ল্যাপটপ – কম্পিউটার ফাস্ট করার পদ্ধতি সম্পর্কে আজ আপনাদের কিছু শেখাব। তবে এর আগে, আপনাকে জানতে হবে যে কেন কম্পিউটার ও ল্যাপটপ ধীর হয়ে যায় কেন বা এর কারণ কি। এখন আমরা জানব কম্পিউটারের ধীর হয়ে যাওয়ার ১০টি বিশেষ কারণ।

কম্পিউটার স্লো হবার প্রধান ১০টি কারণ
১। কনফিগারেশনঃ আপনার কম্পিউটারের কনফিগারেশন কেমন? প্রথমেই এই বিষয়টির দিকে নজর দিন। আধুনিক প্রযুক্তি আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। প্রযুক্তি ক্রমাগত আপডেট হচ্ছে, এবং তা চলতে থাকবে। পূর্বে তৈরি সফটওয়্যার বর্তমান প্রযুক্তির তুলনায় অনেকটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অর্থাৎ পুরানো প্রযুক্তির যে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়, তা বর্তমানে স্থানান্তরের পাশাপাশি সঠিকভাবে কাজ করার জন্য সক্ষম নয়।
প্রতিটি বিষয়ের একটি সংমিশ্রণ বা সামঞ্জস্য প্রয়োজন। উদাহরণ স্বরূপ: একটি শিশুর কিডনি দিয়ে প্রাপ্তবয়স্কের কিডনি প্রতিস্থাপন সম্ভব নয়, যদিও মেডিক্যাল ক্ষেত্রে এটি করা যায়। সব ক্ষেত্রেই সঠিকভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার প্রয়োজন। কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের সাথে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমও অনেক বেশি কার্যকরী হয়েছে। বিভিন্ন নতুন বৈশিষ্ট্য যোগ করা হয়েছে।
অতএব, বর্তমানে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের জন্য একটি ভাল কনফিগারেশনের কম্পিউটার বা ল্যাপটপ প্রয়োজন। আপনি কোন প্রসেসর সিরিজ ব্যবহার করছেন? Dual Core / Core i3 / Core i5 / Core i7 / Core i9 এর মধ্যে থেকে একটি। যদি আপনি Dual Core প্রসেসরে Core i5 বা Core i7 এর সমমানের পারফরমান্স আশা করেন, তবে এটি ভুল হবে। কম্পিউটার ধীর হওয়ার মূল কারণ এটিই। প্রথমেই একটি ভালো কনফিগারেশনের কম্পিউটার বা ল্যাপটপ নির্বাচন করুন।
২। জেনারেশনঃ প্রসেসর নির্বাচনের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রসেসরের জেনারেশন। প্রতিটি প্রসেসরের বিভিন্ন জেনারেশন রয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ: Core i3 সিরিজের প্রসেসরের ৩, ৪, ৬, ৮, ৯,১০,১১,১২,১৩ জেনারেশনের দিকে নজর দিতে হবে। প্রতিটি প্রসেসরের সিরিজের জেনারেশনগুলির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে এবং উপরের দিকে যাওয়া মানে উন্নতি পাওয়ার নিশ্চয়তা।
৩। র্যামঃ উপযুক্ত কনফিগারেশনের পর এটি একটি অপরিহার্য উপাদান। বাজারে বিভিন্ন ধরনের RAM পাওয়া যায়। আপনি যে কোনো ব্র্যান্ডের RAM ব্যবহার করতে পারেন, তবে সর্বদা উৎকৃষ্টটি বেছে নিতে চেষ্টা করুন। প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে বিভিন্ন উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমও উন্নীত হয়েছে। সকল উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের কার্যক্রম চালাতে নূন্যতম ২/৪ জিবি RAM প্রয়োজন।
যাদের কম্পিউটারে RAM দুই জিবির কম, তারা অবশ্যই এটি বৃদ্ধি করার চেষ্টা করুন। যদি উইন্ডোজ চলতে ২/৪ জিবি RAM ব্যবহার হয়, তাহলে বাকি সফটওয়্যার কোথায় চলবে? অবশ্যই কমপক্ষে ৪ জিবি RAM ব্যবহার করা উচিত। যদি বাজেট অনুমতি দেয়, তবে ৮/১৬ জিবি RAM ব্যবহার করতে পারেন।
৪। সফটওয়্যারঃ দৈনন্দিন কাজের প্রয়োজন মেটাতে বিভিন্ন সফটওয়্যার কম্পিউটারে ইনস্টল করা হয়। আমরা অনেক সময়ে কম্পিউটারের সম্পূর্ণ স্ক্রিন জুড়ে অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ইনস্টল করে রাখি। এটি কম্পিউটারের ধীর হওয়ার একটি কারণ হতে পারে। অপ্রয়োজনীয় সকল সফ্টওয়্যার সরিয়ে ফেলতে হবে। অপারেটিং সিস্টেমে যত কম সফটওয়্যার হবে, কম্পিউটারের গতি ততই বেশি থাকবে।
৫। সফটওয়্যার ডাউনলোড নিয়ে সচেতনতাঃ অপরিচিত ওয়েবসাইট থেকে সফটওয়্যার ডাউনলোড করা অতি উত্তম নয়। অজানা সাইট থেকে সফটওয়্যার ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকুন। যে কোনো সাইটে সফটওয়্যার ডাউনলোড করার পূর্বে ওই সাইট সম্পর্কে ভালোভাবে জানুন। কারণ, কিছু সাইট আছে যেগুলি হ্যাকারদের দ্বারা পরিচালিত হয়।
Also Read

হ্যাকার এবং স্প্যামাররা প্রায়শই সফটওয়্যারের মধ্যে ম্যালওয়্যার বা ভাইরাস সংযুক্ত করে। যখন আপনি তাদের ওয়েবসাইট থেকে সফটওয়্যার ডাউনলোড করেন, তখন ভাইরাসগুলোও সফটওয়ারের সাথে একই সময়ে ডাউনলোড হয়। আর এই ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার আপনার কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেমে প্রবেশ করে। ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
৬। হার্ডড্রাইভঃ হার্ডড্রাইভ কম্পিউটারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বাজারে বিভিন্ন ধরনের হার্ডড্রাইভ পাওয়া যায়। আপনার পছন্দ অনুযায়ী একটি হার্ডড্রাইভ নির্বাচন করুন। কিন্তু আমাদের মধ্যে কিছু কম্পিউটার ব্যবহারকারী আছেন যাদের হার্ডড্রাইভ খুবই দুর্বল। কেনার সময় তারা সঠিকটি বেছে নিতে পারেননি। তাদের কম্পিউটার ধীরে চলে কিংবা হ্যাং হতে থাকে। তাই সবাই চেষ্টা করবে, ভালো ব্র্যান্ডের হার্ডড্রাইভ ব্যবহার করার। যে কোন ভালো ব্র্যান্ড হতে পারে।
ভাল ব্র্যান্ডের হার্ডড্রাইভগুলোতে Windows অপারেটিং সিস্টেম সহজে চলতে পারে। সুতরাং পারফরম্যান্স ভালো পাওয়া যায়। যদি আরও উন্নত পারফরম্যান্স চান, তবে অপারেটিং সিস্টেমের জন্য SSD ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি সাধারণ হার্ডড্রাইভের চেয়ে উন্নত এবং SSD হার্ডড্রাইভগুলো স্বাভাবিক হার্ডড্রাইভের চেয়ে অনেক ভালো পারফরম্যান্স প্রদান করে। তবে, সাধারণ হার্ডড্রাইভের তুলনায় SSD হার্ডড্রাইভের দামও কিছুটা বেশি। যদি বাজেট অনুমতি দেয়, তবে SSD হার্ডড্রাইভ বেছে নিতে ভুলবেন না।
৭। উইন্ডোজঃ উইন্ডোজ হলো কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম। উইন্ডোজকে সবসময় ভাইরাসমুক্ত রাখতে চেষ্টা করুন। বিশেষ করে সব সময় আপডেট রাখা জরুরি। যখনই কম্পিউটার ধীরে চলে বা হ্যাং হতে দেখা যায়, ঊর্ধ্বতন উইন্ডোজ ইনস্টল করার চেষ্টা করুন।
৮। অ্যান্টিভাইরাসঃ ভাইরাস একটি ক্ষতিকর উপাদান। যদি কখনো কম্পিউটারে ভাইরাস প্রবেশ করে, তবে এটি অনেক ধীরে চলে। আবার কিছু সময় ভাইরাসের কারণে কম্পিউটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কম্পিউটারকে বিভিন্ন বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্য অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
নিয়মিত অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে কম্পিউটার স্ক্যান করা প্রয়োজন। নিয়মিত না পারলে অন্তত সপ্তাহে একদিন অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে কম্পিউটার স্ক্যান করতে হবে। তাছাড়া নিয়মিত উইন্ডোজের অস্থায়ী ফাইল বা শর্টকাট ফাইলগুলো মুছে দিতে হবে।
৯। হার্ডড্রাইভ স্পেসঃ হার্ড ড্রাইভ স্পেস এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ব্যবহারকারী কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেমের জন্য প্রয়োজনীয় স্পেস অন্যকিছু দিয়ে পূর্ণ করে রাখে। এটি কম্পিউটার ধীর গতির অন্যতম কারণ। আমরা সবাই জানি, সাধারণত উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ‘C Drive’এ চলে। তাই ‘সি ড্রাইভকে’ সব সময় খালি রাখতে হবে।
কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে খুব বেশি পার্টিশন করা। এটি কম্পিউটারের গতি কমিয়ে দেয়। একটি হার্ডড্রাইভের জন্য ২টি পার্টিশনই যথেষ্ট। তবে তিনটির বেশি করবেন না। কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভকে অপ্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে পূর্ণ করবেন না। এতে কোনো সফটওয়ার বা প্রোগ্রাম চালাতে সময় বেশি লাগবে না। এছাড়া, কম্পিউটার যথেষ্ট দ্রুত থাকবে।
১০। একসাথে অনেক প্রোগ্রাম চালানোঃ এটি আমাদের একটি বড় ভুল। প্রত্যেকটি প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার চালানোর জন্য কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভ এবং RAM থেকে স্পেস দখল করে। একসাথে অনেক প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার চালানোর কারণে কম্পিউটার ধীরে চলে। তাই এই বিষয়গুলোর প্রতি অবশ্যই মনোযোগ দিতে হবে।
এখন রকেটের মত কম্পিউটার ফাস্ট করার জন্য কিছু গোপন পরামর্শ দেখা যাক!
ধাপ ১: প্রথমে, আপনার কীবোর্ডে Windows+R কী একই সাথে চাপুন। অথবা Start Menu তে গিয়ে Run অপশন খোলুন। Run অপশন টি খোলার পরে “Tree” টাইপ করে Enter চাপুন। এতে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের সব খোলা ফাইল বা সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিফ্রেশ হবে।
এটি তিন থেকে চারবার করুন। যখন কম্পিউটার ধীর মনে হবে, তখন এটি ব্যবহার করুন। এটি যে কোনও সময় করা যেতে পারে। এর ফলে উইন্ডোজ প্রোগ্রামের ধীর হয়ে যাওয়া কোডগুলো আবার আগের মতো কাজ করতে শুরু করে। ফলে কম্পিউটার আবার দ্রুত ফিরে আসে।
ধাপ ২: আবারও কীবোর্ডে Windows+ R কী একসাথে চাপুন। অথবা Start Menu থেকে Run অপশন খুলুন। এবার “Temp” লিখে Enter চাপুন। Enter চাপার পর একটি নতুন উইন্ডো খুলবে। তারপরে Ctrl + A একসাথে চাপুন অথবা মাউস দিয়ে সব টেম্প ফাইল সিলেক্ট করে সবকিছু ডিলিট ফেলুন। এগুলো মুছে ফেললে আপনার কম্পিউটারের কোন সমস্যা হবে না।
ধাপ ৩: এরপর আবার Windows + R কী একসঙ্গে চাপুন। Run অপশন খোলার পর “%Temp%” লিখুন। তারপর পূর্ববর্তী পদ্ধতির মতো সমস্ত টেম্প ফাইল সিলেক্ট করে মুছে ফেলুন।
ধাপ ৪: Windows + R কী একসাথে চাপুন এবং Run অপশন খুলুন। এরপর “Help” লিখে Enter চাপুন। এটি প্রায় “Tree” এর মতো কাজ করে। এটি করার ফলে উইন্ডোজের কিছু সাধারণ সমস্যা সমাধান হবে।
ধাপ ৫: পুনরায় Windows + R কী একসাথে চাপুন অথবা Start Menu থেকে Run অপশন খুলুন। এরপর “Recent” লিখে Enter চাপুন। এখন জমে থাকা সমস্ত Recent ফাইলগুলো Ctrl + A দিয়ে সিলেক্ট করে মুছে ফেলুন।
ধাপ ৬: আবার Run অপশন খুলে “Prefetch” লিখুন এবং Enter চাপুন। একটি নতুন উইন্ডো ওপেন হবে। পূর্বের মতো সেখানেও সব Prefetch ফাইল Ctrl + A দিয়ে সিলেক্ট করে মুছে ফেলুন।
এখন অনেকের মনে প্রশ্ন উঠতে পারে যে, এতগুলো ফাইল মুছে ফেলার ফলে কি গুরুত্বপূর্ণ কিছু মুছে যাবে? উত্তর: না। যে ফাইলগুলো মুছে ফেলতে বলা হচ্ছে, সেগুলি আপনার জন্য অপরিহার্য নয়। এগুলো হলো উইন্ডোজের শর্টকাট ভাইরাস, যা আপনার কম্পিউটারকে ধীরে রাখতে সহায়তা করে। তাই নিয়মিত এ পরামর্শগুলো অনুসরণ করুন।
শেষ কথা
প্রিয় পাঠক আপনি যদি নিয়মিত এ টিপসগুলো অনুসরণ করেন, তবে আশা করি আপনার কম্পিউটারের নতুন গতি দেখতে পাবেন ইনশাআল্লাহ। এই টিপসগুলো শুধুমাত্র উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের জন্য কার্যকর হবে। লিনাক্স এবং ম্যাক কম্পিউটারের জন্য ভবিষ্যতে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ। যদি এই বিষয়ে আপনার কোনও প্রশ্ন কিংবা মতামত থাকে, তাহলে কমেন্ট করে জানান।


