ওয়ার্ডপ্রেস কি? কেন শিখব, এর কাজ ও লাভ

5/5 - (1 vote)

ওয়ার্ডপ্রেস কি? What is WordPress in Bangla?

ওয়ার্ডপ্রেস কি এবং কি কাজে ব্যবহৃত হয়? এই বিষয়ে প্রতিটি ওয়েব ডিজাইনার অথবা ব্লগাররা খুব ভালভাবে বলতে পারবে। মূলত বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সবচেয়ে সেরা সিএমএস (CMS) সফটওয়্যার হলো ওয়ার্ডপ্রেস। এই সিএমএস এর মাধ্যমে যেকোনো ধরনের ওয়েবসাইট বানানো যায় খুব সহজেই। যদি এই সম্পর্কে আপনার কোন জ্ঞান না থাকে তাহলে চিন্তা করবেন না। আজ আমরা ওয়ার্ডপ্রেস কি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চলেছি।

আজ আমরা জানব ওয়ার্ডপ্রেস কি? এর কাজ কি?

ওয়ার্ডপ্রেস কি, সুবিধা এবং কেন একজন ব্লগারের ওয়ার্ডপ্রেস (WordPress) ব্যবহার করা উচিৎ? এই সিএমএস সফটওয়্যার ব্যবহার করা অনেক সহজ। বর্তমানে সারা পৃথিবীর প্রায় ৬৫% ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেস দ্বারা তৈরি।

নেটক্রাফট এর গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৭৫ হাজার লাখেরও বেশি ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেস দ্বারা তৈরি। তাহলে বুঝতেই পারছেন ওয়ার্ডপ্রেস সারাবিশ্বে কতটা জনপ্রিয়। আপনি যদি একজন ওয়েব ডিজাইনার, ব্লগার অথবা নিজেই ওয়েবসাইট বানাতে চান তাহলে এই বিষয়ে জেনে নেয়া আপনার জন্য জরুরি।

ওয়ার্ডপ্রেস কি?

ওয়ার্ডপ্রেস কি এর লাভ এবং সুবিধা -itshohorbd
ওয়ার্ডপ্রেস কি

সহজভাবে যদি বলি, ওয়ার্ডপ্রেস হলো একটি জনপ্রিয় এইএমএস সফটওয়্যার, যা দ্বারা আপনি যেকোনো ওয়েবসাইট বা ব্লগ বানাতে পারবেন। ওয়েবসাইট বানানোর জন্য এটি যে কতটা জনপ্রিয় এবং সহজ, সেটা এর ইউজার সংখ্যা দেখলেই বোঝা যায়।

ওয়ার্ডপ্রেস সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি ওপেন সোর্স কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সংক্ষেপে CMS বলা হয়। যা যে কোন ব্যক্তি তার ওয়েব সার্ভারে ফ্রি তেই ইনস্টল করে যেকোনো রকম একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইট বানাতে পারবে।

ওয়ার্ডপ্রেস বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী, সহজ এবং ফ্রি অনলাইন সিএমএস সফটওয়্যার। যা PHP ল্যাংগুয়েজ দ্বারা গঠিত। মনে রাখবেন, এই সিএমএস দ্বারা ওয়েবসাইট বানাতে আপনার একটি হোস্টিং সার্ভার লাগবে। এরপর হোস্টিং সার্ভারে ওয়ার্ডপ্রেস সিএমএস ইন্সটল করে আপনি যেকোনো ওয়েবসাইট বানাতে পারবেন।

সাধারণত ওয়েবসাইট বানানোর জন্য অনলাইনে আরও অনেক রকম সিএমএস সফটওয়্যার রয়েছে। যেমন- জুমলা, ধ্রুপাল, টাইপো৩ ইত্যাদি। এই সিএমএস সফটওয়্যার গুলোও বেশ জনপ্রিয়। তবে ওয়ার্ডপ্রেসের মত এতটা নয়।

ওয়ার্ডপ্রেসের লাভ এবং সুবিধা – (Benefits of using WordPress)

ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করার সবচেয়ে জনপ্রিয় কারণ হলো, এই সফটওয়্যারের অনেক লাভ রয়েছে।

  • সর্বপ্রথম হচ্ছে এরকম একটি এডভান্সড সফটওয়্যার সম্পূর্ণ ফ্রি তে পেয়ে যাচ্ছেন। ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করতে আপনাকে কোন রকম ফি প্রদান করতে হবে না।
  • আপনি একটি ওয়েবসাইট যেকোনো জায়গা থেকে বানাতে পারবেন। এর জন্য কেবল আপনার একটি পিসি এবং ইন্টারনেট কানেকশন থাকতে হবে।
  • ওয়ার্ডপ্রেস সম্পূর্ণ এসইও ফ্রেন্ডলি। অর্থাৎ ওয়ার্ডপ্রেসে সামান্য স্টান্ডার্ড কোডের ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরি করা হয় যেগুলো সহজেই গুগল সার্চ ইঞ্জিনে ইনডেক্স হতে সাহায্য করে।
  • ওয়ার্ডপ্রেস বর্তমানে মিলিয়ন মিলিয়ন ওয়েবমাস্টারদের ভরসা। ওয়ার্ডপ্রেস নিরাপত্তার দিকে বেশি নজর দিয়েছে।একটি ওয়ার্ডপ্রেস দ্বারা তৈরি ওয়েবসাইট হ্যাক করা প্রায় ৯৮% অসম্ভব।
  • আপনি শুধুমাত্র ব্লগ নয়, বরং এই সিএমএস সফটওয়্যার দিয়ে আপনি নানান ধরনের ওয়েবসাইট নিজেই বানাতে পারবেন। যেমন – সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইট, ই-কমার্স ওয়েবসাইট, প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট ফোরাম ওয়েবসাইট ইত্যাদি।
  • ওয়ার্ডপ্রেসে হাজার হাজার ফ্রি থিমস এবং প্লাগিন রয়েছে। যা ব্যবহার ফ্রি তে ব্যবহার করে ওয়েবসাইটের শক্তি, সৌন্দর্য এবং বিভিন্ন ফাংশন বাড়ানো যায়। খুব সহজেই ফ্রি থিম ব্যবহার করে ওয়েবসাইটের ডিজাইন পরিবর্তন করা যায়।
  • ওয়ার্ডপ্রেসে৷ সব লেটেস্ট এবং এডভান্সড ফাংশন রয়েছে। যেমন- সোশ্যাল শেয়ারিং অপশন, রেসপন্সিভ ওয়েবসাইট ডিজাইন, এসইও ফ্রেন্ডলি স্ট্রাকচার, ইজি কাস্টমাইজেশন, প্লাগিন এবং এরকম আরো অনেক ফাংশন রয়েছে।
  • কাস্টমাইজ অপশনে গিয়ে নিজেই ওয়েবসাইটের ডিজাইন খুব সহজেই লাইভ প্রিভিউ সহ এডিট করা যায়। অনলাইনে ওয়ার্ডপ্রেসের বিষয়ে প্রচুর টিউটোরিয়াল ভিডিও এবং ব্লগ পোস্ট রয়েছে, যা দেখে খুব সহজেই যেকোনো ব্যক্তি ওয়ার্ডপ্রেসের কাজ শিখতে পারে।

প্রিয় পাঠক এগুলো ছিল ওয়ার্ডপ্রেসের কিছু লাভ এবং সুবিধা। উপরোক্ত এগুলো ছাড়াও ওয়ার্ডপ্রেস সিএমএসে রয়েছে। আসলে ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে যতই সুনাম করি না কেন, সেটাও অনেক কম হয়ে যাবে।

একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে এই সিএমএস সফটওয়্যার যে ব্যক্তি একবার ব্যবহার করবে সে সারাজীবন এটাই ব্যবহার করবে। এই সিএমএস সফটওয়্যার কতটা ভাল এবং সহজ তা মাত্র একবার ব্যবহার করলে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন।

ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন কি ? (WordPress plugin)

ওয়ার্ডপ্রেস কি ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন -itshohorbd
ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন

ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন হলো আলাদা এক প্রকার সফটওয়্যার, যা ওয়ার্ডপ্রেস দ্বারা তৈরি ওয়েবসাইটে ইনস্টল করে ওয়েবসাইটের বিভিন্ন ফাংশন বাড়িয়ে নেওয়া যায়।

ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন একটি ওয়েবসাইটের ফাংশন বাড়ায় এবং বিভিন্ন ফিচারস যুক্ত করে। এটাকে কিছুটা মোবাইল এপ্লিকেশনের মত বলা যায়। যেমনি আমরা গুগল প্লে স্টোর থেকে বিভিন্ন রকম এপ্লিকেশন ইনস্টল করে মোবাইলে অনেক ফাংশন এবং ফিচারস যুক্ত করি। ঠিক তেমনি ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে ফ্রি অথবা পেইড প্লাগিন ইনস্টল করে ওয়েবসাইটের অনেক ফাংশন যুক্ত করা যায়।

ওয়ার্ডপ্রেস অনেক বেশি জনপ্রিয় হবার কারণ এটাও যে, একটি ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে অনেক ফাংশন যুক্ত করতে হাজার হাজার ফ্রি প্লাগিন পাওয়া যায়।

উদাহরণ – ওয়েবসাইটে প্লাগিন ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়া বাটন, ইমেইল সাবস্ক্রিপশন বক্স, ওয়েবসাইট সিকিউরিটি অপশন, রিলেটেড আর্টিকেল অপশন সহ এমন আরও হাজারো ফাংশন যুক্ত করতে পারবেন।

এতে খুব সহজেই নিজের ওয়েবসাইটকে নিজের মত ডিজাইন করে নিতে পারবেন। সেটা ডিজাইনের দিক দিয়ে বা নিরাপত্তার দিক দিয়ে কিংবা নতুন কোন ফাংশন যুক্ত করে, সবটাই করতে পারবেন ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন ব্যবহার করে। অফিসিয়াল ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন ডিরেক্টরিতে এমন মিলিয়ন মিলিয়ন ফ্রি প্লাগিন পেয়ে যাবেন।

ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে নিচের পোস্টটি পড়ে আসতে পারেন

কেন ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করবেন ?

ওয়ার্ডপ্রেসের বিষয়ে এতকিছু আলোচনা করার পর,আপনি যদি ভাবেন, ওয়েবসাইট তৈরি করতে “কেন ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করব?” তাহলে এর অনেকগুলো কারণ রয়েছে। যেমন-
ওয়ার্ডপ্রেস একটি এডভান্সড এবং মাল্টি ফাংশনাল সিএমএস সফটওয়্যার যেটা আপনি সম্পূর্ণ ফ্রি তে ব্যবহার করতে পারবেন।

যেকোনো ওয়েবসাইট এই সিএমএস সফটওয়্যার দ্বারা বানানো সম্ভব।

খুব সহজেই এর ব্যবহার করা শিখতে পারবেন।
বিভিন্ন ফ্রি থিমস এবং প্লাগিনের সাহায্যে ওয়েবসাইটের ডিজাইন এবং ফাংশন বাড়াতে পারবেন।
সম্পূর্ণ এসইও ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট বানাতে পারবেন।
ওয়ার্ডপ্রেস বেশ নিরাপদ, সুতরাং আপনার ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।

যেকোনো মিডিয়া ফাইল (যেমন – ছবি, ভিডিও এবং অডিও) আপলোড করে নিজের কন্টেন্টের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবেন।

ওয়ার্ডপ্রেস সিএমএস সফটওয়্যার ব্যবহার করে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার সুবিধা অনেক। এজন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে চাইলে অবশ্যই ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করতে পারেন।

ওয়ার্ডপ্রেস শিখতে কত দিন লাগবে ?

প্রথমেই অনেকেই ভাবেন ওয়ার্ডপ্রেস অনেক কঠিন জিনিস। প্রথমে এমনটা আপনারও লাগতে পারে। কিন্তু বেশ কিছু দিন নিজের ওয়ার্ডপ্রেস ড্যাশবোর্ডে গিয়ে সকল অপশনের ব্যবহার করলেই আপনি অতি সহজেই শিখে যাবেন

এছাড়াও অনলাইনে ওয়ার্ডপ্রেসের সঙ্গে সম্পর্কিত সকল টিউটোরিয়াল আপনি পাবেন। সেগুলো ভিডিও দেখে অথবা আর্টিকেল পড়ে ধীরে ধীরে সব শিখে যাবেন। যেমন – কিভাবে এসইও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট লিখবেন, নতুন প্লাগিন কিভাবে ইনস্টল করবেন, কিভাবে ডিজাইন করবেন, থিম কিভাবে ইনস্টল করবেন ইত্যাদি।

যদি মনোযোগ দিয়ে মাত্র ১-২ সপ্তাহ ওয়ার্ডপ্রেস কি এই নিয়ে ঘাটা ঘাঁটি করেন, তাহলে এর ব্যবহার আপনি শিখতে পারবেন।

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক আশা করি ওয়ার্ডপ্রেস কি? ওয়ার্ডপ্রেসের সুবিধা এবং লাভ এবং কেন ওয়ার্ডপ্রেস আপনার ব্যবহার করা উচিৎ? উপরোক্ত সকল বিষয়ে আপনার মনের সব প্রশ্নের উত্তর আমি দিয়ে দিয়েছি। আপনার মনে যদি এই সম্পর্কিত আরও প্রশ্ন থাকে, তবে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে আমাদের জানান। যথাযথ উত্তর দেয়ার চেষ্টা করব। উপরোক্ত সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Share Is Caring.. ❤️

           

আসসালামু আলাইকুম। আমি পেশায় একজন চাকুরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। আমি ব্লগ পড়তে এবং আর্টিকেল লিখতে পছন্দ করি। অবসর সময়ে ব্লগে বিভিন্ন বিষয়ে লিখে শেয়ার করে থাকি।

Leave a Comment