একটি ভালো ল্যাপটপ চেনার সহজ ১০টি উপায়

4.2/5 - (4 votes)

প্রিয় পাঠক আপনাদের মধ্যে একটি ভালো ল্যাপটপ কেনার হয়ত অনেকেরই ইচ্ছা আছে। কিন্তু বাজেটের মধ্যে হয়ত একটি ভাল Laptop পাচ্ছেন না কিংবা বাজেটের মধ্যে কোনটা ভাল হবে চিনতে পারছেন না।

একটি ভালো ল্যাপটপ বাছাই কিভাবে করবেন?

এজন্য একটি ভালো ল্যাপটপ ক্রয় করার পূর্বেই কি কি জানা দরকার, সেই বিষয়ে একটু ভাল করে গবেষণা করে নেয়াটা অনেক জরুরি। একটি ভালো ল্যাপটপ এর বৈশিষ্ট্যের বিষয়ে আগে আমি তেমন কিছু জানতাম না। এজন্য আমার প্রথম ল্যাপটপ কেনার পর আমি অনেক আফসোস করেছিলাম। এর কারণ সেই ল্যাপটপ কেনার পূর্বে আমি কারোর কাছ থেকে কোন প্রকার গাইড বা সাজেশন না নিয়েই কিনেছিলাম।

ভালো ল্যাপটপ চেনার উপায় -itshohorbd
ভালো ল্যাপটপ চেনার উপায়

এছাড়াও একটি ভালো ল্যাপটপ এ কি কি থাকতে হয় কিংবা একটি ভালো ল্যাপটপ চেনার কি কি উপায় রয়েছে, সে ব্যাপারেও আমি খুব বেশি জানতাম না। তাই এজন্য আমি অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি, আর প্রায় ৩২ হাজার টাকা দিয়ে এমন একটা laptop কিনেছিলাম, যেটা ব্যবহার করা অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার ছিল।

কারণ, ঐ ল্যাপটপ অনেক ধীর গতির ছিল এবং ল্যাপটপের ডিসপ্লের মান অনেক বাজে ছিল। এছাড়াও হার্ডওয়্যার কনফিগারেশন কিছুটা খারাপ মানের হওয়ায় সেটি কিছুক্ষণ পর পর হ্যাং হয়ে যেত। একারণে ল্যাপটপের বিষয়ে কিছু না জেনে ল্যাপটপ কিনলে আপনার সাথেও এমনটা ঘটতে পারে। এতে করে আপনার ল্যাপটপ ব্যবহার করাটা অনেক অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

তবে, একটি ভালো ল্যাপটপ এ কি কি থাকা প্রয়োজন বা একটি ভাল ল্যাপটপ চেনার উপায়গুলো কি সেগুলো জেনে আমি দিত্বীয়বার একটি laptop কিনি। এবং আমি দিত্বীয় ল্যাপটপটির সঙ্গে অনেক সন্তুষ্ট। আর এই ল্যাপটপ অনেক দ্রুত এবং খুব ফাস্ট কাজ করে। এছাড়াও এই ল্যাপটপটির ডিসপ্লে কোয়ালিটিও সাংঘাতিক মানের। আর আমি দিত্বীয় ল্যাপটপটি মাত্র ২৮০০০ টাকা দিয়েই ক্র‍য় করেছি।

এজন্য, যখনি আপনি একটি ভালো ল্যাপটপ কেনার সিদ্ধান্ত নিবেন তখনি আপনার বাজেট, প্রয়োজন এবং চাহিদার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ল্যাপটপগুলোকে তুলনা (Compare) করে দেখে নিবেন। যে যে ল্যাপটপে আপনার বাজেটের উপর কনফিগারেশন বেশি ভাল থাকবে, সেই ল্যাপটপটিই ক্রয় করবেন।

এছাড়াও ল্যাপটপ কেনার পূর্বে আমি আপনাকে নিচে যে বিষয়গুলি বলতে চলেছি সেসব বিষয়ের উপর খেয়াল রাখবেন। এতে আপনি অবশ্যই একটি ভাল ল্যাপটপ খুব সহজেই নিজের জন্য বেছে নিতে পারবেন।

একটি ভালো ল্যাপটপ চেনার সেরা উপায়গুলো কি কি ?

মার্কেটে কোন ল্যাপটপটি ভাল হবে বা একটি ভাল ল্যাপটপ কিভাবে বাছাই করবেন। সেই বিষয়ে নিজেকে তৈরি করতে নিম্নোক্ত ১০টি বিষয়ের উপর মনোযোগ দিতে হবে। কারণ নিম্নোক্ত এই ১০টি বিষয় একটি খারাপ মানের laptop এবং একটি ভাল laptop এর মধ্যে পার্থক্য বের করবে।

নিম্নোক্ত এই ১০টি বিষয় পড়লে আপনি নিজেই অনুধাবন করতে পারবেন কোন ল্যাপটপটি ভাল মানের কিংবা খারাপ মানের। তবে আপনার মাথায় রাখতে হবে আপনার বাজেটের কথা। কেননা বাজেটের সীমাবদ্ধতাও অনেক সময় ভাল আর খারাপের উপর নির্ভর করে।

এছাড়াও ঠিক কি উদ্দেশ্য নিয়ে আপনি ল্যাপটপ ক্রয় করার কথা ভাবছেন, এই বিষয়টিও অনেক ক্ষেত্রে laptop ভাল কিংবা খারাপ হওয়া নির্ভর করবে। সাধারণ কাজ করতে না গেমস খেলতে কিংবা এন্টারটেইনমেন্ট ও ইন্টারনেট ব্রাউজিং নাকি ভারী সফটওয়্যার ব্যবহার করতে চাচ্ছেন, আপনার laptop কেনার উদ্দেশ্যের ওপরেই নির্ভর করবে ভাল কিংবা খারাপের।

তবে, আপনার বাজেট যতটুকুই হোক একটি ফাস্ট এবং ভাল মানের ডিসপ্লে এবং জরুরি ফিচারস থাকা ল্যাপটপ বাছাই করতে হবে। তাই ভালো ল্যাপটপ কেনার পূর্বেই নিম্নোক্ত এই ১০টি বিষয়ে অবশ্যই আপনার জ্ঞান রাখা উচিত। ল্যাপটপ কেনার পূর্বে জানুন এই ১০ টি জরুরি বিষয়। তাহলে চলুন আর দেরি না করে এখন আমরা জেনে নেই একটি ভালো ল্যাপটপ কেনার পূর্বে কি কি বিষয় মাথায় রাখতে হবে।

১। Latest Windows OS:

একটি ল্যাপটপে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় Windows Operating System. এজন্য একটি ভালো ল্যাপটপ কেনার পূর্বেই দেখে নিতে হবে ঐ ল্যাপটপে Leatest Microsoft Windows Operating System দেয়া হয়েছে কি না। বর্তমানে “লেটেস্ট উইন্ডোজ ওএস” রয়েছে “Windows 10” or “Windows 11”. আর অবশ্যই মনে রাখবেন ল্যাপটপে যেন পুরনো Windows Version যেমন “Windows 7” অথবা “Windows 8” না দেয়া থাকে।

এতে আপনার ল্যাপটপের পারফরম্যান্স (Performance) এ অনেক পরিবর্তন আসবে। কারণ উইন্ডোজ ওএস এর পুরনো ভার্সনের তুলনায় লেটেস্ট উইন্ডোজ ভার্সন অনেক উন্নত মানের। আর বিভিন্ন বিষয়ে এসব লেটেস্ট ভার্সনগুলোতে অনেক ধরনের Improvements (উন্নতি) করা হয়েছে।

এজন্য আপনার ল্যাপটপে অধিক গতি (Fast) এবং কর্মক্ষমতা (Performance) ভাল রাখার জন্য মাইক্রোসফট উইন্ডোজের লেটেস্ট ভার্সন, যেমন “Windows 10 pro” “Windows 10 professional” কিংবা “Windows 11” অবশ্যই ল্যাপটপে দেওয়া থাকতে হবে।

২। Screen / Display quality:

অধিকাংশ বাজেট ল্যাপটপগুলোতে লো কোয়ালিটি বা low resolution Display দেওয়া থাকে। এসব ধরনের ডিসপ্লে গুলোতে 1366×768 কিংবা এরচেয়েও কম রেজুলেশন দেওয়া থাকে। যেখানে সাধারণত আপনি কখনো অধিক স্পষ্ট বা সম্পূর্ণ ক্লিয়ার ডিসপ্লে পাবেন না। তবে সাধারণ কাজ করার জন্য এসব ডিসপ্লে সেরা হয়ত।

কিন্তু মুভি দেখা কিংবা গেইমস খেলার সময় আপনি সম্পূর্ণ তৃপ্তি পাবেন না। এজন্য একটি ভালো ল্যাপটপ কেনার পূর্বেই দেখবেন, সেটা যেন Full HD 1080p বা (1920 × 1080) রেজুলেশন থাকে। এতে আপনি অনেক হাই কোয়ালিটি এইচডি ডিসপ্লে (high quality HD display) পাবেন। যেখানে যেকোনো ভিডিও দেখে, গেইমস খেলে বা কাজ করে পূর্ণ তৃপ্তি পাবেন।

তাছাড়া আপনার বাজেট যদি কিছুটা বেশি হয় তবে আরও ভাল মানের display quality বা resolution থাকা একটি ল্যাপটপ নিতে পারেন। যেমন Retina display 2304×1440, QHD (2560 × 1440) অথবা 2K. এসব অধিক high quality display থাকা ল্যাপটপগুলোর দাম একটু বেশি হবে।

৩। Laptop screen size :

Laptop screen size এবিষয়ে খুব বেশি কিছু বলবোনা। কারণ, এই এবিষয়টি সম্পূর্ণ আপনার নিজের চাহিদার ওপরে নির্ভর করবে। তবে সামান্য কিছু না বললেই নয়।

যেসকল ব্যক্তি ল্যাপটপে অধিক কাজ করেন, এবং ল্যাপটপ নিয়ে ভ্রমণ করেন, তাদের জন্য ১২ থেকে ১৩ ইঞ্চি সাইজের ল্যাপটপ সেরা বলে আমি মনে করি। কারণ ১২ থেকে ১৩ ইঞ্চি সাইজের ল্যাপটপগুলো অনেক হালকা হয়ে থাকে। আর সহজেই যেকোন যায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়।

এধরণের ল্যাপটপ স্ক্রিন সাইযে সামান্য ছোট হয়। এছাড়াও আপনি যদি মুভি দেখা কিংবা গেইমস খেলার জন্য ল্যাপটপ কিনবেন তাহলে ১৫ ইঞ্চি সাইজের ল্যাপটপ আপনার জন্য সেরা হবে। ১৫ ইঞ্চি সাইজের ল্যাপটপ অনেকের কাছেই জনপ্রিয়। আর আপনি যদি একটি বড় স্ক্রিন চান তবে এই সাইজ আপনার জন্য শ্রেষ্ঠ। তবে মনে রাখবেন ১৫ ইঞ্চি ল্যাপটপ সামান্য একটু ভারী হবে এবং সব সময় সঙ্গে বহন করা আপনার জন্য একটু কষ্টসাধ্য হতে পারে।

আর আপনি যদি ল্যাপটপ শুধুমাত্র গেইমস খেলা কিংবা মুভি দেখার জন্য নেন এবং একই জায়গায় রেখে দিবেন সঙ্গে বহন করবেন না, তাহলে ১৭ বা ১৮ ইঞ্চির ল্যাপটপ নিতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন এই সাইজ ল্যাপটপগুলো কিছুটা বেশি ভারী হবে এবং সাথে বহন করাটা অনেক অসুবিধার হবে। এজন্য চেষ্টা করবেন ১৩,১৪ কিংবা ১৫ ইঞ্চি স্ক্রিন সাইজের ল্যাপটপ নিতে।

৪। ল্যাপটপ battery backup :

ল্যাপটপ এর বিশেষত্বই হল একে নির্ধারিত স্থান ছাড়া তাকে ব্যবহার করা। এক্ষেত্রে সবসময় ল্যাপটপকে বিদ্যুৎতের সঙ্গে সংযোগ রেখে ব্যবহার করা কিন্তু অসম্ভব। এজন্য আপনি ল্যাপটপ কাজ করার জন্য বা বিনোদনের জন্য কিনছেন। তখন অবশ্যই চাইবেন আপনার ল্যাপটপটি, যেন প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘন্টা বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াই শুধুমাত্র তার ব্যাটারির ব্যাকআপের সাহায্যে চলতে পারে।

এজন্য ভ্রমণ করার সময় কিংবা অন্য যেকোন সময় ল্যাপটপটি বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াই শুধুমাত্র ব্যাটারি ব্যাকআপের সাহায্যে ৭ থেকে ৮ ঘন্টা চালাতে পারেন। এবিষয়টি অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। এজন্য একটি ল্যাপটপ কেনার পূর্বেই তার ব্যাটারির ব্যাকআপ সম্পর্কে আগে অবশ্যই জেনে নিবেন।

৫। Keyboard & Touch pad quality:

ল্যাপটপ কেনার পূর্বে অবশ্যই তার কীবোর্ড এবং টাচ প্যাড অবশ্যই দেখে নিবেন। অনেক সময় ল্যাপটপ কেনার পূর্বে এই বিষয়টি অনেকেই দেখেননা। আর পরে কীবোর্ড এবং টাচ প্যাড নিয়ে অনেকেই সমস্যার সম্মুখীন পরেন।

এজন্য কীবোর্ডের কোয়ালিটি কিরকম, কীবোর্ডের বাটনগুলো সহজেই আপনার হাতে আসছে নাকি এবং টাচ প্যাড কিরকম, সেগুলো অবশ্যই চেক করে নিবেন।

৬। ল্যাপটপ Processor or CPU :

মূলত CPU বা Processor এর ওপরেই ল্যাপটপের মূল কর্মক্ষমতা নির্ভর করে থাকে। আমাদের মধ্যে অনেকেই প্রায় ৭০% মানুষই ল্যাপটপ কেনার পূর্বে তাতে থাকা প্রসেসর কে কোন রকম যাচাই করেননা। আর কম বা low quality Processor হবার কারণে আমাদের ল্যাপটপ ধীর গতিতে কাজ করে।

মনে রাখবেন, ল্যাপটপে সিপিইউ বা প্রসেসর যত উন্নত মানের হবে ঠিক ততটাই আপনি দ্রুত (fast) এবং ভাল পারফরম্যান্স (performance) পাবেন।

মনে রাখবেন, ল্যাপটপ কিংবা কম্পিউটারে যাই হোক না কেন তাতে থাকা প্রসেসর সবসময় dual core অথবা তারচেয়েও বেশি core নেবার চেষ্টা করবেন। যেমন quad core হলে আপনার ল্যাপটপের পারফরম্যান্স ভালো পাবেন। ল্যাপটপে single core এর প্রসেসর ব্যবহার করা থাকলে তা কখনোই কিনবেননা।

আপনার ল্যাপটপে যদি intel atom,intel celeron dual core, intel pentiup কিংবা AMD A6 processor এর ল্যাপটপ হয়ে থাকে। তবে এই ল্যাপটপ দিয়ে সাধারণ লেখা লেখির কাজ, সাধারণ সফটওয়্যারের ব্যবহার, সাধারণ মানের ভিডিও (Normal quality Videos) দেখা এবং ইন্টারনেট ব্রাউজিং করার জন্য এই সিপিইউ (CPU) যথেষ্ট।

আপনার বাজেট যদি কিছু বেশি হয় এবং আপনি high performance ল্যাপটপ যদি খুঁজেন, তবে intel core i5, intel i3, intel core i7 কিংবা AMD ryzen series প্রসেসর থাকা ল্যাপটপ নিতে পারেন। ভাল গ্রাফিক্স থাকা গেইমস খেলা, ফুল এইচডি ভিডিও দেখা, ভিডিও এডিটিং। এরপর কিছু ভারী ভারী সফটওয়্যার ব্যবহার করার সংগে মাল্টি টাস্কিং (Multi Tasking) কাজ করা এসব প্রসেসর খুব সহজেই করতে পারে।

তাই আপনার ল্যাপটপে যত বেশি উন্নত মানের CPU বা প্রসেসর থাকবে, ঠিক ততটাই শক্তিশালী এবং ফাস্ট ল্যাপটপ কাজ করবে। এছাড়াও যত নতুন জেনারেশনের (generation) প্রসেসর আপনার ল্যাপটপে থাকবে তার পারফরম্যান্স তত ভাল হবে এবং কম ব্যাটারি পাওয়ার ব্যবহার করবে। এজন্য সর্বসময় লেটেস্ট জেনারেশন প্রসেসর দেয়া আছে কি নেই সেবিষয়েও জেনে নিবেন।

৭। Other Hardware Specifications – RAM:

একটি ল্যাপটপ মাঝে মাঝে হ্যাং (hang) না হয়ে খুব দ্রুত (fast) এবং মসৃণ (smooth) ভাবে কাজ করার জন্য ল্যাপটপে থাকা র‍্যাম (RAM) এর গুরুত্ব অত্যাধিক। মনে রাখবেন আপনার ল্যাপটপটিতে যত বেশি RAM থাকবে, তত বেশি কাজ করার ক্ষমতা তার থাকবে। বেশি RAM হলে hang free এবং lag free performance ল্যাপটপ থেকে পাওয়া যাবে।

RAM বেশি হলে আপনার ল্যাপটপ খুব দ্রুত কাজ করবে, দ্রুত এবং সহজে যেকোনো প্রোগ্রাম প্রসেস (Process) করবে। ল্যাপটপ হ্যাং হবার আশংকা অনেক কমে যাবে এবং খুব সহজে মাল্টি টাস্কিং করার যাবে। এজন্য খেয়াল রাখবেন আপনার ল্যাপটপে যেন নূন্যতম 4GB থেকে 8GB RAM থাকে। এবিষয়টি ল্যাপটপ কেনার পূর্বে অবশ্যই জেনে নিবেন।

মনে রাখবেন DDR range এবং RAM frequency যত বেশি থাকবে ল্যাপটপেএ কর্মক্ষমতাও ততটাই শক্তিশালী হবে। এজন্য জেনে নিবেন ল্যাপটপের RAM যেন DDR 3 কিংবা DDR 4 range হয়। বর্তমান সময় কিন্তু DDR 4 এর যুগ। আর এধরণের RAM সবচেয়ে বেশি Advance এবং খুব ফাস্ট কাজ করে।

৮। Laptop Storage Capacity :

সাধারণত আপনি হয়ত ল্যাপটপ কেনার পর কিছু মুভি, গেমস, সফটওয়্যার, গান কিংবা পিকচার রাখেন। এছাড়াও উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করার জন্য ল্যাপটপে কিছু যায়গার প্রয়োজন হয়। এজন্য এসব সাধারণ কিছু জিনিসের জন্য 500GB storage কিংবা hard disk যথেষ্ট।

তবে আরও বেশি গেইমস বা মুভি বেশি পরিমাণে রাখার জন্য 1TB hard disk এর প্রয়োজন হয়। যেহেতু ল্যাপটপকে আমরা ডেস্কটপ পিসির মত আলাদাভাবে কোন extra storage বা hard disk লাগাতে পারিনা, এজন্য প্রথমেই আমাদের উচিৎ বেশি storage space থাকা ল্যাপটপ ক্রয় করা। যেমন, 1TB hard disk..

স্টোরেজ এবং হার্ড ডিস্কের সাথে আরও একটি বিশেষ কথা রয়েছে। বর্তমানে অনেক উন্নত মানের হার্ড ডিস্ক মার্কেটে এসেছে। যেগুলোকে SSD (Solid state drive) বলা হয়। এধরণের এসএসডি হার্ড ডিস্ক সাধারণ HDD storage এর চেয়ে আরও অনেক বেশি উন্নত এবং খুব ফাস্ট কাজ করে।

তবে SSD হার্ড ডিস্কগুলোর দাম সাধারণ হার্ড ডিস্কের চেয়ে অনেক বেশি। এজন্য অধিক প্রয়োজন হলে কিংবা আপনার বাজেট বেশি হলে অবশ্যই SSD storage থাকা laptop ক্রয় করবেন। আর সাধারণ কাজের জন্য 1TB hard disk এমনিতেই যথেষ্ট।

৯। Other features & functions:

উপরোক্ত সব বিষয়ে মনযোগ দেয়ার পর ল্যাপটপের সাধারণ কিছু features এবং functions এর ওপর মনযোগ দিতে হবে। সর্বপ্রথমে সেবিষয়টি দেখবেন তা হল আপনার বাছাইকৃত ল্যাপটপে USB3.0 port আছে কিনা। এধরণের ইউএসবি পোর্টগুলোতে পেনড্রাইভ বা অন্য যেকোন external storage এ খুব দ্রুত file transfer করা সম্ভব।

দ্বিতীয়ত ল্যাপটপে DVD writer আছে কিনা সেটাও দেখে নিতে হবে। যদিও আজকাল dvd disc খুব কমই ব্যবহৃত হয়। কিন্তু আমি মনে করি একটি ডিভিডি ড্রাইভ ল্যাপটপে থাকাটা অনেক জরুরি। কারণ ল্যাপটপে dvd drive থাকলে খুব সহজেই আপনি bootable disc দিয়ে windows format দিতে পারবেন।

তাছাড়া ল্যাপটপে ডিভিডি ড্রাইভ থাকলে বিভিন্ন hardware এর driver software install দিতে পারবেন। আর ল্যাপটপে dvd drive না থাকলে সেগুলো কখনো install করতে পারবেন না। যদিও অনলাইনে driver software download করে ইন্সটল করতে পারবেন তবে সবার পক্ষে এই কাজ সঠিকভাবে করাটা অসম্ভব। এজন্য খেয়াল রাখবেন আপনার ল্যাপটপে একটি ডিভিডি ড্রাইভ আছে তো।

সম্পর্কিত পোস্ট –

১০। Laptop brand matters :

আপনারা অবশ্যই একটি ভালো ল্যাপটপ কেনার পূর্বে ল্যাপটপের brand নিয়ে ভাববেন। কম বাজেটের চক্করে পরে যেকোনো যেই সেই কোম্পানির laptop ভুলেও কিনবেন না। এর বিশেষ একটি কারণ হল ওয়ারেন্টি তে প্রভাব। একটি ভাল brand, যেমন- asus,dell, acer, lenovo, apple এসব কোম্পানির ল্যাপটপগুলো ভাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এগুলোর সার্ভিস সেন্টার আপনি যেকোনো যায়গায় পাবেন।

এজন্য ওয়ারেন্টি মেয়াদের মধ্যে আপনার ল্যাপটপ খারাপ বা নষ্ট হলে খুব সহজেই ফ্রিতেই ল্যাপটপ ঠিক করিয়ে নিতে পারবেন। আর ভাল ভাল ব্র‍্যান্ডের ল্যাপটপ কোম্পানির সার্ভিস সেন্টারগুলোর কাজ এবং প্রতিক্রিয়া (response) অনেক ভাল। তাছাড়া ভাল ব্র‍্যান্ড সবসময় বিশ্বাসী থাকে এবং ল্যাপটপের হার্ডওয়্যার পার্টস অরজিনাল এবং গুনগত মানের থাকে।

এজন্য একটি ভালো ল্যাপটপ বেঁছে নেয়ার পূর্বে অবশ্যই তার ব্র‍্যান্ড বা কোম্পানির দিকে মনোযোগ দিবেন। এতে ভবিষ্যতে আপনার তেমন কোন অসুবিধা হবে না।

শেষ কথা -ঃ

মনে রাখবেন ল্যাপটপের প্রসেসর এবং র‍্যাম যত বেশি উন্নত এবং বেশি ফ্রিকোয়েন্সীর হবে, আপনার laptop তত বেশি পারফরম্যান্স (performance) দিবে। এছাড়াও কিছু সাধারণ গুরুত্বপূর্ণ ফিচারস এবং ফাংশন গুলোর ব্যাপারেও দৃষ্টি দেওয়াটা জরুরি।

আমাদের এই আর্টিকেল পড়ার পর আপনার যদি কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তাহলে নিচে কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আর এই একটি ভালো ল্যাপটপ চেনার গাইড যদি আপনার কাজে আসে তাহলে অবশ্যই অন্যদের সাথে শেয়ার করুন। আর নিয়মিত নতুন কিছু জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Share Is Caring.. ❤️

           

আসসালামু আলাইকুম। আমি পেশায় একজন চাকুরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। আমি ব্লগ পড়তে এবং আর্টিকেল লিখতে পছন্দ করি। অবসর সময়ে ব্লগে বিভিন্ন বিষয়ে লিখে শেয়ার করে থাকি।

2 thoughts on “একটি ভালো ল্যাপটপ চেনার সহজ ১০টি উপায়”

  1. Graphics কাজের জন্য কি ধরনের Laptop ভালো হবে?
    সঠিক পরামর্শের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পার্টসগুলোর লিষ্ট সহকারে সাজেস্ট করলে উপকৃত হবো।
    ধন্যবাদ।

    Reply
    • আপনার কমেন্টের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।
      Graphics Design, Video Editing কিংবা 3D কাজের জন্য Laptop নির্বাচন করার সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে — বিশেষ করে Processor, Graphics Card, RAM, Display Color Accuracy এবং SSD Storage।

      আমার পরামর্শ অনুযায়ী নিচের Configuration হলে দীর্ঘ সময় ভালো পারফরম্যান্স পাবেনঃ

      ✅ Processor: Intel Core i7 / AMD Ryzen 7
      ✅ Graphics Card: NVIDIA RTX 4050 / RTX 4060 (Design ও Rendering এর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ)
      ✅ RAM: Minimum 16GB DDR5 (সম্ভব হলে 32GB Upgradeable)
      ✅ Storage: 512GB বা 1TB NVMe SSD
      ✅ Display: IPS Panel, 100% sRGB Color Accuracy
      ✅ Refresh Rate: 144Hz হলে ভালো Experience পাওয়া যায়।
      ✅ Battery & Cooling: ভালো Cooling System থাকলে দীর্ঘসময় কাজ করা সহজ হয়।

      Reply

Leave a Comment