প্রিয় পাঠক, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অনলাইন বিজনেসে রিমার্কেবল সাফল্যের পিছনে ফানেলের ভূমিকার কথা উঠে আসাতে বর্তমানে ফানেলের বাজার বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে। আপনি যদি সঠিকভাবে বিজনেস করতে চান তাহলে সেলস ফানেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আপনি যদি মার্কেটিং ফানেল ছাড়া ব্যবসা করেন তবে আপনার সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছানো কখনই সম্ভব হবে না। অন্যদিকে, কিছু ডিজিটাল মার্কেটার এবং অনলাইন ব্যবসায়ীরা ফানেল ব্যবহার করে তাদের ব্যবসার আয় বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।
আপনি যদি ব্যবসায় সাফল্য পেতে চান বা একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হতে চান, তাহলে আপনার ডিজিটাল মার্কেটিং ফানেল সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা থাকতে হবে। কারণ সাফল্যের নীতিবাক্য আসলে এই ফানেলের ভিতরে লুকিয়ে আছে।
আপনি যখনই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, ই-কমার্স বিজনেস ইত্যাদির পরিকল্পনা করেন, প্রথমে আপনাকে এই ফানেল সম্পর্কে চিন্তা করতে হবে। আপনার যদি এটি সম্পর্কে মাথাব্যথা না থাকে তবে আপনার ব্যবসার মার্কেটিং ঠিক হবে তবে প্রত্যাশিত সেল হবে না।

তাই প্রথম প্রথম একটু সেল হলেও, এক সময়ে এসে সেলস সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাবে। তাই এই ফানেল প্রত্যেকের ব্যবসার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক বিক্রয় ফানেল সম্পর্কে জানতে হবে, আজ এই গুরুত্বপূর্ণ ফানেলের ধাপ এবং গুরুত্ব এবং সঠিক সেল ফানেলের বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
ফানেল কি?
আসুন প্রথমেই জেনে নেই ফানেল আসলে কি। ফানেল জিনিসটি একটি যাত্রা, একটি গ্রাহকের বা কাস্টমারের যাত্রা। তিনি এই যাত্রায় সম্ভাব্য বায়ার হিসাবে শুরু করে একজন পরিপূর্ণ বায়ার হওয়ার পরে এই যাত্রা শেষ করেন। অর্থাৎ, তার যাত্রা এবং যাত্রার ঘটনার মধ্য দিয়ে তিনি বায়ার হয়েছিলেন, এই পুরো জিনিসটিকে ফানেল বলা হয়।
সেলস ফানেল কি?
সেলস ফানেল (Sales Funnel) হল এক ধরনের মার্কেটিং মডেল। আপনার পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছানোর জন্য আপনি যে পথ অনুসরণ করবেন তাই সেলস ফানেল।
Also Read
সহজ কথায়, মার্কেটিং ফানেল হল একটি পদ্ধতি, যা গ্রাহকের পুরো যাত্রা জুড়ে গাইডের ভূমিকা পালন করে। ব্র্যান্ডের সাথে প্রথম মিটিং থেকে শুরু করে গ্রাহকদের কাছ থেকে পণ্য/পরিষেবা কেনা পর্যন্ত।
সেলস ফানেলের ধাপ
বিক্রয় ফানেল (Sales Funnel) ভিন্ন রকম হতে পারে। কিন্তু এই ফানেলের মূল বিষয়গুলি বা বেসিক একই থাকে। এই ফানেলের মৌলিক ৪টি ধাপ একটি বিক্রয় করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
যখন কেউ কিছু ক্রয় করে, তার মধ্যে এই ৪টি ধাপ শেষ হওয়ার পরেই ক্রয় করে থাকে। আপনি যদি এইভাবে মার্কেটিং বা ব্যবসায়িক মডেল না করেন তাহলে আপনি সবসময় কাস্টমার হারাবেন।
Awareness (অবগত) করা
আপনাকে পণ্য সম্পর্কে সবাইকে জানান দিতে হবে। এক কথায়, এটি প্রথমে পরিচিত করতে হবে। যদিও অনেক পণ্য অনেকের কাছে পরিচিত, তবুও আপনি যে নির্দিষ্ট পণ্যটি বিক্রি করতে চান সে সম্পর্কে আপনার অডিয়েন্সদের জানাতে হবে।
Interest (আগ্রহ) হওয়া
Awareness করার পর অনেকেই Interested হবে। তার মানে আপনি বিক্রয় পাবার দ্বিতীয় স্তরে আছেন। এবং যদি আপনি আর এক ধাপ অতিক্রম করতে পারেন, তাহলে বিক্রির সম্ভাবনা অনেক গুণ বেশি হবে।
Desire (সিদ্ধান্ত) নিবে
কাস্টমার যখন আগ্রহী হবে তখন সে সিদ্ধান্ত নিবে পণ্যটি কিনবে কি কিনবে না। এটিই শেষ স্তর। এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে তিনি তা কিনবেন।
Action (ক্রয়) করা
যখন একজন গ্রাহক সমস্ত পদক্ষেপ অতিক্রম করে তখন তিনি অবশ্যই পণ্য কিনবেন। তখনই আমরা আমাদের ব্যবসায় সেলস জেনারেট করতেছি।
বিজনেস বৃদ্ধির জন্য সেলস ফানেল কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বেশিরভাগ সময় আমরা সরাসরি সেলস জেনারেট করতে চাই। কিন্তু যখন একজন গ্রাহককে হঠাৎ করে কিনতে বলা হয়, তখন সে আপনার ব্যবসাকে বিশ্বাস করবে না, তাই বেশিরভাগই ক্রয় করতে চাইবে না।
আপনি নিজের সম্পর্কে চিন্তা করেন, আপনি কি কোন পণ্য দেখে যাচাই ছাড়াই কিনতে চান? উপরের ৪টি ধাপ অনুসরণ করে আপনি কিছু না জেনেও কিনছেন।
সুতরাং, আপনি যদি এই ৪টি ধাপে পণ্যটি নিজেই কিনে থাকেন তবে আপনার গ্রাহকরা এখনই কেন পণ্যটি কিনবেন?
যারা ফেসবুকে ব্যবসা করেন তাদের জন্য এই ফানেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ফেসবুকে একটি নির্দিষ্ট উপায়ে এই মার্কেটিং ফানেলের ব্যবস্থা করে আরও বেশি বিক্রি করা যেতে পারে।
আপনি যদি চান, আপনি একজন দক্ষ ফেসবুক মার্কেটারের মাধ্যমে সেলস ফানেল অনুযায়ী মার্কেটিং করতে পারেন। মার্কেটিং এর জন্য দক্ষতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আপনি যদি একজন অদক্ষ মার্কেটারের মাধ্যমে সেলস মার্কেটিং করতে চান এটিই হবে সবচেয়ে বড় ভুল। দক্ষতা ছাড়া ব্যবসার উন্নয়ন হয় না।
এগুলো পড়তে পারেন –
সেলস ফানেল কিভাবে কাজ করে?
বাজারে সাধারণত তিন ধরনের ক্রেতা থাকে:
প্রথমত
এই ধরনের ক্রেতারা পণ্যটি কিনতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তিনি নিজেই পণ্য ক্রয় করার জন্য খুঁজছেন। বিক্রেতাকে খুঁজে পেলে তিনি পণ্যটি কিনতে প্রস্তুত। তাই পণ্যটির বিজ্ঞাপন তার চোখে দেখা গেলেই পণ্যটি বিক্রি করা হবে।
তারা হলো হট কাস্টমার। তবে বাজারে তাদের সংখ্যা খুব বেশি নয়। প্রায় ১০ শতাংশ হট কাস্টমার বাজারে রয়েছে। একটি উদাহরণ এখানে দেওয়া যেতে পারে। আজকাল নেটওয়ার্ক ছাড়া জীবন কঠিন হয়ে পড়েছে। মানুষ কম দামে আরও বেশি মেগাবাইট চায়।
এই ধারণাকে লক্ষ্য করে স্কিটো সিম ব্র্যান্ডিং করা হয়েছে। তারা কম দামে বেশি মেগাবাইট প্রচার করেছে। তাই যারা হট কাস্টমার ছিলেন তারা স্কিটো সিম কিনতে ছুটে আসছেন।
দ্বিতীয়ত
এই ধরনের গ্রাহকদের পণ্য না কিনলেও চলে। কিন্তু তাদের মার্কেটিং ফানেল তৈরির মাধ্যমে ইম্প্রেস করা যায়। পণ্য সম্পর্কে লোভনীয় বিজ্ঞাপন, প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা তৈরি, বিভিন্ন অফার তাদের মন জয় করতে পারে। এই পর্যায়ে, তাদের ক্রেতাতে রূপান্তর করা একটু সহজ। বাজারে তাদের সংখ্যা মাত্র ৩০ শতাংশ।
তৃতীয়ত
এই ধরনের ক্রেতাদের পণ্য কেনার কোনো ইচ্ছা নেই এবং তারা পণ্যের সার্ভিস সম্পর্কেও জানেন না। এটা হতে পারে যে তাদের পণ্য সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণা রয়েছে।
তাদের বলা হয় কোল্ড কাস্টমার। বাজারে তাদের সংখ্যা ৬০ শতাংশ। এই ধরনের কোল্ড কাস্টমারদের সাধারণত একটি সেলস ফানেল তৈরি করে টার্গেট করা হয়। তাদের বিজ্ঞাপন দেয়ার মাধ্যমে পণ্য সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
তাদের বলা হয় কিভাবে কোম্পানির পণ্য তাদের জন্য কাজ করবে। কীভাবে পণ্যগুলি ব্যবহার করবেন তা তাদের উপকার করবে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে। তাদের সামনে এই ধরনের বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন উপস্থাপন করার মাধ্যমে তারা পণ্যের গুরুত্ব উপলব্ধি করে।
তারা মনে করেন যে তারা পণ্যটি ক্রয় করলে ভাল হবে। কিছু শ্রম লাঘব হবে। এই সব সম্পর্কে চিন্তা করে, তারা পণ্য কিনতে আগ্রহী হয় এবং এক পর্যায়ে তারা পণ্যটি কিনে নেয়। এইভাবে, একটি কোল্ড কাস্টমারদের এই ফানেলের মাধ্যমে একটি হট কাস্টমারে রূপান্তরিত করা যায়।
কিন্তু যদি ডিজিটাল মার্কেটিং ফানেল তৈরি না করা হয় তাহলে কোল্ড কাস্টমারদের কাছ থেকে অর্ডার পাওয়া যাবে না। এখন আপনাকে অবশ্যই বুঝতে হবে কিভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং ফানেল কাজ করে। তাই ব্যবসা শুরু করার আগে ডিজিটাল মার্কেটিং ফানেলের গুরুত্ব অনুভব করুন। এটা কিভাবে তৈরি করতে হয় তা নিয়ে ভাবুন।
সেলস ফানেল মার্কেটিং সহযোগিতা
আপনি যদি সঠিক উপায়ে সেলস ফানেল তৈরি করতে না পারেন তবে আপনার কাস্টমার অন্যত্র চলে যাবে। আপনি বিক্রয় পাবেন না। আমরা কিছু বোতলে তরল ঢালতে চোঙ্গা ব্যবহার করি।
এই চোঙ্গাকে ইংরেজিতে ফানেল বলা হয়। চোঙ্গাতে ফোটা থাকলে তরল চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে। সুতরাং আপনি যদি একটি ফানেল তৈরি করেন তবে আপনাকে ফানেল খুব ভাল করে তৈরি করতে হবে।
না হলে তরল (কাস্টমার) চারপাশে ছড়িয়ে পড়বে। আমাদের বোতলের মধ্যে পড়বে না, অর্থাৎ আমাদের সেলস জেনারেট হবে না। তাই দক্ষ মেটা মার্কেটারের সাহায্য নিন।
মার্কেটিং ফানেলের মাধ্যমে, ব্যক্তির সঙ্গে ব্রান্ডের জানাশোনা এবং সম্পর্কের সূত্রপাত হলেও পণ্য বা সেবা নেয়ার জন্য যে ধরনের আস্থা সম্পর্কের দরকার হয় সেই সম্পর্ক তৈরি করতে, সম্পর্কের যত্ন নিতে, যে ধরনের বিশ্বস্ততা তোলা “নাহ! আমি যা চাই বা চাই বা একে দিয়ে আমার কাজটা হবে” এমন বিষয়গুলো নিয়েই সেলস ফানেল কাজ করে।
সেলস ফানেলের মাধ্যমে, ব্র্যান্ডের একটি তুলনামূলক চিত্র সেই ব্যক্তির সামনে ধরা হয় যার মাধ্যমে ব্যক্তি বুঝতে পারে যে ব্র্যান্ডটি অন্যান্য ব্র্যান্ডের সাথে তুলনায় কেমন? কোথায় ভাল? কতটুকু ভাল?
তখনই এমন কিছু কন্টেন্ট ব্যক্তির কাছে উপস্থাপন করা হয় যা ব্র্যান্ডের পক্ষ থেকে তার সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতি দেয়, যা দেখে সে অবশেষে কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। ক্রয়ের সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করতে বিনামূল্যে ট্রায়াল বা ডেমোস্ট্রেশন করা হয়।
শেষ কথা
প্রিয় পাঠক আশা করা যায় যে এই নিবন্ধটি পরে আপনি এই ফানেলে বিশেষজ্ঞ হয়ে আপনার ব্যবসার বিক্রয় বাড়াতে সক্ষম হবেন। এবং যদি আপনার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সফল হলে, আমাদের প্রচেষ্টা সার্থক হবে। আজকের আর্টিকেল সম্পর্কিত কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকলে কমেন্ট বক্সে জানাতে ভুলবেন না।



