মানি ম্যানেজমেন্ট টিপস উদ্যোক্তাদের জন্য ফলো করা কেন জরুরি?

5/5 - (5 votes)

প্রিয় পাঠক আমরা সকলেই জানি বিজনেস মানেই হলো ঝুঁকি। আর উদ্যোক্তা হবার জন্য যখন চিন্তা করেছেন তখন ঝুঁকিকে সামনে রেখেই এগিয়ে যেতে হবে।

মানি ম্যানেজমেন্ট টিপস

ব্যবসায়িক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানি ম্যানেজমেন্ট। আপনি যতই চিন্তাভাবনা করে উদ্যোক্তা হবার জন্য পা রাখেন না কেন, যদি মানি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে জ্ঞান না থাকে তাহলে কোনভাবেই ব্যবসায়ে সফলতা পাবেন না।

যখন থেকেই ব্যবসায়িক পরিকল্পনা শুরু করবেন তখন থেকেই পরিপূর্ণ বাজেট নির্ধারণ করতে হবে। কারণ পরিকল্পনার উপরে নির্ভর করবে আপনি ব্যবসায় ঠিক কতটুকু সফল হবেন।

সেই সঙ্গে ব্যবসার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় মানি ম্যানেজমেন্ট (Financial) তো ঠিক রাখতে হবেই। ছোট কিংবা বড় প্রতিটি উদ্যোক্তাদের জানতে হবে কিভাবে টাকার সদ্ব্যবহার করতে হয়।

আজ আমরা মানি ম্যানেজমেন্ট বিষয় সম্পর্কে জানতে চলেছি। সুতরাং আমাদের সাথেই থাকুন। তাহলে আর দেরি না করে চলুন শুরু করা যাক।

১। বাজেট নির্ধারণ করা

বাজেট পরিকল্পনা মানি ম্যানেজমেন্ট -itshohorbd
বাজেট পরিকল্পনা

ছোট কিংবা বড় যেকোনো বিজনেসের জন্য বাজেট তৈরি করা জরুরি। বাজেটে সকল প্রকার ব্যয়ের এমনকি ভবিষ্যতে কত টাকা আয় হতে পারে সেটাও যুক্ত করা উচিৎ।

বাজেট এমনভাবে সাজানো উচিৎ যাতে সেটা নমনীয় হয় এবং খুভ সহজে বোঝা যায়। নতুন কিংবা পুরাতন উদ্যোক্তাদের জন্য মানি ম্যানেজমেন্ট বিষয়টি অনুসরণ করা অতিব জরুরি।

কারণ এটি না করলে ব্যবসার মূলধন, আয় ও ব্যয়ের সব হিসাবের বাহিরে চলে যাবে। তাতে করে ব্যবসার ম্যানেজমেন্টে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হবে

বাজেট নির্ধারণের মাধ্যমে নিয়মিত আর্থিক স্টেটমেন্ট পর্যালোচনা করা যায়। আবার বিজনেসের সকল খরচের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখাটা সহজ হয়। বর্তমান যুগে বাজেটের জন্য আপনি কিছু আধুনিক টুলস অথবা সফটওয়্যারের ব্যবহার করতে পারেন।

সাধারণত বর্তমানে মাইক্রোসফট এক্সেল এবং গুগুল শীট বিজেনেসের রেকর্ড রাখতে এবং বাজেট তৈরি করতে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ব্যবসা শুরু দিজে বাজেট নির্ধারণ করতে প্রফেশনাল কাউকে নিয়োগ দেবার প্রয়োজন নেই।

বর্তমানে অনলাইনে প্রচুর রিসোর্স রয়েছে। যেখানে থেকে আপনি বাজেট এবং বিজনেস রেকর্ড মেইনটেইন করার জন্য বিভিন্ন তথ্য পাবেন।

২। ক্যাশ ফ্লো অর্গানাইজ রাখা

ক্যাশ ফ্লো হচ্ছে বিজনেসে যে আয় এবং ব্যয়ের খাতিরে যে অর্থ আসা যাওয়া এটাকেই বলে। কয়েকটি বিভাগে ভাগ করলে এটি বুঝতে সুবিধা হয়। যেমন – ফাইনান্সিং, অপারেটিং এবং ইনভেস্টিং এক্টিভিটি ইত্যাদি।

অর্গানাইজ ক্যাশ ফ্লো দ্বারা আপনি বুঝতে পারবেন আপনার ব্যবসা বর্তমান সময়ে কোথায় দাঁড়িয়ে আছে। ক্যাশ ফ্লো খারাপ হলে আপনাকে ঋণ পরিশোধ করতে আরও পরিশ্রম করতে হবে।

আর ভাল হলে ঋণ পরিশোধ হয়েছে এবং ব্যবসা ভালভাবে চলছে। অর্গানাইজ ক্যাশ ফ্লো এর জন্য আমার পক্ষ থেকে কয়েকটি পরামর্শ হলো –

  • ক্যাশ ফ্লো নিয়মিত দেখা।
  • অতিরিক্ত খরচ কম করা।
  • যে সম্পদ কখনো প্রয়োজন হবে না সেগুলো বিক্রি করা।
  • মোবাইল পেমেন্টসের মত সর্বশেষ প্রযুক্তির ব্যবহার করা।
  • সবসময় ঋণ মুক্ত থাকার চেষ্টা করা।

৩। ইমার্জেন্সি ফান্ড তৈরি করা

ইমার্জেন্সি ফান্ডকে অনেক সময় অনিশ্চিত পরিকল্পনার ফান্ড ও বলা হয়ে থাকে। সবসময় বিজনেসে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে কিছু টাকা আলাদা করে রাখতে হয়। যেকোনো বিপদ আসলে এই টাকার সদ্ব্যবহার করা যায়।

অধিকাংশ অভিজ্ঞদের পরামর্শ হলো কমপক্ষে তিন থেকে ছয় মাসের জন্য পর্যাপ্ত টাকা আলাদা রাখা। এর সংখ্যা কত হবে সেটি নির্দিষ্ট নয়। অনেক কমও হতে পারে আবার অনেক বেশিও হতে পারে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে ব্যবসার নিরাপত্তা রক্ষা করা।

৪। সতর্কতার সাথে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা

ক্রেডিট কার্ডের একটি সুবিধা হলো সকল লেনদেনের হিসাব রাকা যায় অটোমেটিক্যালি। ম্যানুয়াল ভাবেও রাখা সম্ভব। তাতে আবার ভুল হবার সম্ভাবনা একটু বেশি থাকে।

কোন কারণে যদি হিসাবে গড়মিল হয়ে যায়,তাতে বিজনেসে বিরাট ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। এজন্যই ব্যবসায়ীদের জন্য মানি ম্যানেজমেন্টের পরামর্শে আরো একটি পয়েন্ট হলো এই ক্রেডিট কার্ড।

যখন ব্যবসা শুরু করবেন তখন যেকোনো ব্যাংকে একটি একাউন্ট খুলে নিবেন। শ্রমিকদের বেতন থেকে শুরু করে যত প্রকার লেনদেন আছে সব একটি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে করবেন।

মনে রাখবেন, ক্রেডিট কার্ডের সঠিক ব্যবহার না করতে পারলে আর্থিক সংকটে পড়তে পারেন। এজন্য সবসময়ই লিমিটের মধ্যে থেকে ব্যয় করতে হবে। আর মাসের খরচের হিসাব সবসময় মাসেই রাখার চেষ্টা করবেন।

ডেবিট কার্ড এবং ক্রেডিট কার্ড নিরাপদ রাখার টিপস পেতে এই পোস্ট টি পড়ুন-

৫। প্রতিটি ট্র্যানজেকশনের ট্র্যাক রাখা

নতুন ব্যবসায়ীদের জানা উচিৎ কোথায় কত টাকা খরচ হচ্ছে এবং সেটি কিভাবে হচ্ছে। লেনদেনের ট্র‍্যাক করা হলে ব্যবসার প্রকৃত ছবি দেখা যায়।

বর্তমানে বিভিন্ন অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন প্রতিদিনের ট্র‍্যানজেকশনকে আরো অনেক বেশি সহজ করে দিয়েছে আগের তুলনায়।

৬। ফুল টাইম কর্মী নিয়োগ না দেয়া

বিজনেসের শুরুতেই অনেক ব্যবসায়ী ভাবেন তারা ব্যবসার শুরু থেকেই অভিজ্ঞ এবং প্রফেশনাল ব্যক্তিদের নিয়োগ দিবেন। আর এসব অভিজ্ঞ এবং প্রফেশনাল ব্যক্তিরা তাদের ব্যবসার সকল কাজ করে দেবে।

কিন্তু ব্যবসায়ীরা খরচের ব্যাপারে তেমন একটা চিন্তাভাবনা করে না। ব্যবসার শুরুতে ব্যবসায়ীদের শুধুমাত্র বেসিক স্যালারি নিয়ে চিন্তাভাবনা করা উচিৎ, এর বাহিরে আর অন্য কিছু না। যেমন- জিনিপত্রের বিভিন্ন খরচ, অফিস ভাড়া ইত্যাদি।

এরকম খরচের হাত থেকে আপনাকে বাঁচাতে পারে বিভিন্ন আউটসোর্সিং। আপনি ফুল টাইমের কর্মী নিয়োগ না দিয়ে ফ্রিল্যান্স হিসেবে অল্প কয়েকজনকে নিয়োগ দিতে পারেন।

বর্তমান সময়ে অনেকেই আছেন যারা ঘরে বসে কাজ করতে আগ্রহী। এদের নিয়োগ দিলে অফিসে কর্মী সামলানোর ঝামেলা কম হয়। আবার অল্পতেই কাজ হয়ে যায়।

৭। ডিজিটালি মনিটরিং করা

বর্তমান যুগ আধুনিক যুগ। যদি আপনি ব্যবসাকে ডিজিটালের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান তাহলে আপনি ভবিষ্যতে বেশ ভালো করতে পারবেন। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন একাউন্ট দিয়ে আপনি বর্তমানে প্রচুর মুনাফা অর্জন করতে পারবেন। আপনি ডিজিটাল ভাবে যে কাজগুলো করতে পারবেন তা হলো –

  • অনলাইন কোর্স তৈরি করতে পারেন এবং আপনার ফলোয়ারদের বিভিন্ন কিছু শিক্ষা প্রদান করতে পারেন।
  • বিভিন্ন পণ্য বিক্রি কতে এবং ফলোয়ারদের বিভিন্ন সার্ভিস অফার করতে পারেন।
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন।
  • সোশ্যাল মিডিয়া শপ তৈরি করতে পারেন।
  • মার্কেটিং করতে নিজের ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারেন। ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং করা যেতে পারে।

৮। ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক খরচ আলাদা রাখা

ব্যবসার খরচের সঙ্গে কখনো ব্যক্তিগত খরচ না মেশানো উচিৎ। দুটি খরচ আলাদা থাকলে অর্থ বছরের আয়কর রিটার্ন দিতেও সুবিধা হয়। এই টিপস অনুসরণ করতে আপনি নিচের কিছু টেকনিক অনুসরণ করতে পারেন –

  • ব্যবসার জন্য সম্পূর্ণ আলাদা আইনি পরিচয় অথবা লিগ্যাল আইডেন্টিটি ক্রিয়েট করুন।
  • ব্যবসা থেকে নিজেকে বেতন দিন।
  • আপনি যে বেতন নিচ্ছেন সেগুলোর রিসিট আলাদা করে রাখুন।
  • ব্যবসার জন্য আলাদা ক্রেডিট এবং ডেবিট কার্ড তৈরি করুন।
  • ব্যক্তিগত এবং ব্যবসার যে খরচ হচ্ছে সেগুলোর ট্র‍্যাক রাখুন।
  • EIN (Employer Identification) নিয়ে রাখুন।

৯। অবগত থাকা ও শেখা

ব্যবসায়িক জীবন মানেই হলো জীবনভর শেখার প্রস্তুতি। যখন আপনি একজন উদ্যোক্তা হবেন, তখন আপনার সেক্টর সম্পর্কে ভালো জানাশোনা থাকতে হবে।

সেই সঙ্গে প্রযুক্তি এবং ব্যবসার ইকোনমি পালটানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই পরিস্থিতিতে নিজের সিদ্ধান্ত বদলানোর মানসিকতা থাকতে হবে।

উদ্যোক্তা মানেই হলো নতুন নতুন চিন্তাচেতনা নিয়ে কাজ করা, বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা এবং সমাজ প্লাল্টানোর মন মানসিকতা রাখা। এটা কেবলমাত্র তখনই সম্ভব যখন আপনি কোন সমস্যার ব্যাপারে জানবেন।

সর্বশেষ প্রযুক্তি দ্বারা আপনি ব্যবহারকারী, প্রোডাক্ট মার্কেট ও ব্যবসার প্রকৃত পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে পারবেন। বর্তমানে আধুনিক যুগে জানার জন্য বিভিন্ন পডকাস্ট, ম্যাগাজিন, অনলাইন কোর্স এবং সোশ্যাল মিডিয়া রয়েছে।

তবে হ্যাঁ, সব সময় সকল তথ্য গ্রহণযোগ্য নয়। এর মাঝে যে তথ্য গ্রহণযোগ্য আপনাকে শুধুমাত্র সেটিই গ্রহণ করতে হবে।

মানি ম্যানেজমেন্ট এর ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা কোন ভুলগুলো বেশি করেন?

মানি ম্যানেজমেন্ট উদ্যোক্তাদের ভুল -itshohorbd
মানি ম্যানেজমেন্ট উদ্যোক্তাদের ভুল

ব্যবসাতে উত্থান এবং পতন থাকবেই। তবে না বুঝে বিজনেস শুরু করলে হোঁচট খাবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। বুঝেশুনে ব্যবসা শুরু করলে সাধারণত এই ভুলগুলো এড়ানো সম্ভব। উদ্যোক্তারা সাধারণত মানি ম্যানেজমেন্টে যেসব ভুলগুলো করে থাকে –

  • পর্যাপ্ত মূলধন থাকে না।
  • পেমেন্ট প্রসেসের সুবিধা ভোগ করে না।
  • অনেক সময় বিল পেমেন্ট করতে দেরি করে।
  • ছোট ছোট খরচের হিসাব রাখে না।
  • অতিরিক্ত কোন অর্থ অর্গানাইজ করে রাখে না।
  • ইমার্জেন্সি ফান্ড তৈরি করে না।
  • ব্যবসার উত্থান এবং পতনের কোনো খোঁজ রাখে না।
  • ফ্রি রিসোর্সের ব্যবহার করে না।
শেষ কথা –

মানুষ মাত্রই ভুল। সুতরাং কাজ করলে আপনার কম-বেশি ভুল হবেই। সেইসব ভুল থেকে আপনার অনেক কিছু শিখতে হবে। আপনার যদি শেখার ইচ্ছা না থাকে, তবে পরবর্তী ধাপে কিভাবে যাবেন?

নতুন যারা উদ্যোক্তা হচ্ছেন তাদের জন্য মানি ম্যানেজমেন্ট একটু চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। এজন্য আপনাকে মানি ম্যানেজমেন্ট এর ব্যাসিক প্রিন্সিপাল সম্পর্কে জানতেই হবে। সেই সঙ্গে বর্তমানে সবকিছু সহজে করতে ডিজিটাল টুলসের ব্যবহার করা শিখতে হবে।

প্রিয় পাঠক আশা করছি মানি ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে আপনি সামান্য কিছু ধারণা পেয়েছেন। আপনি যদি একজন উদ্যোক্তা হতে চান তবে এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত জ্ঞান আপনাকে রাখতে হবে।

আজ এপর্যন্তই, লেখাটি ভালো লাগলে বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করবেন। নিয়মিত নতুন কিছু শিখতে আমাদের সাথেই থাকুন।

Share Is Caring.. ❤️

           

আসসালামু আলাইকুম। আমি পেশায় একজন চাকুরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। আমি ব্লগ পড়তে এবং আর্টিকেল লিখতে পছন্দ করি। অবসর সময়ে ব্লগে বিভিন্ন বিষয়ে লিখে শেয়ার করে থাকি।

1 thought on “মানি ম্যানেজমেন্ট টিপস উদ্যোক্তাদের জন্য ফলো করা কেন জরুরি?”

  1. You are so interesting! I don’t believe I’ve read a single thing like this before.
    So wonderful to discover another person with some
    original thoughts on this topic. Really.. many thanks for starting this up.
    This website is one thing that’s needed on the web, someone with a little originality!

    Reply

Leave a Comment