আমরা আজকের এই কন্টেন্টে শেয়ার বাজার এর বিষয়ে সম্পূর্ণ বিস্তারিত জানার চেষ্টা করব। অনেকেই শেয়ার মার্কেটকে আবার “stock market” বলেন।
আপনি যদি এখন পর্যন্ত শেয়ার মার্কেট শব্দটি না শুনে থাকেন, তবুও শেয়ার মার্কেট কি? (what is share market?) এই বিষয়টি বুঝতে আপনার অল্প সময় লাগবে।

আমরা প্রায় প্রত্যেক ব্যক্তিই একটু বেশি টাকা উপার্জন করার জন্য প্রত্যেক সম্ভব উপায়ের খোঁজ করে থাকি। আর যখন খুব কম সময়ে প্রচুর টাকা উপার্জন করা যায়, তখন অনেকেই share market এর কথা চিন্তা করে থাকি।
তবে share market বা stock market যাই বলুন না কেন, এগুলো থেকে কখনো সরাসরি টাকা উপার্জন করা যায় না। এটা হল একটি ইনভেস্টমেন্ট অপশন, যেখানে টাকা রেখে বা বিনিয়োগ করে তা থেকে প্রচুর লাভ করা সম্ভব।
আমরা অনেকেই প্রয়োজনীয় খরচের বাহিরের অতিরিক্ত টাকা save বা সঞ্চয় করে থাকি। আবার অনেকেই save বা সঞ্চয় করতে bank fixed deposit, mutual fund, recurring deposit এসব মাধ্যম ব্যবহার করেন।
তবে এধরণের সঞ্চয়ের মাধ্যমে কখনো আমরা অধিক রিটার্ন বা interest পাই না। এক্ষেত্রে শেয়ার বাজার হলো এমন একটা বিনিয়োগ ব্যবস্থা যেখানে টাকা বিনিয়োগ করে অন্যান্য মাধ্যমগুলোর চেয়ে বিনিয়োগের বিপরীতে অধিক টাকা আয় করা যায়।
শেয়ার মার্কেট থেকে যেমন অধিক মুনাফা রিটার্ন পাবার সুযোগ রয়েছে, ঠিক তেমনি বিনিয়োগের টাকা পুরোপুরি ডুবে যাওয়ার বা সম্পূর্ণ লোকসানের সম্ভাবনাও রয়েছে।
এজন্য চলুন আজ আমরা শেয়ার মার্কেট কি? (share market in bengali) এবং শেয়ার বাজার কিভাবে কাজ করে? এবিষয়গুলো সম্পূর্ণভাবে বুঝে নেই।
শেয়ার বাজার কি?
শেয়ার মার্কেট বা স্টক মার্কেট হলো সেই জায়গা যেখানে শেয়ার বা স্টক কেনা সম্ভব। প্রতিটি Share or Stock Market এর মধ্যে বিভিন্ন কোম্পানির মালিকানা অধিকার তালিকা করা থাকে।
Also Read
যেগুলোকে unit হিসেবে প্রকাশ করা হয়। উদাহরণ – যেমন ধরুন আপনি XYZ নামের একটি কোম্পানির ২০০ টি শেয়ার কিনেছেন। তার মানে হল আপনি এখন XYZ কোম্পানির ২০০ ইউনিট শেয়ার এর মালিক।
আর এভাবেই আপনি XYZ কোম্পানির একজন শেয়ারহোল্ডার হয়ে গেলেন এবং আপনি চাইলে যেকোনো সময় আপনার ২০০টি শেয়ার বিক্রয় করতে পারবেন।
আপনি যখন কোন কোম্পানির share ক্রয় করবেন, তখন সেই কোম্পানিতে আপনার টাকা invest করা বুঝাবে। আপনি যেহেতু কোন কোম্পানিতে টাকা invest বা বিনিয়োগ করেছেন, এজন্য ভবিষ্যতে যদি কোম্পানির লাভ বেশি হয়, সেখান থেকে আপনি investor হিসেবে কোম্পানির থেকে লভ্যাংশ পাবেন।
অপরদিকে যদি কোম্পানির অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যায় বা কোম্পানির লোকসান হয়, তাহলে আপনার invest করা টাকাও জলে যাবে। এককথায় শেয়ার কেনার পর কোম্পানির লাভ হলে সেখান থেকে আপনি লভ্যাংশ পাবেন।
আর কোম্পানির লোকসান হলে সেই ভাগও আপনার বহন করতে হবে। সুতরাং কোম্পানির parformance বা উন্নতির উপর আপনার লাভ লোকসান পুরোটা নির্ভর করছে।
stock বা share bazar হল এমন এক সমষ্টি যেখান থেকে বিভিন্ন buyers এবং সেলাররা বিভিন্ন কোম্পানির স্টক/শেয়ার ক্রয়/বিক্রয় করতে পারে। এটা এমন একটা মার্কেট যেখান থেকে অনেক ব্যক্তি অনেক উপার্জন করছে অথবা অনেক টাকা লোকসান করছেন।
আপনি যখন কোন কোম্পানির share ক্রয় করবেন, তখন আপনিও সেই কোম্পানির অংশীদার হবেন। আপনি যতটুকু invest করবেন সেই হিসেবে আপনি ঐ কোম্পানির কিছু পার্সেন্ট মালিক হবেন।
share bazar থেকে টাকা উপার্জন করা যেমন সহজ, ঠিক তেমনি সম্পূর্ণ বিনিয়োগের টাকা হারিয়ে ফেলাও অনেক সহজ।
আশা করছি উপরোক্ত আলোচনা থেকে শেয়ার বাজার বলতে কি বুঝায় (about share bazar in bengali) বিষয়টি আপনি বুঝতে পেরেছেন। এখন আমরা শেয়ার মার্কেটের সঙ্গে জড়িত আরও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত জানব।
[ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে জানতে এই পোস্ট টি পড়ুন- ডিজিটাল মার্কেটিং কি? কিভাবে ডিজিটাল মার্কেটার হবেন? ]
শেয়ার মার্কেট কিভাবে কাজ করে?
শেয়ার বাজার হচ্ছে এমন জায়গা যেখানে স্টক/শেয়ার ক্রয় – বিক্রয় করা হয়। বিভিন্ন স্টোক ব্রোকার এবং ট্রেডার্সরা এখানে stock ক্রয় করেন এবং বিক্রয় করেন।
বিশ্বের প্রায় প্রতিটি বড় দেশগুলোতে স্টক এক্সচেঞ্জ (stock exchange) রয়েছে, যেখানে share ক্রয়-বিক্রয় করা সম্ভব। যেমন- বাংলাদেশের stock exchange এর নাম হল- “dhaka stock exchange” এবং “chittagong stock exchange”।
আর ভারতের stock exchange এর নাম হল- national stock exchange of india. যেসব কোম্পানি তাদের শেয়ার বিক্রয় (trade) করতে চায় তারা প্রথমে স্টক এক্সচেঞ্জ এ গিয়ে রেজিস্টার করে।
Primary market এবং secondary market কি ?
স্টক এক্সচেঞ্জ এর মূল দুটি ভাগ রয়েছে। ১ম টি হল primary market যেখানে শুধু ১ম বারের জন্য stock (স্টক)/সিকিউরিটিজ গুলো তৈরি করে।
প্রাইমারি মার্কেটের মধ্যে কোম্পানিগুলো ১ম বারের জন্য তাদের স্টক এবং বন্ডস ( stocks and bonds) গুলোকে জনগণের কাছে অফার (offer) করে।
এরপর কোম্পানির নতুন stock /share গুলোকে initial public offering (IPO) এর মাধ্যমে primary market এ ছাড়া হয়।
২য় টি হল সেকেন্ডারি মার্কেট। যেখানে সেই স্টক/শেয়ারস গুলোকে বিভিন্ন ইনভেস্টরদের দ্বারা ক্রয়-বিক্রয় (trade) করা হয়। Equity শেয়ার, preference শেয়ার, treasury বিল, debentures, বন্ড ইত্যাদি এধরণের product আপনারা সেকেন্ডারি মার্কেটে পাবেন।
stock market কিভাবে কাজ করে?
stock market কিভাবে কাজ করে চলুন এবার আমরা স্টেপ বাই স্টেপ জেনে নেই। প্রাইমারি মার্কেটে প্রথম বারের জন্য IPO এর মাধ্যমে ১টি কোম্পানি লিস্ট হয়ে থাকে।
তারপর সেই কোম্পানির share secondary market এ প্রচার করা হয়। তারপর নতুন জারিকৃত কোম্পানির stock /share গুলো secondary market এর মধ্যে trade বা ক্রয়-বিক্রয় করা সম্ভব।
স্টক এক্সচেঞ্জ এর সাথে registered বিভিন্ন স্টক ব্রোকার দ্বারা যেকোনো ব্যক্তি কোন কোম্পানির শেয়ার ক্রয় বিক্রয় করতে পারেন।শেয়ার/স্টক ক্রয় বিক্রয় করার জন্য আপনার demat account এবং trading account তৈরি করতে হবে।
stock broker রা আপনার হয়ে শেয়ার ক্রয় বিক্রয়ের প্রক্রিয়াগুলো সম্পূর্ণ করে থাকেন। আপনি আজ যত দাম দিয়ে একটি কোম্পানির স্টক কিনেছেন, তার কিছু সময় পরে সেই স্টকের দাম কম-বেশি হতে পারে।
এজন্য কম দামে share ক্রয় করে বেশি দামে বিক্রয় করতে পারলে আপনার লাভ হবে।
share /stock এর দাম কম-বেশি কেন হয়?
share market কাজ করে ডিমান্ড এবং সাপ্লাই এর উপর ভিত্তি করে। মার্কেটের বিভিন্ন চাপের ওপর স্টকের দাম নির্ভর করে।
যখন কোন কোম্পানির share বিক্রির চেয়ে লোকজন কেনার জন্য আগ্রহী থাকে, তখন সেই stock এর চাহিদা বাড়ে। আর stock এর চাহিদা (demand) বৃদ্ধির কারণে তার দামও বাড়ে।
পক্ষান্তরে যখন কোন কোম্পানির share ক্রয় করার চেয়ে লোকজন বিক্রয় করতে আগ্রহী হয় তখন সেই stock এর সরবরাহ (supply) বাড়ে।
আর চাহিদার চেয়ে সাপ্লাই বেশি হলে সেই stock এর দামও কমে। জনগণ কখন কোন কোম্পানির share অধিক পরিমাণে কিনবেন নাকি বিক্রি করবেন, সেটা বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে।
মিউচুয়াল ফান্ড কি ? কিভাবে ইনভেস্ট করা যায়?
শেয়ার /স্টকের দাম কম-বেশি হওয়ার কারণ হল “ডিমান্ড এবং সাপ্লাই “। যখন শেয়ারের ক্রয় বা চাহিদা যখন বেশি থাকে তখন তার দাম বাড়ে। আর শেয়ারের বিক্রয় বেশি হলে চাহিদা কমে এবং বাজারে তা সাপ্লাই বা সরবরাহ বাড়ে।
ফলস্বরূপ সেই শেয়ারের দাম দিন দিন কমে। শেয়ার এর ডিমান্ড এবং সাপ্লাই আরও অন্যান্য অনেক বিষয়ের উপর নির্ভর করে।কেন মানুষ একই কোম্পানির share অধিক পরিমাণে ক্রয় করেন বা বিক্রিয় করে থাকেন?
এই প্রশ্নের উত্তরটি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে। নিম্নে কিছু বিষয় সম্পর্কে আলোকপাত করা হল-
Company share issues:
যখন কোন শেয়ার জারি হয় তখন কোম্পানি নতুন শেয়ার গুলোকে জনগণের কাছে উপস্থাপন করে। অর্থাৎ সাধারণ জনগণের কাছে শেয়ার ক্রয়ের জন্য শেয়ার গুলোকে লিস্ট করানো হয়।
আর প্রতিটি কোম্পানির দ্বারা একটি সীমিত পরিমাণ share প্রচার করা হয়। এরপর যদি মানুষ সেই কোম্পানির share ক্রয় করতে ইচ্ছুক হয়, তাহলে সেই share এর চাহিদা বাড়ে আর সরবরাহ কমে। আর share এর দাম বাড়লে কোম্পানির লাভ হয়।
Share buyback:
share buyback হলো যখন কোন কোম্পানি তার নিজের share নিজে কিনে নেয়। কারণ যাতে তার কোম্পানির share এর supply কমে যায়।
শেয়ার বাইব্যাক এর মাধ্যমে কোম্পানি তার নিজের share ক্রয় করে market থেকে তার মোট share এর পরিমাণ কমিয়ে নেয়। এতে, শেয়ারের দাম বাড়ার সম্ভাবনা থাকে এবং কোম্পানি প্রতিটি শেয়ার থেকে অধিক লাভ করে।
Sellers:
Sellers মানেই হলো ইনভেস্টটর বা বিনিয়োগকারী, যারা শেয়ার ইতিমধ্যেই কোন এক সময় শেয়ার কিনে রেখেছিলেন। আর বিনিয়োগকারীরাই শেয়ারগুলোকে যখন বিক্রয় করে তখন তারা অধিক পরিমাণে শেয়ার/স্টক বাজারে ছাড়েন।
আর যখন investor রা অধিক পরিমাণে একই শেয়ার বিক্রয় করেন, তখন সেই share এর সাপ্লাই বৃদ্ধি পায়। এজন্য শেয়ার মার্কেটে স্টকের দাম কমে আসে।
সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার শুধু লাভ (profit) করার জন্য অথবা যখন শেয়ারের মূল্য (value) প্রচুর পরিমানে কমে তখন বিক্রয় করে।
Other reasons:
কোম্পানির বিভিন্ন নিউজের জন্য মার্কেটে শেয়ার এর ডিমান্ড এবং সাপ্লাইয়ের উপর বিস্তার প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন- নতুন পণ্য লঞ্চ, company earning report, missed targets ইত্যাদি।
এধরণের বিষয়গুলো শেয়ার এর ডিমান্ড এবং সাপ্লাইয়ের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কোম্পানির পক্ষ্য ক্ষতিকারক হলে, বাজারে শেয়ারের চাহিদা কমতে পারে।
শেয়ার মার্কেটে শেয়ার কখন কিনতে হয় ?
শেয়ার মার্কেট কি, এবিষয়টি সম্পর্কে ইতিমধ্যে আপনার সামান্য হলেও আইডিয়া হয়েছে হয়তো। এখন stock market এ ইনভেস্ট করার পূর্বে আপনাকে শেয়ার মার্কেট সম্পর্কে আরও কিছু সাধারণ জ্ঞান নিতে হবে।
শেয়ার কখন, কোন সময়ে ক্রয় করবেন? এই প্রশ্নের উত্তর অনেকভাবে হতে পারে।যখন কোন কোম্পানির শেয়ার এর মূল্য কম থাকে এবং ভবিষ্যতে সেই মূল্য (value) বাড়ার সম্ভাবনা থাকে তখন আপনি শেয়ার কিনবেন।
আপনি যে কোম্পানির share কেনার চিন্তাভাবনা করেছেন সেই কোম্পানির ব্যাকগ্রাউন্ড অবশ্যই ভালভাবে দেখে নিবেন। অনেক সময় দেখা যায়, মাসের শেষে শেয়ারের দাম বাড়ে এবং মাসের মধ্যম সময় দাম কিছুটা কমে।
এজন্য চেষ্টা করবেন মাসের মাঝামাঝি সময়ে শেয়ার ক্রয় করার। কোম্পানির বিভিন্ন খারাপ নিউজগুলো বেশিরভাগ কোম্পানি সপ্তাহের শেষ দিন মানে শুক্রবার প্রচার করে।
এজন্য সেই খারাপ খবরটি বাজারে প্রতিফলিত হতে প্রায় সোমবার হয়ে যায়। এজন্য সোমবারে সেই কোম্পানির share এর দাম কিছুটা কম হবার সম্ভাবনা থাকে।
এজন্য আমি আপনাকে সোমবার দিন শেয়ার ক্রয় করার জন্য পরামর্শ দিব। টাকা invest করার পূর্বেই আপনাকে ভাবতে হবে কিধরনের কোম্পানিতে আপনি ইনভেস্ট করতে চাচ্ছেন।
শেয়ার বাজারে কোন সময়ে কোন কোম্পানির share এর দাম বাড়ল বা কমে গেল সেদিকে একটু খেয়াল রাখুন। কিছুদিন এটার উপর নজর দেওয়ার পর আপনার কিছুটা হলেও আইডিয়া হবে।
তবে শেয়ার বাজারে প্রচুর ঝুঁকি (risk) কখন কোন কোম্পানি নিচে নামবে (down) হবে সেটা কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না। এজন্য আপনি যখন আর্থিকভাবে সাবলম্বী হবেন বা অতিরিক্ত (extra) টাকা আপনার কাছে থাকবে কেবল তখন শেয়ার মার্কেটে ইনভেস্ট করুন।
ভারতে এবং বাংলাদেশে শেয়ার মার্কেটে টাকা কিভাবে ইনভেস্ট করবেন ?
বছর কয়েক আগেও শেয়ার মার্কেটে টাকা টাকা invest করা অনেকটা ঝামেলার ছিল। তবে বর্তমান সময়ে আপনি অনলাইন বা offline যেকোনো ভাবে অনেক সহজে শেয়ার বা trade করতে পারবেন।
ভারত থেকে শেয়ার বাজারে শেয়ার কেনার জন্য একটি demat account থাকতে হবে। আর বাংলাদেশ থেকে শেয়ার বাজার থেকে শেয়ার কেনার জন্য একটি বিও (Beneficiary Owner’s) একাউন্ট থাকতে হবে।
ভারতের জন্য ডিম্যাট একাউন্ট আর বাংলাদেশের জন্য বিও একাউন্ট। তবে এদুটি শুধু নামে ভিন্ন কিন্তু কাজ একই, দুটি দুই দেশের জন্য প্রযোজ্য।
একটি ব্যাংক একাউন্টে যেভাবে আমরা টাকা রাখি,ঠিক তেমনি ডিম্যাট বা বিও একাউন্টে আমরা আমাদের শেয়ারগুলোকে রাখব। এজন্য শেয়ার মার্কেটে ইনভেস্ট করার পূর্বে একটি ডিম্যাট বা বিও একাউন্ট থাকা জরুরি।
অনলাইন এবং অফলাইনে অনেক stock broker আছে, যাদের দ্বারা আপনারা এই একাউন্ট গুলো তৈরি করতে পারবেন। শেয়ার trading করে যা লাভ হবে সেই লাভের অংশ আপনার Dimat বা BO একাউন্টে জমা হবে।
আর আপনার demat বা BO একাউন্টের সঙ্গে অবশ্যই ব্যাংক একাউন্ট সংযুক্ত থাকবে। এতে আপনি লাভের টাকা বা stock বিক্রির টাকা সরাসরি ব্যাংকে ট্রান্সফার করতে পারবেন।
স্টোক ব্রোকাররা stock exchange এর সদস্য এজন্য তাদের মাধ্যমে আমরা শেয়ার মার্কেটে trading করতে পারি। আমরা সরাসরি স্টক মার্কেটে গিয়ে share কিনতে পারবোনা।
সুতরাং যদি আপনার শেয়ার বাজারে টাকা বিনিয়োগ করার ইচ্ছা থাকে, তাহলে আপনি সর্বপ্রথম কোন stock broker এর সাথে যোগাযোগ করুন। এরপর প্রয়োজনীয় documents দিয়ে নিজের একটি demat বা BO একাউন্ট তৈরি করুন।
তারপর আপনি নিজে নিজে বা স্টোক ব্রোকারের সাহায্যে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবেন। বর্তমান সময়ে এমন অনেক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, যার সাহায্যে আপনি ঘরে বসে একটি demat বা BO একাউন্ট তৈরি করতে পারবেন।
তবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তার বিষয়ে আপনাকে আমি কিছু বলতে পারবোনা। সেটা আপনাকে নিজে নিজে যাচাই করে নিতে হবে।
শেয়ার মার্কেটের সঙ্গে সম্পর্কিত জরুরি কিছু শব্দঃ
এখন আমরা শেয়ার মার্কেটের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় কিছু শব্দের সঙ্গে পরিচিত হব-
- Share/stock: Share মানে হল ভাগ বা অংশীদার। যখন শেয়ার মার্কেটে আমরা কোন কোম্পানির কিছু ইউনিট ক্রয় করি তখন সেই ভাগকে share /stock বলা হয়।
- Stock exchange: Stock exchange হলো এমন জায়গা যেখানে স্টোক ব্রোকার এবং ট্রেডার্সরা share of stock, বন্ড ইত্যাদি trading (ক্রয়-বিক্রয়) করে থাকে।
- IPO: “Initial Public Offering (IPO)”, হল এমন পদ্ধতি যেখানে কোন কোম্পানি তাদের share ১ম বারের জন্য primary market এ launce বা প্রচার করে।
- BO: Beneficiary Owner’s বা BO হল সেই একাউন্ট যেটা বাংলাদেশ থেকে শেয়ার trading করার জন্য অনেক বেশি জরুরি এবং গুরুত্বপূর্ণ।
- Demat account: Demat account হল সেই একাউন্ট যা ভারত থেকে শেয়ার ট্রেডিং করার জন্য অনেক জরুরি এবং গুরুত্বপূর্ণ। Demat account এবং BO একাউন্টে আপনার শেয়ারস বা অন্যান্য financial securities ( যেমন- mutual fund, bonds, shares, insurance ইত্যাদি) গুলোকে ইলেকট্রনিক format এ store বা সংরক্ষণ করে রাখা হয়।
- Face value: শেয়ার মার্কেটে যেই দাম দিয়ে কোন কোম্পানির share ১ম বারের জন্য share market এ list করা হয়, সেই দামকে শেয়ার এর ফেইস ভ্যালু বলা হয়।
- Close price: প্রতিদিন শেয়ার বাজারে ট্রেডিং করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে। যেমন- সকাল ১০ থেকে বিকেল ৫ পর্যন্ত শেয়ার বাজারে ট্রেডিং করা যাবে। এখানে ট্রেডিংয়ের সময় যেই শেষ দামে স্টক ট্রেড করা হয় সেটাই হল close price.
শেষ কথাঃ
শেয়ার মার্কেট বলতে কি বুঝায় এবিষয়টি বুঝতে একটু কষ্ট হতে পারে। আমি চেষ্টা করেছি আপনাদের ভেঙে ভেঙে বুঝাতে। এজন্য ভাল করে মনযোগ দিয়ে এর সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা করুন।
উপরোক্ত আর্টিকেল সম্পর্কে কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই নিচে কমেন্ট বক্সে জানাবেন। তাছাড়া আজকে আমাদের এই আর্টিকেল যদি আপনার ভাল লাগে তাহলে অবশ্যই শেয়ার করবেন।
আর নিয়মিত নতুন কিছু শিখতে আমাদের সাথেই থাকুন। সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।


