ডেস্কটপ কম্পিউটার না ল্যাপটপ? কোনটা ভাল এবং কোনটা কিনবেন?

5/5 - (2 votes)

সাধারণত অধিকাংশ ব্যক্তিবর্গই নিজেদের ঘরে এবং অফিসে একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার ব্যবহার করা বেশি সুবিধাজনক এবং লাভজনক মনে করেন। তবে বর্তমানে ল্যাপটপ ব্যবহারের জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়ে যাবার ব্যাপারটা আমরা অনেকেই কিন্তু জানি। কারণ ল্যাপটপ ব্যবহারের সুবিধার দিকে লোকজন আজ চোখ দিচ্ছে।

ডেস্কটপ কম্পিউটার নাকি ল্যাপটপ কোনটা কিনবেন
ডেস্কটপ কম্পিউটার নাকি ল্যাপটপ

আপনি যদি ঘরের বা অফিসের জন্য কোনটা ভাল হবে সে ব্যাপারে ভাবছেন। ডেস্কটপ না ল্যাপটপ কিনবেন সেটা নিয়ে কনফিউজড তাহলে আজকের এই নিবন্ধে আপনার নিজের প্রশ্নের উত্তর খুব সহজেই পাবেন। ডেস্কটপ কম্পিউটারের সুবিধা কি ও অসুবিধা কি এবং ল্যাপটপ কম্পিউটারের সুবিধা কি ও অসুবিধা কি? সেসব বিষয়ের উপর আলোচনা করব। পরিশেষে আপনি ভালভাবে বুঝে যাবেন যে,  আপনার জন্য কোনটা পারফেক্ট হবে।

ডেস্কটপ কম্পিউটার না ল্যাপটপ – কোনটা ভালো এবং কেন ?

যেগুলো আমি উপরে বললাম, কম্পিউটার না ল্যাপটপ এর মধ্যে কোনটা কিনবেন? এপ্রশ্নের উত্তর জানতে আপনাকে সর্বপ্রথম জানতে হবে ডেস্কটপ কম্পিউটার এবং ল্যাপটপ কি? এছাড়া এই দুটি ডিভাইসের মধ্যে কি কি পার্থক্য রয়েছে। আর সবশেষে কম্পিউটার এবং ল্যাপটপ ব্যবহারের সুবিধা এবং অসুবিধা জানার পর, কোনটা আপনার জন্য পারফেক্ট হবে সেটা আপনি ঠিক করতে পারবেন।

ডেস্কটপ কম্পিউটার মানে কি ? (What Is A Desktop Computer)

একটি Desktop Computer হচ্ছে এমন এক ডিভাইস যা বিভিন্ন digitalized ডাটার মাধ্যমে ইনফরমেশন গ্রহণ করে। এরপর সে বিভিন্ন প্রোগ্রাম, সফটওয়্যার বা process ব্যবহার করে আমাদের সমাধান দেয়।

একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার পুরোপুরি ব্যবহার করার জন্য বিভিন্ন অংশের প্রয়োজন হয়ে থাকে। এই অংশগুলোকে এক্সটার্নাল হার্ডওয়্যার এবং ইন্টারনাল হার্ডওয়্যার বলা হয়।

তবে, এসব হার্ডওয়্যার গুলো ল্যাপটপেও পাওয়া যায়। তবে ল্যাপটপের গুলো সব একত্রে লাগানো থাকে। এজন্য ল্যাপটপের জন্য অধিক জায়গার প্রয়োজন হয় না।

কিন্তু ডেস্কটপ কম্পিউটারের এসব হার্ডওয়্যার গুলো আলাদা ভাবে CPU ক্যাবিনেটের ভিতরে থাকে। আর ডিসপ্লে পাওয়ার জন্য মনিটর স্ক্রিন আলাদা থাকে। এজন্য এক্ষেত্রে অধিক জায়গার প্রয়োজন হয়। এজন্য ডেস্কটপ পিসি একটি জায়গায় স্থায়ীভাবে রেখে দিতে হয়।

ডেস্কটপ কম্পিউটার রাখার জন্য আপনার একটি টেবিল বা ডেস্কের প্রয়োজন হবে। তাই এধরণের পার্সোনাল কম্পিউটারকে ডেস্কটপ কম্পিউটার বলা হয়। গেমিং করার জন্য গেমারস রা অধিকাংশই এধরন ডেস্কটপ কম্পিউটার ব্যবহার করেন। এছাড়াও অফিসে এই Desktop Computer এর ব্যবহার অত্যাধিক। আশা করি Desktop Computer কি? এবিষয়টি আপনি বুঝতে পেরেছেন।

ল্যাপটপ মানে কি ? (What Is A Laptop)

ল্যাপটপ কম্পিউটার এমনেক পোর্টেবল কম্পিউটার ডিভাইস যা সম্পূর্ণভাবে ডেস্কটপ কম্পিউটারের মতই কাজ করে। এটিও একটি পার্সোনাল কম্পিউটার যাকে। অনেকেই নোটবুক পিসি বলে। একটি ল্যাপটপে সকল প্রকার হার্ডওয়্যার পার্টস একসঙ্গে লাগানো থাকে।

যেমন ডিসপ্লের জন্য LCD Screen, কী-বোর্ড, মাউস বোর্ড এবং ব্যাটারি সবকিছু একসঙ্গে যুক্ত থাকে।এজন্য আপনি আপনার ল্যাপটপ যেকোনো জায়গায় সহজে বহন করতে পারবেন। আর ব্যবহার করতে আপনার খুব বেশি জায়গার প্রয়োজন হবে না।

তবে ডেস্কটপ কম্পিউটারের তুলনায় ল্যাপটপের স্ক্রিন সাইজ তুলনামূলক ছোট হয়ে থাকে। এজন্য ল্যাপটপ আপনি ভ্রমণের সময়ও ব্যবহার করতে পারবেন। আশা করি উপরোক্ত আলোচনা থেকে ল্যাপটপ মানে কি সেটা বুঝতে পেরেছেন।

ডেস্কটপ কম্পিউটারের সুবিধা কি কি ?

১। Upgrade Hardware anytime

ডেস্কটপ কম্পিউটার এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল “এটা সহজে আপগ্রেড সম্ভব।” অর্থাৎ যেকোনো সময় কম্পিউটারের যেকোনো অংশ বা hardware change (পরিবর্তন) করতে পারবেন। প্রয়োজনে আরো উন্নত হার্ডওয়্যার লাগিয়ে নিতে পারবেন।

উদাহরণ – যদি আপনি চান তবে বাজার থেকে হার্ডডিস্ক কিনে এনে, Desktop Computer এর storage space আরও বাড়িয়ে নিতে পারবেন। একইভাবে RAM, Processor ও লাগাতে পারবেন। মনিটর স্ক্রিন, Graphics card এসবকিছু আপনি আপনার সময়মত বাড়িয়ে নিতে পারবেন।

২। Possible to use larger display screen

ডেস্কটপ কম্পিউটার ব্যবহার করলে আপনি অনেক বড় ডিসপ্লে স্ক্রিন পাবেন। বিশেষ করে গেইম খেলার জন্য গেমাররা। এরপর ভিডিও এডিটিং এর জন্য বা অন্য কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে অনেকেই ২২ ইঞ্চি বা তার চেয়েও বড় LCD /LED স্ক্রিন ব্যবহারের কথা ভাবেন।

এজন্য আপনি যদি নিজের প্রয়োজনে একটি বড় স্ক্রিন ব্যবহার করতে চান, তাহলে এটা শুধুমাত্র ডেস্কটপ কম্পিউটারের ক্ষেত্রেই সম্ভব।

৩। Cheaper than laptops & tablets

ডেস্কটপ কম্পিউটার ল্যাপটপ বা ট্যাবলেটের তুলনায় অনেক কম খরচে ক্রয় করতে পারবেন। আপনি যে হার্ডওয়্যার কনফিগারেশনের ল্যাপটপ ৪০ হাজার টাকায় বাজারে পাবেন। সেই একই হার্ডওয়্যার কনফিগারেশনের ডেস্কটপ কম্পিউটার ২৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকায় পেয়ে যাবেন। অর্থাৎ ল্যাপটপ বা ট্যাবলেট এর তুলনায় একই ক্ষমতার ডেস্কটপ কম্পিউটার এর দাম অনেক কম।

৪। Can be assembled as per needs

আপনার বাজেট এবং প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে হার্ডওয়্যার একত্রিত করে একটি Desktop Computer তৈরি করা সম্ভব। এতে আপনার টাকা বাজেটের চেয়ে খরচ কম হবে। সেসব হার্ডওয়্যারের আপনার প্রয়োজন নেই, সেগুলোতে প্রয়োজনীয় টাকা খরচ করতে হবে না।

উদাহরণ -যদি আপনি অফিশিয়াল কাজ করতে কম্পিউটার কিনতে চান বা সাধারণ কোন কাজের জন্য। যেমন – ইন্টারনেট ব্রাউজিং করা, সিনেমা দেখা এসব কাজ করার কথা ভাবছেন তাহলে আপনার খুব বেশি শক্তিশালী প্রসেসর, র‍্যাম বা Graphics card লাগানোর প্রয়োজন নেই।

আপনি সহজেই নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রসেসর, র‍্যাম, স্টোরেজ স্পেস সহ কম্পিউটার সেট তৈরি করে খরচ কমাতে পারবেন। এককথায়, ডেস্কটপ কম্পিউটার তৈরি করতে সম্পূর্ণ নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী হার্ডওয়্যার লাগিয়ে নিতে পারবেন। কিন্তু একটি ল্যাপটপে এটা কোনভাবেই সম্ভব নয়। ডেস্কটপ পিসির জন্য এটা একটি বড় সুবিধা এবং লাভ।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে নিশ্চয়ই আপনি ডেস্কটপ কম্পিউটারে লাভ এবং সুবিধা কি কি সেটা বুঝে গেছেন।

ল্যাপটপের সুবিধাগুলো কি কি ?

১। Easy to carry

আপনি যদি যেকোন স্থান থেকে নিজের কাজ করতে চান, তাহলে আপনার জন্য ল্যাপটপ অনেক কাজে দিবে। ল্যাপটপের এই সুবিধা এবং লাভ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আপনি আপনার ল্যাপটপ যেকোনো জায়গায় সহজে বহন এবং কাজ করতে পারবেন।

২। Battery for backup

আপনারা অনেকেই জানেন ল্যাপটপে একটি ব্যাটারি অবশ্যই থাকে। আর সেই ব্যাটারি দিয়ে বিদ্যুৎ ছাড়াই আপনি ল্যাপটপ ব্যবহার করতে পারবেন। একটি ল্যাপটপের এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। আর বর্তমানে অনেকেই এই সুবিধার কথা চিন্তা করে ল্যাপটপ কেনার কথা ভাবেন।

ল্যাপটপের ভিতরে থাকা ব্যাটারি আপনি চার্জ দিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন। একটি ভাল ল্যাপটপের ব্যাটারি চার্জ প্রায় ৬ থেকে ১০ ঘন্টা পর্যন্ত যায়। তবে আলাদা আলাদা ল্যাপটপের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাটারি ব্যাকআপ ক্ষমতা দেয়া থাকে।

৩। Stylish & slim

ল্যাপটপ অধিক জনপ্রিয় হবার এর একটি কারণ হল এটি দেখতে অনেক স্লিম, সুন্দর এবং হালকা হয়। মেটাল ফিনিশিং বা ম্যাট ফিনিশ এর ল্যাপটপগুলো দেখতে অনেক সুন্দর হয়। এজন্য অনেকেই ল্যাপটপের সৌন্দর্যের জন্য ল্যাপটপ ব্যবহার করে থাকে।

৪। Powerful

বর্তমানে প্রায় প্রতিটি ল্যাপটপগুলো অনেক শক্তিশালী হয়। ফলে, আপনারা যেকোনো কাজ খুব সহজে এবং কোন অসুবিধা ছাড়াই করতে পারবেন। তবে একটি ল্যাপটপে কি কি হার্ডওয়্যার কনফিগারেশন থাকবে, সেটা আগে থেকেই নির্ধারণ করা থাকে।

কম্পিউটার এবং ল্যাপটপের মাঝে পার্থক্য

এতক্ষণ আমরা কম্পিউটার এবং ল্যাপটপ এর কিছু লাভ এবং সুবিধা সম্পর্কে জানলাম, এবার আমরা এই দুটি ডিভাইসের মধ্যে কি কি পার্থক্য রয়েছে সেগুলো দেখবো।

  • সর্বপ্রথম যে পার্থক্য রয়েছে সেটা হল দামের পার্থক্য। ল্যাপটপের তুলনায় ডেস্কটপ কম্পিউটারের দাম কিছুটা কম।
  • ল্যাপটপ আপনি বিদ্যুৎ ছাড়াই বেশ কয়েক ঘন্টা অনায়াসে ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু ডেস্কটপ কম্পিউটার বিদ্যুৎ ছাড়া ব্যবহার করা অসম্ভব।
  • একটি ডেস্কটপ কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার কনফিগারেশন আপনার প্রয়োজন এবং বাজেটের হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু ল্যাপটপের ক্ষেত্রে এটিও সম্ভব না, কারণ ল্যাপটপে এগুলো আগেই নির্ধারিত থাকে।
  • ডেস্কটপ কম্পিউটারের ক্ষেত্রে আপনি যেকোনো সময় হার্ডওয়্যার কনফিগারেশন upgrade বা downgrade করতে পারবেন। কিন্তু ল্যাপটপে এই সুবিধা আপনি পাবেন না।
  • একটি ল্যাপটপ ব্যবহার করতে আপনার বেশি জায়গার দরকার হবেনা। এছাড়াও একটি ল্যাপটপ আপনি যেকোনো যায়গায় নিয়ে বা শুয়ে বা বসে যেভাবে ইচ্ছা ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু ডেস্কটপ কম্পিউটার ব্যবহারের জন্য বেশি জায়গার দরকার হবে। যার ফলে এটি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে পারবেন না।
  • বর্তমানে প্রায় প্রতিটি ল্যাপটপ অনেক দামি হয়, বর্তমানে কম-দামি ল্যাপটপ পাওয়া দুস্কর ব্যাপার। কিন্তু ডেস্কটপ কম্পিউটার আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী হার্ডওয়্যার কনফিগারেশন লাগাতে পারবেন বিধায় এটি ১৫ হাজার টাকার মধ্যেও তৈরি করা সম্ভব।

আমরা উপরোক্ত আলোচনা থেকে এই কয়েকটি কম্পিউটার এবং ল্যাপটপের মধ্যে পার্থক্য দেখলাম। তবে শেষ কথা হল কোনটা ভাল? আপনার জন্য কোনটা ব্যবহার করা সুবিধাজনক হবে?

কোনটা ভালো এবং কোনটা কিনবেন ?

এতক্ষণ উপরে আপনারা দেখলেন ডেস্কটপ কম্পিউটার এবং ল্যাপটপ এর এদুটোর আলাদা আলাদা সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। এক্ষেত্রে আপনার নিজের প্রয়োজন, বাজেট এবং চাহিদার উপর ভিত্তি করে যেকোনো একটি কিনতে হবে।

যদি আপনি যেকোনো ভারী কাজ করতে চান যেমন- গেমিং, ভিডিও এডিটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইনিং ইত্যাদি। তাহলে আপনার জন্য ল্যাপটপের চেয়ে ডেস্কটপ কম্পিউটার ভাল হবে।

কারণ গেমিংয়ের জন্য আপনার কিছু এডভান্স হার্ডওয়্যার লাগাতে হতে পারে। আর এটা শুধু ডেস্কটপ কম্পিউটারে সম্ভব। তবে গেমিং করার জন্য অনেক এডভান্স গেমিং ল্যাপটপ বর্তমানে বাজারে পাওয়া যায়, তবে সেগুলোর দাম অনেক বেশি।

কিন্তু আপনি যদি একটা পোর্টেবল ডিভাইস চান, যা আপনি যেকোনো যায়গায় নিয়ে ব্যবহার করবেন বলে ভাবছেন। তাহলে ল্যাপটপ কম্পিউটার আপনার জন্য পারফেক্ট হবে।

অথবা বিদ্যুৎ ছাড়াই যদি আপনি কয়েকঘন্টা কাজ করতে চান, তাহলে এটি শুধু আপনি ল্যাপটপের মধ্যেই পাবেন।

শেষ কথা -ঃ

সবশেষে আমি বলব এই দুটি ডিভাইসের এমন সাধারণ সুবিধা ও অসুবিধা ছাড়া আর বিশেষ কোন পার্থক্য নেই। যে কাজগুলো একটি Desktop Computer করতে পারবে, সেই একই কাজ একটি laptop ও করতে পারবে। এজন্য সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে আপনার জন্য কোনটা ভাল হবে? ল্যাপটপ না কি ডেস্কটপ কম্পিউটার? এবং কোনটি আপনি কিনবেন।

আমাদের লেখাগুলো আপনার কাছে ভাল লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন। এই নিবন্ধ সম্পর্কিত কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকলে তা অবশ্যই নিচে কমেন্ট বক্সে জানাবেন। সম্পূর্ণ পড়াটি মনযোগ দিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

Share Is Caring.. ❤️

           

আসসালামু আলাইকুম। আমি পেশায় একজন চাকুরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। আমি ব্লগ পড়তে এবং আর্টিকেল লিখতে পছন্দ করি। অবসর সময়ে ব্লগে বিভিন্ন বিষয়ে লিখে শেয়ার করে থাকি।

Leave a Comment