বাসার মধ্যে ওয়াইফাই ব্যবহার করতে ইচ্ছুক হলে, আপনার একটি ভালো রাউটার কেনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি মানসম্মত রাউটার থাকলে আপনি ভালো ইন্টারনেট স্পিড পাবেন এবং ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের কভারেজ ক্ষেত্রও কার্যকরভাবে বিস্তৃত হবে।

এজন্য, কোয়ালিটিযুক্ত রাউটার কেনার বিষয়ে আপনাকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে। আজকের পোস্টে আমরা সেরা রাউটার চিহ্নিত করার পদ্ধতি ও আপনার জন্য সবচেয়ে উপযোগী রাউটার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।
যদি আপনি রাউটারের বিষয়ে অজানা হন, তাহলে দয়া করে আর্টিকেলটি ভালোভাবে পড়ুন। কারণ, পুরো আর্টিকেলে আমরা মানসম্পন্ন রাউটার চেনার পদ্ধতিগুলি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরব, যেন আপনি সঠিক রাউটার নির্বাচন করতে পারেন। এছাড়াও, সেরা রাউটারের তালিকাও এখানে আলোচনা করা হবে। তাই আমাদের সঙ্গে সম্পূর্ণ তথ্য পাওয়ার জন্য শেষ পর্যন্ত থাকুন।
সেরা রাউটারের বৈশিষ্ট্য
বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গুণগত মানের রাউটার বিদ্যমান। তবে, কোনটা পারফেক্ট হবে তা বলা বাস্তবসম্মত নয়। তবুও, কিছু বিষয়ের ভিত্তিতে আপনি সঠিক রাউটার নির্বাচন করতে সক্ষম হবেন।
বিশেষভাবে, মানসম্মত রাউটার কেনার কিছু দিক অবশ্যই মনে রাখতে হবে। আমরা এখন সেগুলি সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করবো।
- – কভারেজ এলাকা
- – নেটওয়ার্কের রেঞ্জ
- – ডিভাইসের সংখ্যা
- – কক্ষের সংখ্যা
- – রাউটারের অ্যান্টেনা
কভারেজ এলাকা
ভালো রাউটার চিহ্নিত করার প্রথম দিকটি হলো কভারেজ এলাকা। কভারেজ এলাকা মানে হলো রাউটারের সিগনাল কতদূর পর্যন্ত নেবে; অর্থাৎ আপনি রাউটারের সিগনাল কোথা থেকে ব্যবহার করতে চান তার পরিমাপ।
রাউটার কিনার আগে অবশ্যই এর কভারেজ এলাকা সম্পর্কে জানুন। সাধারণত, রাউটারের কভারেজ এলাকা যত বেশি, এর ফ্রিকোয়েন্সি ততটাই বেশি এবং রাউটারও তত ভালো।
দেশে অধিকাংশ রাউটার ২.৪ গিগাহার্জ ফ্রিকোয়েন্সির মধ্যে বেশি ব্যবহৃত হয়। এসব রাউটারে সাধারণত ৩২টি ডিভাইস একযোগে সংযুক্ত হতে পারে, অর্থাৎ একটি রাউটার ৩২টি ডিভাইসকে ইন্টারনেট পরিষেবা দিতে সক্ষম।
তবে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের রাউটার বাজারে এসেছে। এখন ডুয়েল ব্যান্ড রাউটারও চলে এসেছে, যার ফ্রিকোয়েন্সি অনেক বেশি এবং এটি বর্তমানে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
Also Read
২.৪ গিগাহার্জ এবং ৫ গিগাহার্জের সমন্বয়ে তৈরি ডুয়েল ব্যান্ড রাউটার সাধারণত বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। এই ধরনের রাউটার একটি সিঙ্গেল ব্যান্ড রাউটারের তুলনায় দ্বিগুণ কার্যকরী যে ফিচার দিচ্ছে।
ধরি একটি সিঙ্গেল ব্যান্ড রাউটার ৩২টি ডিভাইসে পরিষেবা দিচ্ছে, আর অন্যদিকে একটি ডুয়েল ব্যান্ড রাউটার ৬৪টি ডিভাইসে পরিষেবা দিতে পারে, অর্থাৎ এটি ৬৪টি ডিভাইসকে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করতে সক্ষম।
এখন বুঝতে পারছেন, ডুয়েল ব্যান্ড রাউটার সিঙ্গেল ব্যান্ডের তুলনায় কতটা বেশি শক্তিশালী।
আপনি যদি আপনার কভারেজ এলাকা ১ থেকে ২টি কক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান এবং ডিভাইসের সংখ্যা তিন থেকে পাঁচটির মধ্যে থাকে, তাহলে সিঙ্গেল ব্যান্ড রাউটার আপনার জন্য আদর্শ হবে এবং এটি যথেষ্ট। এতে আপনার খরচও কম হবে এবং সমস্যার সমাধান হবে।
অন্যদিকে, যদি আপনি ওয়াইফাই রেঞ্জ আরও বাড়াতে করতে চান এবং ৩ থেকে ৪টি কক্ষে ব্যবহার করতে চান, তাহলে ডুয়েল ব্যান্ড রাউটারই হবে সেরা পছন্দ। এর মাধ্যমে আপনি পাঁচ থেকে ছয়টি ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এটির জন্য আপনার কিছু অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।
এখন যদি আপনি একটি বড় কভারেজের জন্য, বিশেষভাবে অফিস ব্যবহারের জন্য, রাউটার কিনতে চান, তাহলে আপনাকে একটি উচ্চমানের রাউটারের পাশাপাশি রিপিটার ব্যবহার করতে হবে।
বর্তমানে বাজারে উচ্চ গুণমানের ট্রাই-ব্যান্ড রাউটারও উপলব্ধ। যদিও এই রাউটারগুলোর মূল্য কিছুটা বেশি। অন্যদিকে, যদি আপনি শুধুমাত্র একটি রুমে ওয়াইফাই ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেন, তবে আপনি একটি সাধারণ wired রাউটার ব্যাবহার করবার কথা বিবেচনা করতে পারেন।
বড় কভারেজের জন্য সাধারণভাবে ওয়ারলেস রাউটার ব্যবহৃত হয়, যা ওয়াইফাই প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রদান করে। সুতরাং, যদি আপনার কাভারেজ এলাকা বড় হয়, তবে ওয়ারলেস রাউটার কেনা উচিত।
নেটওয়ার্ক রেঞ্জ
রাউটার কেনার সময় অবশ্যই তার রেঞ্জের বিষয়ে অবগত থাকতে হবে। কারণ আপনি কত দূর পর্যন্ত সিগন্যাল পৌঁছাতে চান, সেটির ওপরই রাউটারের রেঞ্জ বাছাই করতে হবে।
মনে রাখতে হবে যে সাধারণত রাউটারের রেঞ্জ যত বেশি হবে, তত বেশি এলাকা জুড়ে এটি ইন্টারনেট সার্ভিস প্রদান করতে সক্ষম হবে।
যেমন, যদি আপনার রাউটার বাড়ির ভিতর স্থাপন করা থাকে এবং সেটির রেঞ্জ যথেষ্ট বড় হয়, তবে আপনি যদি বাড়ির সামনে গিয়ে ওয়াইফাই চালান, তাও পারবেন, কেননা রাউটারের শক্তিশালী সিগন্যাল রাস্তায় পৌঁছে যাবে।
অতএব, বুঝতে পারছেন যে রাউটারের নেটওয়ার্ক রেঞ্জ বাড়লে আপনি প্রতিটি রুমে অথবা বড় এলাকায় নেটওয়ার্ক সার্ভিস পাবেন। ওয়্যারলেস রাউটার সাধারণত ঘরের ভিতরে ১৫০ ফুট পর্যন্ত কভারেজ দেয়, এবং বাইরের জন্য ৩০০ ফুট পর্যন্ত সিগন্যাল পৌঁছায়। তাই, যদি আপনার একটি বড় বাড়ি বা বিস্তীর্ণ জায়গায় ওয়াইফাই কাভারেজ প্রয়োজন হয়, তাহলে রাউটারের সাথে রিপিটার ব্যবহার করা অত্যাবশ্যক।
আপনি একটি বড় কভারেজের জন্য, কিংবা রেঞ্জ বাড়ানোর জন্য আউটডোর রাউটারও ব্যবহার করতে পারেন। এই ধরনের রাউটারগুলি সাধারণত ১ থেকে ২ কিলোমিটার পর্যন্ত কভারেজ প্রদান করে। এর চেয়ে আরও বেশি কভারেজও পেতে পারেন। তবে, যদি আপনি পুরো এলাকা জুড়ে নেটওয়ার্ক কাভারেজ চান, তবে আপনাকে WIMAX ব্যবহার করতে হবে।
ডিভাইসের সংখ্যা
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ডিভাইসের সংখ্যা। ভালো রাউটার চেনার জন্য খেয়াল রাখতে হবে যে, একসাথে কতগুলো ডিভাইস রাউটারের সঙ্গে সংযুক্ত করা যাবে এবং সেটি সেই সকল ডিভাইসের চাপ নিতে সক্ষম কিনা।
অনেক সময় দেখা যায়, সস্তা রাউটারগুলি একাধিক ডিভাইস সংযুক্ত করলে সেটি ভারী চাপ নিতে পারে না, ফলে মাঝে মাঝে ইন্টারনেট সিগন্যাল ছাড়তে পারে; এটি একটি সাধারণ সমস্যা।

যখন অনেক ডিভাইস রাউটারের সাথে সংযুক্ত হয়, তখন সাধারণত রাউটারের পারফরম্যান্সে চাপ পড়ে। তাই ডিভাইসের সংখ্যা অনুযায়ী রাউটার বাছাই করা জরুরি।
বাংলাদেশের বেশিরভাগ বাড়িতে বর্তমানে রাউটারের স্পিড ১৫০ এমবিপিএস থেকে ৩০০ এমবিপিএস পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে প্রযুক্তির উন্নতির ফলে বর্তমানে বাজারে ২০০০ এমবিপিএসের উন্নত রাউটারও পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি রাউটারগুলোর বেশ কিছু উন্নয়ন ঘটেছে।
রাউটার ব্যবহারে রুম সংখ্যা
একটি মানসম্পন্ন রাউটার নির্বাচন করতে হলে, অবশ্যই আপনার বাসার রুমের সংখ্যা খেয়াল রাখতে হবে। কারণ, আপনার কতগুলো রুমে ওয়াইফাই সিগন্যাল ব্যবহারের পরিকল্পনা আছে, সেটির উপর ভিত্তি করে রাউটারের নির্বাচন করতে হবে।
বাসার রুমের সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ কারণ তা রাউটার কেনার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। রাউটারের সিগন্যাল যাতে দেয়াল, দরজা বা জানালা পেরিয়ে যেতে পারে, সেজন্য শক্তিশালী রাউটার প্রয়োজন।
রাউটারের সিগন্যালের পরিসীমা, অর্থাৎ এর রেঞ্জ দেখে কিনতে হবে। তাই আপনাকে রুমের সংখ্যা বিবেচনা করে শক্তিশালী এবং উচ্চ গতির রাউটার ক্রয় করা উচিত।
এখন, আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে যে, যে রাউটারটি আপনি কিনতে যাচ্ছেন, সেটি আপনার সকল রুমে সিগন্যাল দিতে সক্ষম কি না সেটা আগে থেকে বুঝে নেওয়া দরকার।
রাউটার অ্যান্টেনা
ভালো রাউটার চিহ্নিত করার অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল রাউটারের অ্যান্টেনা। রাউটারের অ্যান্টেনার সংখ্যা যত বেশি, ততই ভালো ফলাফল এবং কভারেজ পাওয়া যায়।
বাংলাদেশে বর্তমানে বিভিন্ন অ্যান্টেনা সম্বলিত রাউটার আছে, যেগুলো দ্রুত গতির ইন্টারনেট সুবিধা প্রদান করে এবং ওয়াইফাই এলাকার প্রসার ঘটায়।
বিশেষভাবে, যেসব রাউটারের বেশি অ্যান্টেনা থাকে, সেগুলোর রেঞ্জ বেশি। বেশি রেঞ্জ থাকার কারণে আপনি রাউটার ব্যবহার করে বেশিদূর পর্যন্ত ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক সিগন্যাল উপভোগ করতে পারবেন।
এছাড়াও, ওয়াইফাই রাউটারের নেটওয়ার্ক স্পিডের উন্নতি হয়। তাই বেশি অ্যান্টেনা বিশিষ্ট রাউটার কেনার চেষ্টা করুন।
সবচেয়ে ভালো রাউটার কোনটি
সেরা রাউটার নির্বাচন আপনার ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রকার, বাজেট এবং নির্দিষ্ট চাহিদার ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের রাউটার পাওয়া যায়, যেগুলোর দাম ভিন্ন। নিচে কিছু ভালো ব্র্যান্ডের রাউটারের মডেল তুলে ধরা হলোঃ
- ASUS RT-N12+
- Tenda F-3
- Netgear WNR614
- TP-Link Archer C20
- TP-Link TL-WR840N (V2)
- DIR-615 N300
- Mikrotik hEX RB750Gr3
- TL-WR820N
রাউটার নির্বাচনের সময় আপনার ইন্টারনেট ব্যবহার, বাজেট এবং নির্দিষ্ট চাহিদার কথা ভাবা খুবই জরুরি। উপরের মডেলগুলো বিভিন্ন ব্যবহারের জন্য কার্যকর হতে পারে।
সেরা বিকল্পের জন্য আপনার প্রয়োজন এবং বাজেট অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিন। এখন রাউটারগুলো সম্পর্কে কিছু বিস্তারিত তথ্য জেনে নেওয়া যাক।
Netgear WNR614
যদি আপনি রাউটারের কভারেজ বাড়াতে চাইছেন বা ইন্টারনেট স্পিড উন্নত করতে চান, তাহলে এই রাউটারটি আপনার জন্য আদর্শ হবে। কারণ, এর বিশেষ অ্যান্টেনা রয়েছে যা রেঞ্জ এবং স্পিড বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
আপনি এই রাউটারটি অনলাইন কাজ বা ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের জন্য ব্যবহার করতে পারেন। রাউটারটির দাম ১৫০০ টাকা, এবং এর সাথে এক বছরের ওয়ারেন্টি রয়েছে। উপরন্তু, এতে উন্নত সিকিউরিটি সুবিধা রয়েছে।
TP-Link TL-WR840N (V2)
TP-Link কোম্পানির এই মডেলটি একটি অন্যতম রাউটার। বর্তমানে এটি বাংলাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয় ও ব্যবহৃত হচ্ছে। এ রাউটারটির দুটি অ্যান্টেনা রয়েছে। রাউটারটির ফ্রিকোয়েন্সি রেট ২.৪ গিগাহার্জ, এবং এতে ব্যান্ডউইথ নিয়ন্ত্রণ এবং সিকিউরিটির ব্যবস্থা রয়েছে। এটি ইন্টারনেট স্পিড নিয়ন্ত্রণের সাথে অন্যান্য সুবিধাও প্রদান করে। বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১৮০০ টাকা।
ASUS RT-N12+
এএসইউএস ব্র্যান্ডের মধ্যে সাশ্রয়ী মূল্যে এই রাউটার সেরা। এতে দুটি অ্যান্টেনা রয়েছে এবং এটি ৩০০ এমবিপিএসে ডাটা স্থানান্তর সমর্থন করে। তাছাড়া, রাউটারটিকে রিপিটার বা রেঞ্জ বাড়ানোর যন্ত্র হিসেবেও ব্যবহার করা সম্ভব। অন্যান্য রাউটারের তুলনায় এতে বেশি সুবিধা পাওয়া যাবে। রাউটারটির দাম ১৪৫০ টাকা এবং এটি দুটি বছরের ওয়ারেন্টি নিয়ে আসে।
DIR-615 N300
এই রাউটারটিতে দুটি অ্যান্টেনা রয়েছে এবং এর ইন্টারনেট ডাটা স্থানান্তরের গতি ৩০০ এমবিপিএস। বাজারে এটি ১২০০ টাকায় তিন বছরের ওয়ারেন্টি সহ পাওয়া যাচ্ছে। তাই এই রাউটারটির বিবৃতি মূল্য ১২০০ টাকা। এই রাউটারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যাপার হলো এর সাথে তিন বছরের ওয়ারেন্টি যুক্ত রয়েছে। রাউটারে চারটি ল্যান পোর্ট এবং একটি ওয়ান পোর্টও রয়েছে। তাছাড়া, এটি উচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ব্যান্ডউইথ নিয়ন্ত্রণের সুবিধা তো দেয়।
TL-WR820N
যদি সাশ্রয়ী দামে ভালো রাউটার খুঁজছেন, তাহলে এটি আপনার জন্য সেরা পছন্দ হতে পারে। মাত্র ১৫০০ টাকায়, এর সাথে দুইটি অ্যান্টেনা এবং ৩০০ এমবিপিএস ডাটা স্পিড রয়েছে। এতে এক বছরের ওয়ারেন্টি রয়েছে। এই রাউটার দিয়ে ভিডিও লাইভ স্ট্রিমিং অত্যন্ত ভালোভাবে করা যায়।
Tenda F-3
গৃহস্থালির ব্যবহারের জন্য এই রাউটারটি উপযুক্ত। তিনটি অ্যান্টেনাসহ রাউটারটি ৩০০ এমবিপিএসে ডাটা স্থানান্তর সক্ষম। এর চারটি ল্যান পোর্ট রয়েছে, ফলে ইথারনেটের মাধ্যমে চারটি কম্পিউটার সংযোগ করা সম্ভব। কম মূল্যে এটি আপনার জন্য সেরা রাউটার হবে, যার দাম প্রায় ১২০০ টাকা।
কোন রাউটারটি শ্রেষ্ঠ?
কোন রাউটার আপনার জন্য ভাল হবে তা মূলত আপনার বাজেট এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী নির্ভর করে। তবুও, আমরা আপনাকে কয়েকটি ভালো মানের রাউটারের নাম দিতে চেষ্টা করছি, যেগুলি আপনার জন্য উপকারী হতে পারে। নীচে কিছু উল্লেখযোগ্য রাউটারের নাম দেওয়া হলো:
- TP-Link Archer C54 AC1200
- TP-Link Archer C64 AC1200
- Mercusys AC12G AC1200
- Tenda
- Asus RT-AC59U V2 AC1500
- Xiaomi Mi 4A (Regular Edition)
- Asus RT-AX56U AX1800
- Xiaomi Mi 4A (Gigabit Edition)
- Asus RT-AX53U AX1800
- Xiaomi Mi AIoT AX3600
- ASUS RT-AX55 AX1800
- TP-Link TL-WR820N
- Mercusys MW305R
- Xiaomi MI 4C R4CM 300
- Mercusys AC10 AC1200
- P-Link Archer C20 AC750
- Asus RT-AX58U AX3000
উপরোক্ত মডেলগুলো আপনার জন্য সহায়ক হতে পারে, তবে আরও যাচাই করে নিবেন। এই মডেলগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ও ছবি ইন্টারনেটে খুঁজে পাবেন।
আপনার বাজেটের ভিত্তিতে যে রাউটারটি নির্বাচিত করবেন তা কিনুন। তবে, রাউটার কিনার আগে ভালো রাউটার চেনার পদ্ধতিগুলো সম্পর্কে জেনে নেয়া দরকার, যাতে আপনি দীর্ঘমেয়াদে ভালো রাউটার ব্যবহার করতে পারেন।
ভালো রাউটার চেনার পদ্ধতি সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
রাউটার এবং ওয়াইফাইয়ের মধ্যে পার্থক্য কী?
রাউটার আসলে ওয়াইফাই সিগন্যাল প্রদান করে, যার মাধ্যমে আমরা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারি। এবং ওয়াইফাই হলো এমন একটি সিগন্যাল, যা ব্যবহার করে ইন্টারনেট চলাচল সম্ভব।
রাউটার কত ধরনের?
আমাদের জানা অনুসারে, রাউটার সাধারণত পাঁচটি শ্রেণীতে বিভক্ত।
১০ এমবিপিএস আপলোড স্পিড কেমন?
সাধারণ ব্যবহারের জন্য 10 MBPS স্পিড পরিমাণে ভাল, কিন্তু যারা উচ্চতর স্পিডের প্রয়োজন, তারা চাইলে দশ এমবিপিএসের চেয়ে বেশি স্পিড সম্পূর্ণ ওয়াই-ফাই লাইন নিতে পারবেন।
রাউটার কোন মডেলের তা কীভাবে চিনব?
রাউটারের পেছনে লাগানো স্টিকারটি দেখে আপনি রাউটারের মডেল নম্বর জানতে পারবেন। অথবা রাউটারের ব্যবহারের হাতে লেখিত কাগজে মডেল নম্বর উল্লেখ করা থাকে।
শেষ কথা
আজকের এই আর্টিকেলে, আমি ভালো রাউটার চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া এবং সবচেয়ে সেরা রাউটার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আপনাকে অবশ্যই সেসব বিষয়গুলি নজরে রেখে সঠিকভাবে একটি মানসম্মত রাউটার নির্বাচন করতে হবে।
তাছাড়া, পুরনো রাউটার কেনা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করুন, কারণ অনেক সময় পুরনো রাউটার যথাযথ স্পিড প্রদান করতে পারে না, যা বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করে। এজন্য ভালো গুণগত মানের একটি নতুন রাউটার কেনার চেষ্টা করুন।


