মূলত কোন ওয়েবসাইট বা ব্লগ বানানোর জন্য হোস্টিং এবং ডোমেইন নেম এর প্রয়োজন হয়। তাই আজ আমরা হোস্টিং কি? ওয়েব হোস্টিং কি? এবং হোস্টিং কি এবং কত প্রকার? এই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। আপনি যদি নতুন ওয়েবসাইট বা ব্লগ তৈরি করার জন্য Hosting ক্রয় করতে চান, তাহলে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনযোগ দিয়ে পড়ে হোস্টিং কি এবং হোস্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।
হোস্টিং কি?
কোন ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরি করতে ঐ ওয়েবসাইট বা ব্লগের সমস্ত ডাটা যেখানে রাখা হয় সেটিকে হোস্টিং বলে। যেকোনো ওয়েবসাইটের সকল টেক্সট, অডিও, ভিডিও, ইমেজ, ডকুমেন্টস ফাইল সকল কিছু ঐ নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের হোস্টিং সার্ভারে স্টোর করে রাখা হয়।

আমরা জানি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে ডোমেইন নেম লাগে। যখন কোন ইউজার উক্ত ডোমেইন নেম লিখে ইন্টারনেটে সার্চ করে তখন ওয়েবসাইটের বা ব্লগের ডোমেইন নেম হোস্টিং সার্ভারে পয়েন্ট করে এবং ওয়েবসাইটের সমস্ত ডাটা ইউজারকে দেখায়। অর্থাৎ ডোমেইনের সাহায্যে যে সকল ডাটা এক্সেস করা হয়, সে সকল ডাটা একটি নির্দিষ্ট সার্ভারে বা হোস্টিংয়ে স্টোর বা জমা করে রাখা হয়।
একটি উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় -ঃ
ধরুন আপনি একটি মুদি দোকান দেবেন। এখন দোকান দেওয়ার জন্য আপনার একটি জায়গার প্রয়োজন হবে। যেখানে আপনি আপনার সকল পণ্য বা প্রোডাক্ট রাখবেন। এরপর যেকোন কাস্টমার ঐ নির্দিষ্ট জায়গা মানে আপনার দোকানে গিয়ে প্রোডাক্টগুলো দেখতে ও কিনতে পারবে।
ঠিক তেমনি, অনলাইনে কোন ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরি করতে হোস্টিংয়ের প্রয়োজন। একটি আলাদা আলাদা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের সকল ডাটা আলাদা আলাদা হোস্টিংয়ে জমা হয়। অর্থাৎ একটি ওয়েবসাইটের একটি হোস্টিং সার্ভার। যখন কোন ইউজার নির্দিষ্ট ডোমেইন নেম লিখে ইন্টারনেটে সার্চ করে তখন ওয়েবসাইটের বা ব্লগের ডোমেইন নেম হোস্টিং সার্ভারে পয়েন্ট করে এবং ওয়েবসাইটের সমস্ত ডাটা ইউজারকে দেখায়।
হোস্টিং কাকে বলে?
হোস্টিং হচ্ছে এক প্রকারের ওয়েব সার্ভার। যেখানে কোন ওয়েবসাইটের সকল ডাটা স্টোর করে রাখা হয়। যদি কোন ব্যক্তি নির্দিষ্ট ডোমেইন নেম ইন্টারনেটে সার্চ দেয়, তবে হোস্টিং দ্বারা ওই ওয়েবসাইটের সকল ডাটা সে দেখতে ও পড়তে পারে। ডোমেইন এবং হোস্টিংয়ের কানেকশনের জন্যই যেকোনো ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীর সামনে ফুটে ওঠে।
হোস্ট কি বা হোস্ট কাকে বলে?
যখন কোন কম্পিউটার কোন নেটওয়ার্ক এর সঙ্গে যোগ (connect) হয় তখন তাকে হোস্ট বলে। সোজা ভাবে বললে শুধুমাত্র কম্পিউটারই না বরং মোবাইল, ট্যাবলেট বা অন্য যেকোন ডিভাইস নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হলে তাকেই হোস্ট বলে। হোস্ট বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। যেমন- ওয়েব হোস্ট, এপস হোস্ট, নেটওয়ার্ক হোস্ট ইত্যাদি।
একটি হোস্টকে অন্য আরও একটি হোস্টের সঙ্গে যুক্ত করতে নেটওয়ার্কের প্রয়োজন হয়। নেটওয়ার্কের সাহায্যে একাধিক হোস্টের সঙ্গে কানেকশন তৈরি করে কমিউনিকেশন করা যায়। ডোমেইন এবং হোস্টিং হচ্ছে ওয়েব হোস্ট। ওয়েব হোস্ট মূলত বিভিন্ন ধরনের হোস্টিং সার্ভারকে দেখাশুনা করে থাকে। অর্থাৎ যখন কোন ডোমেইন কোন হোস্টিংয়ের সঙ্গে কানেক্টেড হয় তখন এটি ওয়েব হোস্ট ক্যাটাগরিতে পড়ে।
Also Read
হোস্টিং কত প্রকার ও কি কি?
- Dedicated hosting
- VPS Hosting
- Shared hosting
- Managed Hosting
- Cloud Hosting
- Reseller Hosting
উপরোক্ত সকল Hosting সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। এই আলোচনা থেকে আপনি হোস্টিংয়ের কি কাজ এবং কোন হোস্টিংয়ের কত দাম সে সম্পর্কে জানতে পারবেন।
Dedicated Hosting -:
যদি একটি সম্পূর্ণ CPU কে হোস্টিং আকারে ব্যবহার করা হয় তখন তাকে ডেডিকেটেড হোস্টিং বলে। আমরা জানি একটিমাত্র CPU তে নির্দিষ্ট র্যাম, হার্ডডিস্ক, প্রসেসর এসব থাকে। ওয়েবসাইটের মালিক যদি কোন সম্পূর্ণ CPU কে হোস্টিং রুপে ব্যবহার করে তখন তাকে Dedicated Hosting বলে।
যেমন ধরুন, আপনার একটি বাড়ি আছে। যেহেতু বাড়িটি আপনার নিজস্ব সেহেতু সম্পূর্ণ বাড়িটি আপনি একাই ব্যবহার করতে পারবেন। এখানে আপনি না চাইলে কেউ থাকতে পারবে না। এখন সম্পূর্ণ বাড়িটি হল Dedicated Hosting. এখন আপনার বাড়ির সকল মালামাল আপনার বাড়িতে জমা করতে পারেন।
এই প্রকার হোস্টিংয়ের মূল্য প্রতি মাসে ৬,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকার মধ্যে হয়।
Dedicated Hosting এর সুবিধা -ঃ
- ব্যবহারকারীর হোস্টিংয়ের উপর সবচেয়ে বেশি কন্ট্রোল থাকে।
- সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা এই হোস্টিংয়ে থাকে।
- ব্যবহারকারী খুব সহজেই যেকোন জিনিস এক্সেস করতে পারে।
Dedicated Hosting এর অসুবিধা -ঃ
- এই হোস্টিংয়ের খরচ সবচেয়ে বেশি হয়।
- এসমস্ত হোস্টিং কন্ট্রোল করতে প্রচুর টেকনিক্যাল জ্ঞান প্রয়োজন হয়।
- নিজে কন্ট্রোল করতে না পারলে, তবে একজন টেকনিশিয়ান ভাড়া করে নিতে হবে।
VPS Hosting -:
যখন কোন ডেডিকেটেড CPU কে ভাগ করে ভিন্ন ভিন্ন সাবমেশিন বানানো হয় তখন তাকে ভিপিএস হোস্টিং বলে। ধরুন একটি ডেডিকেটেড CPU তে ১৬ জিবি র্যাম আছে, তখন ভিপিএস CPU কে আলাদা আলাদা ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীর জন্য র্যাম ভাগ করে সবাইকে ব্যবহার করতে অনুমতি দেয়।
ধরুন আপনি একটি বাড়ি ভাড়া করে, সেখানে আরও ৩-৪ জন বন্ধুর সঙ্গে ভাগ করে নিলেন। এরপর সবাই আলাদা আলাদা রুমে বসবাস করল। আর সেই বাড়ির ভাড়া সবাই মিলে মেটাবেন। আর সবাই তাদের জিনিসপত্রও সেই বাড়িতে রাখতে পারবে।
এই প্রকারের হোস্টিংয়ের জন্য মাসে ২,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকার মত খরচ হবে।
VPS Hosting এর সুবিধা -ঃ
- ভিপিএস হোস্টিং ওয়েবসাইটে ভাল পারফরম্যান্স দেয়।
নিজে একাই ফুল কন্ট্রোল করতে পারবেন। - নিরাপত্তা এবং প্রাইভেসি বেশি।
- পরবর্তীতে মেমোরি আপগ্রেড এবং ব্যান্ডউইথ পরিবর্তন করতে পারবেন।
Shared Hosting -:
যখন একটি ভিপিএস হোস্টিংকে ভিন্ন ভিন্ন ব্যবহারকারীর সঙ্গে ভাগ করে দেয়া হয় তখন তাকে শেয়ার্ড হোস্টিং বলে। সুতরাং ডেডিকেটেড হোস্টিংকে ভাগ করে VPS Hosting তৈরি করা হয়। আবার ভিপিএস হোস্টিংকে ভাগ করে শেয়ার্ড হোস্টিং গঠন করা হয়।
শেয়ার্ড হোস্টিংয়ে একটি সিপিইউকে অনেক ব্যবহারকারীর সঙ্গে ভাগ করা যায়। কিন্তু একটি Shared Hosting কতজনের সঙ্গে ভাগ করা হবে তা হোস্টিং কোম্পানি নির্ধারণ করে দেয়।
ধরুন আপনি একটি বাড়ির রুম ভাড়া নিয়েছেন। এরপর আপনার বন্ধুদের সঙ্গে রুমটি ভাগ করে নিয়েছেন। এরপর যদি সেই রুমেই আবার নতুন করে কোন বন্ধুকে জায়গা দেন, তবে সেটি হবে শেয়ার্ড হোস্টিং। এখানে একটি রুমের মধ্যেই আপনি ৫-৬ জনকে থাকার অনুমতি দিতে পারেন। এই প্রকারের হোস্টিংয়ের জন্য মাসে ৫০ থেকে ৩০০ টাকা খরচ হতে পারে।
Shared Hosting এর সুবিধা -ঃ
- সেটআপ করা খুবই সহজ।
- নতুন ব্লগের জন্য খুবই ভাল।
- কন্ট্রোল করা খুবই সহজ।
- খরচ খুবই কম।
Shared Hosting এর অসুবিধা -ঃ
- নিরাপত্তা খুব কম পাওয়া যায়।
- রিসোর্স খুব পরিমাণে পাওয়া যায়।
- মাঝে মধ্যে ওয়েবসাইটের পারফরম্যান্স ডাউন হয়।
Managed ওয়েব হোস্টিং -ঃ
বড় বড় কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান যে প্রকার Hosting ব্যবহার করে তাকে ম্যানেজ হোস্টিং বলে। যেমন ধরুন, আমরা ব্লগ ওয়েবসাইট বানাতে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করি। এখন WordPress Hosting নামে এক প্রকার হোস্টিং আছে। যা ওয়ার্ডপ্রেস কোম্পানি তার ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি করেছে। যা দ্বারা খুব সহজেই ব্লগ বা ওয়েবসাইট অপ্টিমাইজ করা যায়।
অর্থাৎ যে হোস্টিংকে কোন কোম্পানি বিভিন্ন টুলসের সাহায্যে নিজেই ম্যানেজ করে তাকে ম্যানেজ WEB Hosting বলে। এই হোস্টিং নির্দিষ্ট কোম্পানি তার ব্যবহারকারীদের সেবা প্রদানের জন্য এই প্রকারের হোস্টিং তৈরি করেছে। তাছাড়া অনেক বড় বড় কোম্পানিও তাদের নিজস্ব ম্যানেজ ওয়েব হোস্টিং তৈরি করে।
ধরুন আপনার নিজস্ব একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। আর সেই ফ্ল্যাটটি আপনি নিজেই ম্যানেজ করছেন। এবার আপনি দেখছেন আপনার ভাড়াটিয়াদের কোন প্রকার অসুবিধা হচ্ছে কিনা। অসুবিধা হলে নিজেই ঠিক করার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
Cloud Hosting -:
যখন ভিন্ন ভিন্ন সার্ভার থেকে নির্দিষ্ট কোনো ডোমেইন এক্সেস করা হয় তখন তাকে ক্লাউড হোস্টিং বলা হয়। ক্লাউড হোস্টিংয়ে ভিন্ন ভিন্ন দেশে আলাদা আলাদা সার্ভার রাখা হয়। যখন যে দেশের ব্যবহারকারী, নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটকে ব্যবহার করতে চায়, তখন ওই দেশের হোস্টিংয়ের সঙ্গে ডোমেইন কানেক্ট করা হয়।
ধরুন, আপনার ওয়েবসাইটে আমেরিকা, ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ এই চার স্থান থেকে ভিজিটর আসে। যখন আমেরিকার ব্যবহারকারী আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করবে তখন আমেরিকার সার্ভারের সাহায্যে আপনার ওয়েবসাইট এক্সেস করা হবে। আবার পাকিস্তান থেকে যখন কোন ভিজিটর আপনার সাইটে আসবে তখন পাকিস্তানের সার্ভার থেকে আপনার ওয়েবসাইট এক্সেস করা হবে।
যার কারণে আপনার ওয়েবসাইট কখনো ডাউন হবেনা। আবার বিভিন্ন প্রকার সার্ভার থাকার কারণে, আপনার ওয়েবসাইটের সকল ডাটা প্রতিটি সার্ভারে স্টোর থাকে। যদি একটি সার্ভার থেকে আপনার ডাটা ডিলিট হয়ে যায়। তখন আপনি অন্য যেকোন সার্ভারের সাহায্যে ডাটা পুনরায় ফেরত পেতে পারেন।
এই প্রকারের হোস্টিংয়ের জন্য মাসে ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা খরচ হবে।
Reseller Hosting -:
যখন একটি নির্দিষ্ট কোম্পানি একটি সম্পূর্ণ CPU কিনে, সেটি ভিন্ন ভিন্ন ব্যবহারকারীর সঙ্গে ভাগ করে নেয়, তখন একে রিসেলার হোস্টিং বলে। এখানে আপনি একটি হোস্টিং নিজের নামে কিনে অন্যদের ভাড়া বা বিক্রি করতে পারেন। যেহেতু আপনি এই হোস্টিং পুনরায় কিনে আবার পুনরায় বিক্রি করছেন তাই এটি রিসেলার হোস্টিং।
ধরুন আপনি একটি Hosting কিনেছেন। এরপর সেই হোস্টিংকে ভিপিএস, শেয়ার্ড নামক ভিন্ন ভিন্ন বিভাগে গার করেছেন। তারপর তা ভিন্ন ভিন্ন মূল্য সেট করে দিলেন। এরপর বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীর কাছে ভাড়া দিলেন এবং হোস্টিং ব্যবহার করার অনুমতি দিলেন। অর্থাৎ আপনি অন্যের থেকে একটি বাড়ি কিনে তা নিজের নাম কিরে অন্য ব্যক্তিদের কাছে ভাড়া দিচ্ছেন।
হোস্টিং সার্ভার কি?
যখন একটি ওয়েবসাইট হোস্টিংয়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, তখন ঐ ওয়েবসাইটের সকল ডাটা নির্দিষ্ট হোস্টিং সার্ভারে জমা হয়। আর এই সার্ভারকেই Hosting Server বলে। একটি নির্দিষ্ট হোস্টিং সার্ভারে কাস্টমারদের সকল ব্যাকআপ, ফাইল, পাসওয়ার্ডের সকল ডাটা স্টোর থাকে।
Hosting কিভাবে কাজ করে -ঃ
আমরা জানি, ডোমেইনের সাহায্যে কোন হোস্টিংকে পয়েন্ট করা হয়। যখন কোন ইউজার ইন্টারনেটে ডোমেইন নেম সার্চ করে, তখন ঐ ডোমেইনের IP Address হোস্টিংয়ের সঙ্গে পয়েন্ট করে। ডোমেইন এবং হোস্টিংয়ের মধ্যে একটা কানেকশন তৈরি করে।
ডোমেইনকে হোস্টিংয়ের সঙ্গে কানেক্টেড হবার জন্য DNS (ডোমেইন নেম সিস্টেম) ব্যবহার করা হয়। DNS এর দ্বারা ডোমেইন বুঝতে পারে নির্দিষ্ট ডোমেইনটি কোন সার্ভারের সঙ্গে কানেক্টেড আছে। যেহেতু ইন্টারনেটে প্রচুর সার্ভার স্টোর আছে, তাই DNS নির্দিষ্ট ডোমেইনটি কোন সার্ভারে কানেক্টেড এটি খুঁজে বের করার পর নির্দিষ্ট হোস্টিংয়ে যুক্ত করে।
DNS এর মাধ্যমে ডোমেইন নেইম নির্দিষ্ট Server এ পয়েন্ট করার পর, hosting নির্দিষ্ট IP Address টি থেকে অনুমতি পায়। তারপর হোস্টিং সার্ভার অনুমতি দিলে, সে হোস্টিংয়ের সকল ডাটা ভিজিটকারী দেখতে ও পড়তে পারে। এই সব কিছু ঘটনা কয়েক সেকেন্ডে ঘটে। তাই ভিজিটররা এসব কিছু বুঝতেই পারে না। তার ইন্টারনেটে সবকিছু নিমিষেই দেখতে পায়।
সঠিক হোস্টিং কি দেখে নির্বাচন করবেন -ঃ
নতুন অবস্থায় প্রথমবারের জন্য হোস্টিং কিনতে হলে কিছু জিনিস মাথায় রাখতে হবে। তারপর হোস্টিং কিনতে হবে। কারণ একটি হোস্টিং ওয়েবসাইটের অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে। এজন্য নিচে আমার দেয়া তথ্যগুলো মনযোগ দিয়ে পড়ুন। তারপর আপনার পছন্দমত Hosting কিনুন।
Uptime -:
হোস্টিংয়ের মূল কাজ হল আপনার ডোমেইনকে সবসময় ভিজিটরদের কাছে তুলে ধরা। এবং আপনার ওয়েবসাইটকে ইন্টারনেটের সামনে ধরে রাখা। বর্তমানে এমন অনেক Hosting আছে যা অনেক সময় ডাউন হয়ে যায়। আর বারবার ডাউন হবার কারণে অনেক সময় ওয়েবসাইটটি ইন্টারনেট থেকে সরে যেতে পারে। এজন্য হোস্টিং কেনার আগে জেনে নিন। যে কোম্পানি ৯৯.৯℅ আপটাইম দেবার গ্যারান্টি দেয় সে কোম্পানি নির্বাচন করুন।
Speed -:
ওয়েবসাইটের প্রধান জিনিস হল স্পিড।যদি আপনার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে দেরি হয়। তাহলে ভিজিটর আপনার সাইটে প্রবেশ না করে অন্য সাইটে প্রবেশ করবে। কারণ ইন্টারনেটে প্রচুর ওয়েবসাইট রয়েছে যা একই প্রকার তথ্য প্রদান করে। এজন্য ভিজিটর ওয়েবসাইট খোলার অপেক্ষায় থাকবে না, সে সঙ্গে সঙ্গে অন্য সাইটে চলে যাবে।
এজন্য পূর্বেই আপনি যে হোস্টিং নিতে চাচ্ছেন তার স্পিড টেস্ট করে নিবেন। এটি করতে যেসকল ইউজার পূর্বে থেকেই ঐ কোম্পানির হোস্টিং ব্যবহার করে, আপনি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। ওয়েবসাইটের স্পিড অনেক সময় এসইওর উপর প্রভাব ফেলে। যদি আপনার ওয়েবসাইটের স্পিড কম হয় গুগল আপনার ওয়েবসাইটকে গুরুত্ব কম দিবে।
Bandwidth -:
আপনার ব্লগে প্রতি সেকেন্ডে কতটুকু ডাটা এক্সেস করা যায় সেটাই ব্যান্ডউইথ। যদি হোস্টিংয়ের ব্যান্ডউইথ কম পরিমাণ হয়, তাহলে আপনার ব্লগে বেশি ভিজিটর আসলে সাইট স্লো হয়ে যাবে। এজন্য যদি সম্ভব হয় আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ সহ হোস্টিং কিনুন।
Disk Space -:
হোস্টিংয়ের প্রধান বিষয় হল হোস্টিংয়ের জায়গা। যেখানে আপনার ব্লগের সমস্ত ডাটা জমা হয়ে থাকবে। মোবাইলের মেমোরি কার্ডের মত হোস্টিংয়েরও ডিস্ক স্পেসের একটি লিমিট থাকে। আর হোস্টিংয়ের ডিস্ক স্পেস শেষ হয়ে গেলে আপনি নতুন কোন ডাটা হোস্টিংয়ে রাখতে পারবেন না। এজন্য এবিষয়টি মাথায় রেখে আনলিমিটেড ডিস্ক স্পেস সহ হোস্টিং কিনুন।
Customer Support -:
যে কোম্পানি থেকে হোস্টিং কিনবেন, তারআগে দেখে নিন তাদের সাপোর্ট সিস্টেম কেমন। মাঝে মাঝে টেকনিক্যাল জ্ঞান না থাকার কারণে হেল্প এবং সাপোর্টের দরকার হয়। কারণ হোস্টিংয়ে মাঝে মাঝে অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে। যা নিজে নিজে ঠিক করা সম্ভব নাও হতে পারে। এজন্য হোস্টিং কেনার পূর্বে অবশ্যই দেখে নিবেন তাদের কাস্টমার সাপোর্ট কেমন।
Security -:
একটি ওয়েবসাইটে সবথেকে বেশি যে জিনিস খেয়াল রাখতে হবে, সেটি হল নিরাপত্তা। যদি আপনার হোস্টিং কোম্পানি ওয়েবসাইটে নিরাপত্তা না দেয় তাহলে আপনার ডেটাগুলো চুরি হবার ভয় থাকে। এজন্য যে কোম্পানি ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করে সেসব কোম্পানি বাছাই করুন। ওয়েবসাইটের জন্য SSL Certificate একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। SSL Certificate ওয়েবসাইটে ব্যবহারের করলে সাইটের সিকিউরিটি অনেক।
আপনার ওয়েবসাইটের সবথেকে যে বড় জিনিসটি নজরে রাখতে হবে, সেটি হল সিকিউরিটি। যদি আপনার হোস্টিং কোম্পানি, আপনার ওয়েবসাইটের জন্যে সিকিউরিটি প্রদান না করে তাহলে আপনার ওয়েবসাইটের তথ্য গুলি চুরি হবার ভয় থাকে। এইজন্য যে ওয়েব হোস্টিং কোম্পানি, ওয়েব-সাইটের সিকিউরিটি বৃদ্ধি করে, এরকম কোম্পানি বাছাই করুন।
Money Back Guarantee -:
অনেক সময় হোস্টিং সার্ভিস ব্যবহার করার সময়, ওই হোস্টিংয়ের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।এজন্য ঐ হোস্টিংয়ের সার্ভিস ছেড়ে অন্য কোম্পানিতে যাবার দরকার হয়। এজন্য আপনি হোস্টিং কিনতে চাইলে যে কোম্পানি মানিব্যাগ গ্যারান্টি দেয় এধরণের কোম্পানি থেকে হোস্টিং কিনুন।যাতে পরবর্তীতে যেকোনো সময় ওয়েবসাইট অন্য সার্ভারে স্থানান্তর করতে পারেন।
শেষ কথা -ঃ
আমি চেষ্টা করেছি আপনাদের ভেঙে ভেঙে বুঝাতে। এজন্য ভাল করে মনযোগ দিয়ে এর সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা করুন। উপরোক্ত আর্টিকেল সম্পর্কে কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই নিচে কমেন্ট বক্সে জানাবেন। তাছাড়া আজকে আমাদের এই আর্টিকেল যদি আপনার ভাল লাগে তাহলে অবশ্যই শেয়ার করবেন। সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।


