভাল দিকগুলো মানুষের মাঝে তুলে ধরা।
অর্থাৎ আপনি যদি একজন মার্কেটার হোন তবে আপনার প্রোডাক্টের সম্পর্কে মানুষকে ভাল ধারণা প্রদান করতে হবে। যাতে লোকজন উৎসাহিত হয়ে সেই প্রোডাক্টি ক্রয় বা বিক্রয় করতে উদ্বুদ্ধ হয়।
আগেকার দিনে কোন পণ্য বা সেবার মার্কেটিং করতে বিভিন্ন দোকানে এবং মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরে মার্কেটিং করতে হতো। এছাড়াও বিভিন্ন টেলিভিশন, রেডিও বা পত্রিকায় প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপনের সাহায্যে মার্কেটিং করা হতো। আর এসব বিজ্ঞাপনগুলোকে ট্রেডিশনাল সিস্টেমের মার্কেটিং বলা হয়।
ডিজিটাল মার্কেটিং করার কারণ -ঃ
বর্তমান যুগ আধুনিক যুগ বা ইন্টারনেটের যুগ। এখন কালের বিবর্তনে মানুষ বিভিন্ন ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া এবং সোশ্যাল শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে সময় ব্যয় করে। এজন্য বিভিন্ন মার্কেটাররা ভাবল এসকল সোশ্যাল মিডিয়া বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা আমাদের মার্কেটিং এর কাজ করতে পারি। এচিন্তাধারা থেকেই শুরু হয়ে গেল ডিজিটাল মার্কেটিং।
যদি সেসব মার্কেটিংগুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে করা যায় তবে তা সময়ের পাশাপাশি অর্থের অপচয় থেকেও বাঁচা যায়। মূলত এসব চিন্তাধারা থেকেই ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের আবির্ভাব শুরু হয়, এবং দিনদিন এর জনপ্রিয়তা শুধু বেড়েই চলছে। চাইলেই একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অনলাইনে ডিজিটাল মার্কেটিং এর সাহায্যে তার কাংখিত টার্গেট পূর্ণ করতে পারে।
ডিজিটাল মার্কেটিং কেন শিখবো এবং কিভাবে শিখবো?
যদি আপনি ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ আইডিয়া নিতে হবে। এছাড়া আপনি সফল হতে পারবেন না। যদি আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে চান, তাহলে আপনি দুটি পদ্ধতিতে শিখতে পারেন।
নিজে নিজে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখাঃ
একটি পদ্ধতি হলো নিজে নিজে শেখা। আপনি চাইলে গুগল, ইউটিউব, বা ব্লগ পড়ে ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারেন। আর এই পদ্ধতিতে Digital Marketing শিখতে আপনার কোন প্রকার পেমেন্ট করতে হবে না।
সম্পূর্ণ ফ্রি তেই আপনি সব রকম মার্কেটিং সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন। এই পদ্ধতি অবলম্বন করলে আপনার সময় একটু বেশি লাগবে। কারণ যখন এই কাজগুলো একা একা করতে যাবেন,তখন অবশ্যই আপনাকে তা পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে দেখতে হবে। আর দেখার পাশাপাশি প্রতিদিন প্র্যাকটিস করতে হবে।
নিয়মিত Digital Marketing সম্পর্কে ব্লগ পড়তে বা ভিডিও দেখতে পারেন। দেখার পাশাপাশি প্র্যাকটিস করার পর আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে ভালো ধারণা পাবেন।
পেইড কোর্স করে শেখাঃ
যদি আপনি ফ্রিতে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে না চান। অর্থাৎ নির্দিষ্ট আইটি সেক্টরে কোন অনলাইন বা অফলাইনে কোর্স করতে চান তবে এটাও করিতে পারেন। তবে এরজন্য অবশ্যই আপনাকে পেনেন্ট করতে হবে। আর এপদ্ধতিতে আপনি আপনার মেন্টরের কাছ থেকে, বিভিন্ন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে যেকোনো সমস্যার সমাধান খুব সহজে নিতে পারবেন।
যদি আপনি অনলাইন অথবা অফলাইন কোর্স করে শিখতে চান, তাহলে একা একা শেখার চাইতে কম সময়ে আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে পারবেন। এজন্য আপনাকে আপনার মেন্টরকে অথবা আইটি কোম্পানিকে পেমেন্ট করতে হবে।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর সুবিধা কি?
অন্য যেকোন মার্কেটিং থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং করতে খরচ এবং সময় কম ব্যয় হয় এজন্য Digital Marketing প্রতিনিয়ত বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। বিশেষ করে যারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রয়েছে তাদের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং খুব উপযোগী। কারণ তারা অনেক টাকা খরচ করে টেলিভিশনে বা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে পারে না।
পত্রিকায় ছোট করে একটি বিজ্ঞাপন দিতে হলে হাজার হাজার টাকা খরচ করতে হয়। অন্যদিকে যদি টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন দিতে হয় তার জন্যও হাজার হাজার টাকা ব্যয় হয়। কেননা সেখানে বিভিন্ন মডেল দ্বারা বিজ্ঞাপন তৈরি করা হয়।
এজন্য প্রতিষ্ঠানের অনেক বেশি অর্থ খরচ হয়ে যায়, সেরকম লাভজনক হয় না। এদিকে ডিজিটাল মার্কেটিং দ্বারা মাত্র ৫ ডলার থেকে লক্ষ টাকা ব্যয় করে মার্কেটিং করা যাবে খুব অল্প সময়ে। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে আপনার পণ্য বা সেবা কোন ধরনের মানুষকে বা কোন লোকেশনে বিজ্ঞাপন দেখাতে চান, সেটাও সুন্দরভাবে সেট করা যায়।
- যেকোনো কোম্পানি খুব কম খরচে ডিজিটাল মার্কেটিং করতে পারে।
- ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে সময় ব্যয় খুব কম হয়।
- ঘরে বসে নিজে নিজে ডিজিটাল মার্কেটিং করা যায়।
- বিশ্বের যেকোন স্থানে মার্কেটিং করা যায় ঘরে বসে।
- খুব কম সময়ে পরিচিতি লাভ করা যায়, অন্য যেকোন উপায়ের থেকে। আপনার পণ্য বা সেবার দাম ক্রেতার নিকট সঠিকভাবে উপস্থাপন করা যায়।
- কোন কোন বয়সের মানুষের মধ্যে মার্কেটিং করবেন তা সেট করা যায়।
কিভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং করবেন?
মার্কেটিংয়ের জন্য যেমন বিভিন্ন জায়গা থাকে, ঠিক তেমনি ডিজিটাল মার্কেটিং করার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। আপনি কিধরনের সেবা বা পণ্য নিয়ে কাজ করেন সেটি মাথায় রেখে আপনাকে ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্ল্যাটফর্ম বাঁছাই করতে হবে। আজ আমি বর্তমানে জনপ্রিয় কিছু ডিজিটাল মার্কেটিং করার প্ল্যাটফর্ম নিয়ে আলোচনা করব। প্ল্যাটফর্মগুলো হলও -ঃ
১। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (Social Media Marketing)
২। গুগল এডওয়ার্ডস (Google Adwords)
৩। ইউটিউব মার্কেটিং (YouTube Marketing)
৪। কনটেন্ট রাইটিং (Content Writing)
৫। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO)
৬। ইমেইল মার্কেটিং (Email Marketing)
৭। এফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing)
বর্তমানে আপনি এই ০৭টি প্ল্যাটফর্মে ডিজিটাল মার্কেটিং করতে পারেন। আর এর মাধ্যমে আপনার প্রোডাক্টের বিষয়টি পরিচিত করে তুলতে পারেন। এসমস্ত প্ল্যাটফর্মে আপনি ফ্রি এবং পেইড ভাবে মানুষের মাঝে আপনার পণ্য বা সেবার ব্যাপারে জানাতে পারেন।
১। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

বর্তমানে মার্কেটিং করার জন্য সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে মার্কেটিং। আর ডিজিটাল মার্কেটিং করার জন্য সবচেয়ে বড় ইন্টারনেট মার্কেটপ্লেস হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া। আইটি তথ্যসুত্রে দেখা যায়, সারা বিশ্বের অর্ধেকের বেশি মানুষ ফেসবুকের সঙ্গে যুক্ত। আর বাংলাদেশেরও অধিকাংশ মানুষ ফেসবুকের সঙ্গে পরিচিত। আর প্রতিনিয়তই এর সংখ্যা বেড়ে চলছে।
এজন্য আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং করতে সোশ্যাল মিডিয়াকে বেঁছে নিতে পারেন। আপনি যদি বাংলাদেশি কিংবা ভারতীয় নাগরিক হয়ে থাকেন, তবে ফেসবুক মার্কেটিং হতে পারে আপনার জন্য বেস্ট আইডিয়া। কারণ ভারতে এবং বাংলাদেশে বহু মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করে।
ফেসবুক ব্যতীত আরও কিছু সোশ্যাল মিডিয়া রয়েছে। যেগুলোর সঙ্গে আমরা অনেকেই পরিচিত আবার অনেকেই পরিচিত না। যেমন- Instagram, Twitter, Facebook, WhatsApp, Linkedin ইত্যাদি। আপনি সোশ্যাল মিডিয়াতে দুটি পদ্ধতিতে মার্কেটিং করতে পারেন -ঃ
১। সম্পূর্ণ ফ্রি তে ডিজিটাল মার্কেটিং করে
২। পেইড অর্থাৎ টাকা দিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং করা।
ফ্রিতে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং
এ পদ্ধতিটি হল যেখানে আপনি টাকা ছাড়া বিভিন্ন গ্রুপে, পেইজে বা আইডির মাধ্যমে কোন পণ্য বা সেবার সম্পর্কে মানুষকে অভিহিত করাকে ফ্রি Social Media Marketing বলা হয়। এধরণের মার্কেটিংকে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের একটি অংশ বলা হয়। তবে ফ্রি মার্কেটিং এর মাধ্যমে খুব বেশি মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া যায় না। তবে কিছু টেকনিক ব্যবহার করেও ফ্রি-তে অনেক বেশি সুবিধা পাবার সম্ভাবনা থাকে।
টাকা দিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং -ঃ
এ পদ্ধতিতে মার্কেটিং করার উপায় হলো আপনি বিভিন্ন বড় বড় পেইজ এবং গ্রুপ দেখতে পাবেন ফেসবুকে। যে পেজ বা গ্রুপগুলো কিছু টাকার বিনিময়ে ওরা আপনার পণ্য বা সেবার বিজ্ঞাপন দিতে পারে।
আর এভাবে আপনার সেবা বা পণ্যের বিভিন্ন ধরনের প্রমোশন অফার অনেক বেশি লোকজনের কাছে পৌঁছে দিতে পারে। এছাড়াও ফেসবুকে Boost সিস্টেম রয়েছে। যার সাহায্যে আপনি খুব সহজেই নির্দিষ্ট লোকেশন, বয়স, জেন্ডার এর মাঝে আপনার অফারগুলো অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই পোস্ট টি পড়ে আসতে পারেন – ” সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি? কেন এবং কিভাবে করবেন ”
২। ইউটিউব মার্কেটিং -ঃ

বর্তমান সময়ে সারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে ইউটিউব। পৃথিবীতে এমন কোন ভিডিও নেই, যা ইউটিউবে খুঁজলে পাওয়া যায় না। আপনার প্রয়োজনীয় যেকোনো বিষয়ের ভিডিও আপনি ইউটিউবে পাবেন। আর ইউটিউবে আমার আপনার মত মানুষেই ভিডিও আপলোড করে। একা একা সকল ভিডিও আপলোড করা সম্ভব না।
আপনি যদি ইউটিউবের সাহায্যে ডিজিটাল মার্কেটিং করতে চান, সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার একটি ইউটিউব চ্যানেল থাকতে হবে। আর সেই চ্যানেলে ভিডিও আপলোড করতে হবে। যখন আপনি অনেক সাবস্ক্রাইব পাবেন তখন আপনি ইউটিউবের মাধ্যমে Digital Marketing করতে পারবেন। ভিডিও ডেসক্রিপশন বক্সে আপনার মার্কেটিং তথ্য প্রকাশ করে ডিজিটাল মার্কেটিং করতে পারবেন। আর এথেকে আপনি অনেক আয় করতে পারবেন।
৩। গুগল এডওয়ার্ডস -ঃ
গুগল এডওয়ার্ড হলো বর্তমান সময় পর্যন্ত একটি জনপ্রিয় টুলস। যার সাহায্যে বিভিন্ন ওয়েবসাইট এবং এপসের মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিং করতে পারবেন। অর্থাৎ গুগল এডওয়ার্ড হচ্ছে গুগলের একটি সার্ভিস। যার মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন ওয়েবসাইট, ব্লগ এবং এপসে আপনার পণ্য বা সেবার বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন খুব সহজেই।
আপনি হয়তো বিভিন্ন ব্লগে বা ওয়েবসাইটে প্রবেশের সময় দেখেছেন, যে ব্লগের বা ওয়েবসাইটের হেডার ফুটারে বা আর্টিকেলের ভিতরে বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন দেখা যায়। আর এসব গুগল এডওয়ার্ডের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে হয়। আপনি যদি গুগল এডওয়ার্ড এর সাহায্যে আপনার পণ্য বা সেবার বিজ্ঞাপন দিতে চান তাহলে গুগল এডওয়ার্ডকে আপনার পেমেন্ট করতে হবে।
এরপর গুগল এডসেন্সে যাদের এপ্রুভাল আছে সেসব ওয়েবসাইটে আপনার প্রোডাক্টের বা ব্লগের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করবে। এক্ষেত্রে গুগল তাদের কিছু পার্সেন্ট ক্লিকের মাধ্যমে দিবে। আর বাকি পার্সেন্ট গুগুল নিজে নিবে। আর এ পদ্ধতিতেই গুগল এডওয়ার্ড এর সাহায্যে ডিজিটাল মার্কেটিং করা যায়।
৪। আর্টিকেল রাইটিং এর মাধ্যমে মার্কেটিং -ঃ
আর্টিকেল লেখার মাধ্যমে খুব সহজেই আপনার ওয়েবসাইটে বা ব্লগে আপনার বিভিন্ন পণ্যের বা সেবার মার্কেটিং করতে পারেন। আর এপদ্ধতিটি হল ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি অংশ। আপনি খেয়াল করে দেখবেন যে Ahref Moz এবং Semrush এর মত ওয়েবসাইটগুলো তাদের সার্ভিস সম্পর্কে বিভিন্ন ব্লগ লেখে। এই ব্লগে তারা তাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে, প্রাইস সম্পর্কে খুব সুন্দর ধারণা প্রদান করে।
তাদের সেসব ব্লগ থেকে অনেক মানুষ তাদের সার্ভিস কেনার জন্য উৎসাহিত হয়। এভাবেই বিভিন্ন ব্লগ লেখার মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিং করা যায়। আপনি আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আর্টিকেল লিখে গুগল এডসেন্সের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকার পণ্য বা সেবার বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন। যা ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি অংশ।
৫। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO)

আপনি যদি একটি ওয়েবসাইটে ভিজিটর বাড়াতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে এসইও করতে হবে। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) একটি ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি অংশ।
কেননা আপনার ওয়েবসাইটে বা অ্যাপে ভিজিটর তখনই আসবে যখন আপনি সঠিকভাবে এসইও করতে পারবেন। আর এসইও করার জন্য একজন এসইও এক্সপার্ট এর প্রয়োজন হয়। এসইও এক্সপার্টরা জানে কিভাবে একটি ওয়েবসাইট এসইও করা যায়। যাতে ভিজিটররা খুব সহজে আপনার ব্লগটি খুঁজে পায়।
সোজাভাবে বললে, আপনার যদি একটি গাড়ি সার্ভিসিংয়ের ব্যবসা থাকে, তাহলে লোকজন গাড়ি সার্ভিসিং সম্পর্কে সার্চ ইঞ্জিনে লিখে জানতে চাইবে। আপনার ব্যবসা সম্পর্কে যদি একটি ব্লগ সাইট তৈরি করেন।
তাহলে অবশ্যই গাড়ি সার্ভিসিং লেখা দিয়ে সার্চ ইঞ্জিনে আপনার ব্লগ সবার উপরে দখল করে নিতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে এসইও করতে হবে। আর মানুষ আপনার ওয়েবসাইট থেকে প্রোপার গাড়ি সার্ভিসিং সম্পর্কে ধারণা পায়। তাহলে সববিষয় জানার পর আপনার কাছ থেকে সে সার্ভিস নিবে। আর এভাবেই আপনি আপনার ব্যবসা আরও বৃদ্ধি করতে পারবেন।
৬। ইমেইল মার্কেটিং করে -ঃ
বর্তমান যুগে দিনদিন ইমেইল মার্কেটিংয়ের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে গ্রাহক এবং ক্লায়েন্টের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করতে ইমেইল মার্কেটিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইমেইলের সাহায্যে বিভিন্ন ধরনের অফার এবং প্রোডাকশন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট লোকেশনের মানুষকে ইমেইল পাঠানোর মাধ্যমে খুব সহজে মার্কেটিং করা যায়।
ইমেইল মার্কেটিং করতে নির্দিষ্ট লোকেশনের, নির্দিষ্ট মানুষের ইমেইল সংগ্রহ করতে হবে। তারপর আপনার ওয়েবসাইটের লিংকসহ ব্যক্তিকে ইমেইল করুন। এভাবেই ইমেইল মার্কেটিং করা হয়।
৭। এফিলিয়েট মার্কেটিং করে -ঃ
খুব সহজভাবে বলতে গেলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে অনলাইনে বিভিন্ন বড় বড় কোম্পানির পণ্য বা সেবা আপনি বিক্রি করে দিবেন। সেই বিক্রয়ের বিনিময়ে আপনি কিছু কমিশন পাবেন। আরো সোজাভাবে যদি বলি, ধরুন আপনি খুব সহজে আপনি মানুষকে পটাতে পারেন।
এখন আপনি একটি দোকান থেকে একটা টি-শার্ট নিয়ে কারো কাছে ভাল রিভিউ দিয়ে বিক্রি করে দিলেন। এখন আপনি একটি বড় দোকানের কাপড় ভাল রিভিউ দিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য দোকানের মালিক আপনাকে ২০% কমিশন দিল। এই কমিশনটিই হলো অ্যাফিলিয়েট।
এখন অফলাইনের এফিলিয়েট মার্কেটিংকে যদি আমরা অনলাইনে তুলনা করি তাহলে কেমন হয়? ধরুন আপনার একটা ওয়েবসাইট আছে সেখানে আপনি বড় কোন ই-কমার্স সাইটের কোন কম্পিউটার সম্পর্কে ভাল রিভিউ দিলেন।
আর সেই রিভিউর মধ্যে কম্পিউটার কেনার লিংকও দিয়ে দিলেন। আর যখন কোন ভিজিটর এসে আপনার রিভিউ দেখে আপনার ঐ লিংকে ক্লিক করে ঐ কম্পিউটারটি ক্রয় করবে, তখন ঐ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আপনাকে কিছু কমিশন দেবে।
শেষ কথা -ঃ
যদি আপনি একজন ডিজিটাল মার্কেটার হতে চান, তাহলে অবশ্যই আপনাকে ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে। অন্যথায় আপনি আপনার ক্লায়েন্টকে কখনো ভাল সার্ভিস দিতে পারবেন না।
Digital Marketing সম্পর্কে আপনার কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আমাদের এই আইটিশহরবিডি ব্লগ থেকে নিয়মিত সকল প্রকার মার্কেটিং এবং অনলাইন ইনকাম সম্পর্কে বিভিন্ন আর্টিকেল পাবেন। আমাদের লেখা এই আর্টিকেলটি আপনার কাছে ভাল লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন


