ব্লগিং কি? জেনে নিন ব্লগিং থেকে আয় করার ৫ টি ধাপ!

5/5 - (3 votes)

ব্লগিং কি-

ব্লগিং (Blogging) হল বিভিন্ন ধরনের তথ্য শেয়ার এবং দৈনন্দিন জীবনের নানান দিক নিয়ে আলোচনা করার একটি জনপ্রিয় স্থান। বর্তমান সময়ে ব্লগিং এর দ্বারা টাকা উপার্জন করা যায় বলে এর চাহিদা ক্রমশই দিন দিন বেড়েই চলেছে।

পৃথিবীর যেকোন মানুষ যে কোন স্থান থেকেই ব্লগিং শুরু করতে পারে। তাই আজ আমরা ব্লগিং সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

১) ব্লগিং কিঃ

ব্লগ (Blog) এই ওয়ার্ডটি মূলত একটি ইংরেজী শব্দ। যার আভিধানিক অর্থ হলো ভার্চুয়াল ডায়েরী (Virtual Diary) অথবা ইন্টারনেটে ব্যক্তিগত দিনলিপি আবার ব্যক্তিকেন্দ্রিক পত্রিকাও বলতে পারেন।

আবার এই ইংরেজি ব্লগ (Blog) শব্দটি আবার ওয়েব্লগ (Weblog) এর সংক্ষিপ্ত একটি রূপ। ১৭ ডিসেম্বর ১৯৯৭ সালে জর্ন বার্গার নামে একজন মার্কিন নাগরিক সর্বপ্রথম ‘Weblog’ শব্দটি উদ্ভাবন করেন। এর সংক্ষিপ্ত রূপ “ব্লগ” শব্দটি ‘পিটার মেরহোলজ’ দ্বারা প্রথমে উদ্ভাবিত হয়েছিল।

যিনি পরবর্তীতে, ১৯৯৯ এর এপ্রিল বা মার্চের দিকে তার নিজস্ব ব্লগ Peterme.com -এর সাইটবারে মজা করে ‘weblog’ শব্দটিকে ভেঙে ‘blog’ বলে সম্বোধন করেন। তারপর থেকে ‘blog’ শব্দটির ব্যাবহার জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

পৃথিবীর অধিকাংশ ব্লগই যেকোন একটা নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর যাবতীয় তথ্য প্রকাশ করে থাকে। বাকীগুলো ব্যক্তিগত অনলাইন দিনলীপি বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক পত্রিকা। প্রায় ব্লগই মূলত Texts-Based বা লেখাভিত্তিক।

কিন্তু কিছু ব্লগ আবার শিল্প (Art Blog), ছবি (Photo Blog), ভিডিও (Video Blog), সঙ্গীত (Mp3 Blog) আর অডিও (Podcasting) ইত্যাদির উপর গড়ে উঠে।

মাইক্রোব্লগিং(Micro Blogging) -ও আরেক ধরনের ব্লগিং, যে ব্লগে আর্টিকেলের আকার তূলনামূলক ছোট বা কম থাকে। ব্লগের অন্যতম আরও একটি দিক হল ব্লগে পাঠকদের মন্তব্য করার সুযোগ দেওয়া।

ফ্রি ব্লগ থেকে আয় কিভাবে করা যায়?
ফ্রি ব্লগ থেকে আয় কিভাবে করা যায়?

২) ব্লগার (Blogger) কাকে বলেঃ

সাধারণত যে মানুষ ব্লগে পোস্ট (Post) করেন বা আর্টিকেল বা কন্টেন্ট লেখেন তাকে ব্লগার বলার হয়। ব্লগাররা নিয়মিত তাদের ব্লগে (Blog) বা ওয়েবসাইটে কনটেন্ট বা আর্টিকেল পোস্ট করেন।

আর ব্লগ ব্যবহারকারীরা সেই কন্টেন্ট বা পোস্ট থেকে তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে থাকেন এবং সেখানে তাদের মন্তব্য প্রকাশ করতে পারেন। এছাড়াও বর্তমান সময়ে ব্লগিং, ফ্রিলান্সিং সাংবাদিকতার অন্যতম একটি মাধ্যম হয়ে উঠছে।

অনেকেই ওয়েবসাইট আর ব্লগ কি তা জানেন না বা এই দুটির মধ্যে পার্থক্য বোঝেন না। ওয়েবসাইট আর ব্লগ এ দুটির মধ্যে মূল পার্থক্য হল- যেকোনো ওয়েবসাইট আপডেট করা হয় অনিয়মিত ভাবে, আর অন্যদিকে একটি ব্লগ আপডেট করা হয় নিয়মিত ভাবে।

কিছু কিছু ব্লগ রয়েছে যেগুলো নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়, যাতে ওই ব্লগের পাঠকগন সক্রিয় (Active) থাকার মাধ্যমে বিভিন্ন জানা-অজানা বিষয় খুব সহজেই জানতে পারে।

সূত্র: উইকিপিডিয়া

৩) কিভাবে ব্লগিং শুরু করবেনঃ

আপনার জানা কিংবা অজানা বিভিন্ন বিষয়সমূহ, অথবা সাম্প্রতিক কোন বিষয় নতুন করে সহজ ও বোধগম্য ভাবে পাঠকদের জানানো, কিংবা নিজস্ব চিন্তাভাবনা প্রকাশ করার একটি বড় মাধ্যম হলো ব্লগিং।

অন্যদিকে বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা, বিভিন্ন ধরনের স্পনসরসিপ, অ্যাফিলিয়েশন এবং অ্যাডভারটাইসমেন্ট থেকে উপার্জনের মাধ্যম সৃষ্টি হওয়ার ফলে সারা পৃথিবী জুড়ে তথা বাংলাদেশেও দিব দিন ব্লগিং এর চাহিদা ক্রমশই বেড়েই চলেছে।

যদি আপনি ব্লগিং শুরু করতে চান কিংবা ব্লগিং করবেন বলে ভাবছেন তাহলে ব্লগিং শুরুর পূর্বে অবশ্যই আপনার নিম্নোক্ত এই জিনিসগুলো প্রয়োজন হবে।
একটি ডিজিটাল ডিভাইস যেমনঃ-

  • স্মার্ট ফোন,
  • ল্যাপটপ অথবা কম্পিউটার।
  • ইন্টারনেট কানেকশন।
  • ইমেইল অ্যাকাউন্ট।
  • বাংলা লেখার জন্য সফ্টওয়্যার ।
  • ব্লগ সাইটে লেখার জন্য একটি অ্যাকাউন্ট।

৪) জেনে নিন ব্লগিং থেকে আয় করার ৫ টি ধাপঃ

ব্লগিং শুরু করার পর ব্লগ দিয়ে কিভাবে উপার্জন করবেন সেটা নিয়ে অনেকেরই অনেক রকমের প্রশ্ন আছে। আমি আশাকরি আপনি নিচের লেখাগুলো সম্পূর্ণ পড়লে এই বিষয়ে বিস্তার একটি স্বচ্ছ ধারনা পাবেন।

প্রথমত- সুন্দর ডোমেইন নাম নির্বাচন করাঃ

যেকোন ব্লগ সাইট তৈরির পূর্বে সর্বপ্রথম কাজ হল একটি সুন্দর, ব্রান্ডেবল, ছোটখাটো এবং উচ্চারনে সহজ ও শ্রুতিমধুর এমন একটি ডোমেইন নাম নির্বাচন করা।

এতে আপনার ব্লগ সাইটটি খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। আর যত জনপ্রিয় হবে তত ভিজিটর বা পাঠক বৃদ্ধি পাবে।

দ্বিতীয়ত- ভালো মানের হোস্টিং সার্ভিস ব্যবহার করাঃ

একটি সুন্দর মনে রাখার মত ডোমেইন নাম নির্বাচন করার পর, ভালো মানের একটি হোস্টিং সার্ভিস আপনাকে ক্রয় করতে হবে। তবে হোস্টিং সার্ভিস কেনার পূর্বে অবশ্যই হোস্টিং কোম্পানির কাস্টমার রিভিউ এবং হোস্টিং কেনার পর তাদের কাস্টমার সাপোর্ট সার্ভিস কেমন তা জেনে নিবেন।

বর্তমানে দেশের মধ্যেও অনেক হোস্টিং কোম্পানি রয়েছে আপনি চাইলে খুব সহজেই তাদের কাছ থেকে হোস্টিং ক্রয় করতে পারবেন।

এই ওয়েবসাইটে হোস্টিং সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সম্বলিত একটি পোস্ট রয়েছে। আপনি চাইলে হোস্টিং সংক্রান্ত সন্দেহ দূর করতে সেই পোস্টটি পড়ে আসতে পারেন।

সেই পোস্টের লিংক-

তৃতীয়ত- ব্লগ ডিজাইন করাঃ

ডোমেইন এবং হোস্টিং নেয়ার পরে আপনার ব্লগটি সুন্দর ডিজাইন করতে হবে। ব্লগ ডিজাইন করার প্রথমে আপনার হোস্টিং সিপ্যানেলে থেকে ওয়ার্ডপ্রেস (WordPress) ইন্সটল করে নিতে হবে।

তারপর আপনার পছন্দ অনুযায়ী একটি থিম ইনস্টল করতে হবে। এরপর থিম কাস্টমাইজ করে আপনার পছন্দমতো ডিজাইন করতে হবে। ওয়ার্ডপ্রেস থিম কিভাবে কাস্টমাইজ করবেন সেসব বিষয়ে ইউটিউবে সার্চ করলে অনেক ভিডিও পাবেন।

সেসব ভিডিও দেখে আপনি চাইলে নিজেই আপনার ব্লগটি ডিজাইন করে নিতে পারবেন। আর তাছাড়া আপনি যদি নিজে না করতে পারেন বা নিজে করতে চাচ্ছেন না সেক্ষেত্রে আপনি যেকোন ওয়েব ডিজাইনার অথবা ভাল মানের ওয়েব ডেভেলপারদের দিয়ে আপনার ব্লগ সাইটি সুন্দর ডিজাইন করে নিতে পারেন।

চতুর্থ- কন্টেন্ট লেখা, পাবলিশিং এবং মার্কেটিং করাঃ

ব্লগটি সম্পূর্ণ ডিজাইন করা হয়ে গেলে এরপর যেকোন নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর কন্টেন্ট বা পোস্ট লিখে সেগুলো উক্ত ব্লগে নিয়মিত পাবলিশ করতে হবে। কন্টেন্ট লেখার ক্ষেত্রে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে কন্টেন্টটি লিখেছেন তা যেন তথ্যবহুল এবং সার্বিকভাবে উপস্থাপন হয়।

ব্লগে কন্টেন্ট বা পোস্ট পাবলিশ করা হয়ে গেলে বিভিন্ন সোসাল মিডিয়াতে শেয়ার (Social Media Share) করতে হবে। এজন্য পূর্বেই আপনার ব্লগের নামে সকল জনপ্রিয় সোসাল মিডিয়া সাইট যেমনঃ- (Facebook, Twitter, Instagram, LinkedIn ইত্যাদি) গুলোতে বিজনেস পেজ তৈরি করতে হবে।

মূলত এখানে মার্কেটিং বলতে বোঝানো হয়েছে আপনার ব্লগটি মানুষের কাজে শেয়ার করে ছড়িয়ে দেয়া। যাতে আপনার ব্লগটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পায় এবং মানুষ আপনার ব্লগটি থেকে উপকৃত হয়।

পঞ্চম- ব্লগে অ্যাডসেন্স বা স্পনসরসিপ যুক্ত করাঃ

Adsense হলো এড নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম। এডসেন্স আপনার ব্লগে এড প্রদর্শন করাবে তার বিনিময়ে আপনাকে এডসেন্স পেমেন্ট করবে। এটিই হলো এডসেন্স এর কাজ।

উপরোক্ত ৪ টি ধাপ সম্পূর্ণ হওয়ার পর যখন ব্লগে প্রচুর ভিজিটর আসা শুরু হবে। তখন চাইলে আপনি গুগল কিংবা অন্যান্য যেকোন কোম্পানি থেকে অ্যাডসেন্স এর জন্য আবেদন করতে পারেন।

তারপর অ্যাডসেন্স আপনার ব্লগের সাথে কানেক্ট করে সেখান থেকে প্রতি মাসে কিছু টাকা উপার্জন করতে পারবেন।

পাশাপাশি, যখন ধীরে ধীরে আপনার ব্লগ আরও জনপ্রিয় হবে তখন বিভিন্ন কোম্পানি আপনার ব্লগ সাইটে স্পনসর করার জন্য আপনার সাথে যোগাযোগ করবে। ব্লগে স্পনসর দ্বারাও বেশ ভালো পরিমাণে টাকা উপার্জন করা যায়।

পরিশেষে

উপরোক্ত আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পরার পর ব্লগিং কি আর এই ব্লগ থেকে কি করে উপার্জন করা যায় তা সম্পর্কে জেনেছেন। এরপরও যদি ব্লগিং সম্পর্কে আপনার যদি কোন প্রশ্ন বা মতামত থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই নিচের কমেন্ট বক্সে জানাতে ভুলবেন না। পোস্টটি ভাল লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন। 

Share Is Caring.. ❤️

           

আসসালামু আলাইকুম। আমি পেশায় একজন চাকুরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। আমি ব্লগ পড়তে এবং আর্টিকেল লিখতে পছন্দ করি। অবসর সময়ে ব্লগে বিভিন্ন বিষয়ে লিখে শেয়ার করে থাকি।

Leave a Comment