টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন কি এবং কেন এটি ব্যবহার করা উচিত?

5/5 - (1 vote)

প্রিয় পাঠক আমরা বিভিন্ন অনলাইন ব্যাংকিং, গুগল, মেইল এমন কিছু সার্ভিসের মধ্যে টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA) পেয়ে থাকি।

তবে আমরা অনেকেই এখানো জানি না Two Factor Authentication সম্পর্কে। যার কারণে আমাদের অনেক একাউন্টে নিরাপত্তা জনিত ঘাটতি থাকে।

টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন 2fa -itshohorbd
টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন

তাই আজ আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব Two Factor Authentication সম্পর্কে। আপনি যদি এই সম্পর্কে বিস্তারিত না জানেন তাহলে আজকের পোস্ট টি সম্পূর্ণ পড়ুন।

Two Factor Authentication কি?

Two Factor Authentication বা (2FA) জিনিসটা ভালো ভাবে বুঝতে আমাদের সর্বপ্রথম ওয়ান ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন সম্পর্কে জানতে হবে।

আরও বুঝতে হবে বাস্তবে এবং ভার্চুয়াল জগতে এই ওয়ান ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন এবং টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন দুটি সিকিউরিটি মডেলের তুলনা।

ওয়ান ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন কি?

মনে করুন আপনি অফিস শেষ করে বাসায় আসলেন এরপর পকেট থেকে চাবি বের করে ঘরের তালা খুললেন এবং ঘরে প্রবেশ করলেন। এই সিকিউরিটিটিই হলো ওয়ান ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন।

এই ক্ষেত্রে আপনার ঘরের দরজা এবং তালা কোনটাই চিন্তা করবে না যে চাবিটি আপনি ব্যবহার করেছেন নাকি অন্য কেউ ব্যবহার করেছে।

চাবিটা কি আপনি নিজেই নাকি আপনার প্রতিবেশী অথবা কোনো অপরাধী ব্যবহার করছে। এতে আপনার নিরাপত্তার বিঘ্নতা ঘটে।

তালা কেবলমাত্র একটাই চিন্তা করবে যে তাকে সঠিক চাবি দিয়ে খোলা হলো কিনা। তালা খোলার ক্ষেত্রে সব চাবিই বহন করে এবং সেই জানে যে আপনাকে এক্সেস দেয়া হবে কিনা।

এই ওয়ান ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন কাজ করে যখন আপনি কোন ওয়েবসাইটে আপনার username এবং password ব্যবহার করে log in করার চেষ্টা করেন।

এইক্ষেত্রে আপনার পরিবর্তে যে কেউ আপনার ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে আপনার একাউন্টে ঢুকতে পারবে। যেমনটা আপনার ঘরের চাবির ক্ষেত্রেও ঘটে।

আপনার ঘরের চাবি যদি অন্য কারো কাছে থাকে তাহলে সেই আপনার ঘরে প্রবেশ করতে পারবে। যদি আপনার চাবি অথবা পাসওয়ার্ড চুরি না হয় তাহলে আপনি নিরাপদ আছেন বলে ধরে নেয়া হয়।

কিন্তু ভার্চুয়াল সিকিউরিটি একটু জটিল হয়। সিকিউরিটি ভায়োলেশন, অত্যাধুনিক আক্রমণ এবং দুর্ভাগ্য জনিত কোন কিছু যেন ঘটে এজন্য ভার্চুয়াল সিকিউরিটি কনফার্ম করতে স্ট্রং পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি Two Factor Authentication দরকার হয়।

টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন কি?

এটি মাল্টি ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশনের একটি উপসেট। অর্থাৎ বলা যায় যে টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশনই মাল্টি ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন। কিন্তু সব মাল্টি ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন নয়।

তবে এই মাল্টি ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন কেই সাধারণ ব্যবহারকারীরা  Two Factor Authentication বুঝে। কারণ এটিই সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি সিকিউরিটি ব্যবস্থা।

টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ফিচারস-

একটি সিকিউরিটি ব্যবস্থাকে  টুএফএ-2FA সিস্টেম বলতে হলে নিম্নলিখিত যেকোনো ২টি ফিচারস থাকতে হবে। ফিচারসগুলো হলো ইমেইলের মত পাসওয়ার্ড অথবা কার্ডের মত পিন।

একটি অথেন্টিকেশন টোকেন অথবা ব্যাংক কার্ড।
ফিংগার প্রিন্ট কিংবা এরকম বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি।
আপনি কি জানেন ব্যাংকের ডেবিট কার্ডে এই 2 Factor Authentication ব্যবহার করা হয়।

আপনি যদি কখনো যেকোনো ব্যাংকের এটিএম কার্ড ব্যবহার করে থাকেন তাহলে আপনিও এই Two Factor Authentication ব্যবহার করেছেন।

কেননা আপনার আপনার কার্ডের পাশাপাশি পিন নাম্বার জানতে হয়। পিন নাম্বার এবং কার্ড ব্যতীত আপনি আপনার ব্যাংক একাউন্টের এক্সেস পাবেন না।

কোথায় এবং কেন টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ব্যবহার করা উচিত?

বর্তমানে যেসকল সার্ভিস প্রোভাইডার এই 2 Factor Authentication অফার করে সেসব প্রতিটি সার্ভিসের সিকিউরিটি ব্যবস্থা আমাদের গ্রহণ করা উচিৎ।

কারণ এই পদ্ধতি ব্যবহার করা খুব সহজ কাজ। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর মাধ্যমে আপনার তথ্য চুরি, আর্থিক ক্ষতি সহ অন্যান্য যেকোনো প্রকার ক্ষতি থেকে নিজেকে রক্ষা করার উপায় থাকে।

যেকোনো স্ট্রং পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু করলে আপনার সিকিউরিটি আগের চেয়ে অনেকাংশেই বৃদ্ধি পাবে।

আপনার ব্যাংক একাউন্টে অথবা আপনার মেইন ইমেইল একাউন্টে এই টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন পক্রিয়া গ্রহণ করা উচিৎ। যদি কখনো আপনার ইমেইল কম্প্রোমাইজ হয় তাহলে এর মাধ্যমে আপনার সকল সার্ভিস কম্প্রোমাইজ হয়ে যাবে।

এজন্য যেকোনো ওয়েবসাইটে sign in করতে কখনো আপনার প্রাইমারি ইমেইল ব্যবহার না করাটাই সবচেয়ে নিরাপদ। এক্ষেত্রে আপনি অন্য একটি সেকেন্ডারি ইমেইল ব্যবহার করতে পারেন।

আপনার ব্যাংক একাউন্টে যদি Two Factor Authentication (2FA) অফার করে তাহলে এই অপশনটি আপনার নিরদ্বিধায় ব্যবহার করা উচিৎ।

এছাড়াও যেকোনো আর্থিক সেবা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রেও এই টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন সার্ভিস ব্যবহার করবেন। আপনার যেকোনো আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে অবশ্যই এই সার্ভিস ব্যবহার করা উচিৎ।

এছাড়াও ব্যক্তিগত যেকোনো জিনিস। যেমন- কোন ফাইল, মিডিয়া ব্যাকআপ ইত্যাদি সার্ভিসের ক্ষেত্রেও এই ২ ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন ব্যবহার করা উচিৎ।

২০১৯ সালে মাইক্রোসফট এর গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ২০১৯ সালে যর একাউন্ট হ্যাকের ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর ৯৯.৯% এ টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন এক্টিভ ছিল না।

কমন টাইপ টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন কিভাবে কাজ করে?

ভিন্ন ভিন্ন সার্ভিসে ২ ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন কিভাবে কাজ করে এটি আমরা আপনাকে দেখাতে পারব না। কিন্তু আমরা এখন কমন টু ফ্যাক্টর পদ্ধতি, যেটি আপনারা সহজেই পেতে পারেন সেই বিষয়ে জানাতে পারি।

ইমেইল (E-Mail)

কখনো যদি আপনি কোনো ওয়েবসাইটে লগ ইন করতে চান আর সেখানে যদি আপনার ইমেইল ভেরিফিকেশন করার জন্য বলে তাহলে আপনি ২ ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন এর ব্যাসিক ফর্ম ব্যবহার করছেন।

আর এ কারণে বলা হয় আপনার ইমেইল সুরক্ষিত রাখতে। কারণ বিভিন্ন সার্ভিস আপনাকে আপনার ইমেইল এড্রেসে একটি কোড পাঠিয়ে তাদের ভেরিফিকেশন যাচাই করে থাকে।

তাই আপনার মেইল এড্রেস যদি কম্প্রোমাইজ হয়ে যায় তাহলে আপনি ঐ মেইল এড্রেস দিয়ে যতগুলো সার্ভিস গ্রহণ করেছেন সবগুলো সার্ভিস কম্প্রোমাইজ হবার সম্ভাবনা থাকে।

এসএমএস এবং ভয়েস কল ( SMS And Voice Call)

ইমেইলে যেমন কোড পাঠিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ করা হয়। তেমনি মোবাইলের এসএমএস এবং ভয়েস বেইজড টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন আপনাকে টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে ভেরিফিকেশন কোড পাঠায়।

আর voice বেইজড 2 ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন আপনার মোবাইলে কল করে ভেরিফিকেশন কোড বলে দেয়। এটি যদিও সম্পূর্ণ পারফেক্ট কোন পদ্ধতি নয়।

তবুও আপনার কাছে যদি এই পদ্ধতিটি থাকে তাহলে সেটি অবশ্যই আপনার গ্রহণ করা উচিৎ।

মোবাইল অ্যাপ নোটিফিকেশন (Mobile Apps Notification)

কিছু কিছু সার্ভিস মোবাইলে তাদের অ্যাপকে ভেরিফিকেশন করতে দ্বিতীয় মাধ্যম হিসেবে এটির ব্যবহার করে থাকে। google prompts এই ধরনের টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন সিস্টেম ব্যবহার করে।

google prompts ব্যতীত এমন আরও অনেক প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। আপনি এরকম প্ল্যাটফর্মে যদি কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপের মাধ্যমে লগ ইন করতে চান তাহলে এটি আপনাকে মোবাইল অ্যাপ চালু করে কনফার্ম করতে হবে।

কনফার্ম করতে হবে যে এখানে আপনি নিজেই প্রবেশ করতে চাচ্ছেন। এই পদ্ধতিতে সিঙ্গেল টোকেনের ব্যবহার হলেও এটিকে টু এফ এ (Two Factor Authentication – 2FA) বলা যেতে পারে।

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক আপনি যেসব সার্ভিস গ্রহণ করেন সেগুলোতে যদি টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA) সিস্টেম চালু থাকে। তবে অবশ্যই আপনার এই সিস্টেম গ্রহণ করা উচিৎ।

এটি সবসময় আপনার নরমাল পাসওয়ার্ডের চেয়ে আপনাকে আরও বেশি সুরক্ষা রাখবে। আজকের এই পোস্ট সম্পর্কিত আপনার যদি কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকে তাহলে নিচে কমেন্ট বক্সে অবশ্যই জানাবেন।

এই পোস্ট টি ভাল লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না। নিয়মিত প্রযুক্তি সম্পর্কিত নতুন নতুন তথ্য জানতে ভিজিট করুন আমাদের “প্রযুক্তি তথ্য” ক্যাটাগরিতে। সাথে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। 

Share Is Caring.. ❤️

           

আসসালামু আলাইকুম। আমি পেশায় একজন চাকুরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। আমি ব্লগ পড়তে এবং আর্টিকেল লিখতে পছন্দ করি। অবসর সময়ে ব্লগে বিভিন্ন বিষয়ে লিখে শেয়ার করে থাকি।

Leave a Comment