কাজের ক্ষেত্রে কোন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসটি বেশি সুবিধাজনক?

5/5 - (3 votes)

Fiverr vs Upwork কোন প্লাটফর্মটি বেশি সুবিধাজনক

আপনি কি ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে অনেক চিন্তিত? ক্যারিয়ার গড়ার কথা ভাবছেন? তবে অবশ্যই ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের প্রয়োজন।

কোন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করবেন। কোন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসটি সবচেয়ে সেরা? Fiverr vs Upwork ফ্রিল্যান্সিং দুনিয়ায় এই দুটি সাইট বেশ জনপ্রিয় নাম বর্তমান সময়ে।

অগণিত অনলাইন মার্কেটপ্লেসের মাঝে এই ওয়েবসাইট দুটি নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছে সর্বসেরার তালিকায়। fiverr এবং upwork এই দুটি সাইট অনলাইন মার্কেটপ্লেসের হলেও, এরা ফ্রিল্যান্সারদের জন্য আলাদা আলাদা অভিজ্ঞতা বহন করে।

ফ্রিল্যান্সিং এ কোন মার্কেটপ্লেসটি বেশি সুবিধাজনকআজ এই নিবন্ধে অনলাইন মার্কেটপ্লেসের ফাইবার এবং আপওয়ার্ক কি ধরনের সেবা প্রদান করে এবং কোনটাতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়া যায় সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস (freelancing marketplace) কি?

এ ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস বলতে মূলত কিছু ওয়েবসাইট বোঝায়। যার সাহায্যে ফ্রিল্যান্সার এবং ক্লায়েন্টরা একসঙ্গে যুক্ত হতে পারে। একজন ফ্রিল্যান্সার নিজের কাজের sample দিয়ে প্রোফাইল তৈরি করে। আর ক্লায়েন্টরা চাকরির বিজ্ঞাপন দেয়।

এসকল বিজ্ঞাপনে আবেদন করে যোগ্য ব্যক্তি কাজ পান। বিশ্বের যেকোন দেশ থেকে ক্লায়েন্ট পেমেন্ট করতে পারে এবং ফ্রিল্যান্সার নিজের পারিশ্রমিক নেয়। বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্লায়েন্টরা তাদের কাজের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়।

এর মাধ্যমে ঐ কাজে দক্ষ ফ্রিল্যান্সার খুঁজে থাকে। আবার অনেক সময় ক্লায়েন্ট সরাসরি বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে এমনি ফ্রিল্যান্সারদের প্রোফাইল ঘেঁটে তাদের কাজ দিয়ে থাকেন। এজন্য ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসকে বলা যায়, ক্লায়েন্ট ও ফ্রিল্যান্সারদের বিশাল মিলনমেলা।
ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস প্লাটফর্মের মধ্যে রয়েছে -ঃ

  • আপওয়ার্ক (Upwork.com)
  • ফাইভার (Fiverr.com)
  • ফ্রিল্যান্সার (Freelancer.com)
  • পিপল পার আওয়ার (People Per Hour)
  • নাইনটি নাইন ডিজাইনস (99designs)
  • গুরু ডট কম
  • বিল্যান্সার (Belancer)

এছাড়াও অনলাইনে আরও অনেক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস আছে। যেখানে অনেক ফ্রিল্যান্সাররা কাজ করেন। প্রতিটি মার্কেটপ্লেসের কাজের ধরণ সম্পূর্ণ আলাদা। আর একেক মার্কেটপ্লেসে কাজ করা ফ্রিল্যান্সাররা একেকরকম।

ফাইভার এবং আপওয়ার্ক কীভাবে কাজ করে?

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস Fiverr vs Upwork
ফ্রিল্যান্সিং এ কোন মার্কেটপ্লেসটি বেশি সুবিধাজনক

ফাইবার এবং আপওয়ার্ক অনলাইন মার্কেটপ্লেসের হলেও এদের কার্যপদ্ধতির মধ্যে সামান্য ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়।

ফাইবার ডটকমের যেকোন সার্ভিসের অফারকে গিগ বলা হয়ে থাকে। মূলত ফ্রিল্যান্সাররা গিগ পোস্ট করেন আর গ্রাহকেরা তা থেকে তাদের পছন্দের গিগ বেছে নেন।

অর্থাৎ ফাইবারে গ্রাহকেরাই তাদের চাহিদা অনুযায়ী ফ্রিল্যান্সার বেছে নিয়ে থাকেন। তবে ফাইবারে গ্রাহকেরা চাইলে জব পোস্টও করতে পারেন সেখানে থেকে ফ্রিল্যান্সারগণ বিড করতে পারেন।

বায়ার মূলত তাদের যে কাজের জন্য ফ্রিল্যান্সার প্রয়োজন তার বিবরণ দিয়ে একটি জব পোস্ট করে থাকেন।

ফ্রিল্যান্সারগণ কাজের লিস্ট থেকে তাদের নিজেদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে কাজ করার প্রপোজাল পাঠিয়ে থাকেন। ক্লায়েন্টরা আগ্রহী ফ্রিলান্সারগণের লিস্ট থেকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী এক কিংবা একাধিক জনকে সিলেক্ট করে চুক্তিবদ্ধ হন।

আবার ক্লায়েন্টরা চাইলে কোন ফ্রিল্যান্সারকে কাজ করার জন্য ইনভাইটেশনও পাঠিয়ে থাকেন। আসুন এবার বিস্তারিত জেনে নেই ।

কোনটির মান বা কোয়ালিটি কেমন?

যদি আপনি এই সাইটগুলোতে গ্রাহক কিংবা ক্লায়েন্টের ভূমিকা পালন করেন, তাহলে সাইট দুটোর কোয়ালিটি সম্পর্কে জ্ঞান রাখা আপনার জন্য খুবই জরুরি।

আপওয়ার্ক এবং ফাইবার এই দুটি মার্কেটপ্লেসেই অসংখ্য দক্ষ ফ্রিল্যান্সার রয়েছে। তবে ফ্রিল্যান্সার নিয়োগ করার ক্ষেত্রে সাইট দুটোই বেশ কিছুটা ভিন্ন পদ্ধতিতে কাজ করে থাকে।

ফাইবারে সার্চবারে অনুসন্ধান করার মাধ্যমে কাংখিত কাজের আশানুরূপ ফ্রিল্যান্সারদের দেখা মিলবে।

এই সাইটের একটি বিষয় হল সাইটটিতে ফ্রিল্যান্সারদের প্রদত্ত সেবার বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়। যা একজন ক্লায়েন্টের ফ্রিল্যান্সার নিয়োগের ক্ষেত্রে কাজটি আরও সহজ হয়ে থাকে।

প্রাইস -ঃ

ফাইবার এবং আপওয়ার্ক এই দুটি প্ল্যাটফর্মই পেমেন্ট থেকে কিছু নির্দিষ্ট অংশ ফি হিসেবে কেটে থাকে। ফাইবার গ্রাহক এবং ফ্রিল্যান্সার উভয়কেই চার্জ করে থাকে।

গ্রাহকদের যেকোনো গিগ কেনার আগেই এডভান্স কিছু ফিস প্রদান করতে হয়। ফাইবারে ৪০ ডলার থেকে নিম্নমানের সেবার জন্য ২ ডলার এবং ৪০ ডলার থেকে উচ্চমানের সেবার জন্য ৫% হারে প্রদান করতে হয়।

আবার ফ্রিল্যান্সারদের প্রজেক্ট প্রতি মূল আয়ের ২০% হারে কর্তন করে ফাইবার। বাকি ৮০% ডলার ফ্রিল্যান্সারদের একাউন্টে পাঠানো হয়।

এগুলো পড়তে পারেন –

রেটিং সিস্টেম -ঃ

ফাইভার এবং আপওয়ার্ক এই দুটি ওয়েবসাইটেই চালু রয়েছে রেটিং সিস্টেম। যাতে ক্লায়েন্টরা খুব সহজে তার চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ফ্রিল্যান্সার খুঁজে নিতে পারেন।

তাই আপনি যদি একজন গ্রাহকের ভূমিকা পালন করেন তবে কোন ফ্রিল্যান্সার নিয়োগের আগে রেটিংস দেখে তার পূর্বের কাজ সম্পর্কে একটি বিস্তার ধারণা পাবেন।

আর যদি আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার হয়ে থাকেন তাহলে আপনার কাজ হবে মার্কেটপ্লেসে নিজের রেটিং এর দিকে মনোযোগ দেওয়া।

প্রি-স্ক্যানিং সুবিধাসমূহ -ঃ

বর্তমান সময়ে ফাইবারে নিজের স্কিল টেস্ট দেওয়ার সুবিধা চালু রয়েছে। আপনি ফাইবারে অফিসিয়াল এই টেস্টগুলো দিলে ক্লায়েন্টেরা আপনার দক্ষতা সম্পর্কে কিছু ধারণা পাবেন।

আপওয়ার্কে আগে এই নিজস্ব স্কিল টেস্ট দেওয়ার সুবিধা চালু ছিল, কিন্তু বর্তমান সময়ে এখন আপওয়ার্ক সেগুলো বাদ দিয়ে দিয়েছে।

পেইড মেম্বারশিপ বা বিশেষ একাউন্ট সুবিধা -ঃ

বর্তমান সময়ে ফাইভারে (Fivrr) কোনো পেইড মেম্বারশিপ (Paid Membership) ব্যবস্থা চালু নেই। সকল ফ্রিল্যান্সারগণ তাদের একাউন্ট (Account) কোন মাসিক ফি প্রদান ব্যতিত ফ্রি চালাতে পারেন।

সেই সঙ্গে (Fivrr) ফাইবারের সকল সুযোগ ও সুবিধা উপভোগ করতে পারেন। যদি আপনি দক্ষ ফ্রিল্যান্সার হন তবে আপনি ফাইবার প্রো-মেম্বার হতে পারেন।

প্রো মেম্বার হলে বাড়তি কিছু সুবিধা পেতে পারেন। তবে ফাইবারে প্রো মেম্বার গ্রাহকদের কোন মাসিক ফিস প্রদান করতে হয় না। আপওয়ার্ক সাইটটিতে কিছু পেইড মেম্বারশিপ প্ল্যান রয়েছে।

আবার এক একটি প্ল্যানের আলাদা আলাদা কিছু সুবিধাও আছে। যেমন – যদি আপনি ফ্রিল্যান্সার প্লাস মেম্বার হন তবে আপনি জবে আবেদন করার সময় ফ্রি কানেক্টস পাবেন, বিড রেঞ্জও দেখতে পাবেন ইত্যাদি। অন্যদিকে গ্রাহকদের জন্যও রয়েছে আকর্ষণীয় কিছু পেইড প্ল্যান।

অ্যাপস -ঃ

আপওয়ার্ক মার্কেটপ্লেসটির নিজস্ব মোবাইল অ্যাপস এবং কম্পিউটার ট্র্যাকিং সফটওয়্যার আছে। ঘন্টা ভিত্তিক কাজ করার ক্ষেত্রে কম্পিউটারে আপওয়ার্ক ট্র্যাকিং সফটওয়্যার চালু রাখতে হয়।

এই সফটওয়্যার চালু রেখে কাজ করলে বেশ কিছুক্ষণ পর পর ক্লায়েন্টের কাছে ফ্রিল্যান্সারদের কাজের স্ক্রিনশট যায় এবং সেই সাথে সময়ের হিসাব রাখে। আর সেই অনুযায়ী ক্লায়েন্টের বিল করা হয়।

বর্তমানে ফাইবার সাইটটির কোন ট্রাকিং এপস নেই। তবে তাদের মোবাইল এপস রয়েছে, যা দিয়ে জব সম্বলিত বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি ক্লায়েন্টের সঙ্গে বার্তা আদানপ্রদান করা যায়।

পেমেন্ট নেবো কীভাবে?

ফাইভার এবং আপওয়ার্ক এই দুটি ওয়েবসাইটই পেওনিয়ার মাস্টার কার্ড প্রদান করে। যা দিয়ে আপনি টাকা তুলতে এবং অনায়াসে অনলাইন থেকে কেনাকাটাও করতে পারবেন।

এছাড়াও এই দুটি ওয়েবসাইট থেকেই আপনি সরাসরি দেশের যেকোনো ব্যাংকে টাকা ট্রান্সফার করতে পারবেন। সুতরাং পেমেন্ট নিয়ে খুব বেশি চিন্তা বা ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

পর্যবেক্ষণ এবং বিরোধ নিষ্পত্তি -ঃ

যদি আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার কিংবা গ্রাহক হন, তবে অনলাইন মার্কেটপ্লেসে আপনার সামনে সমস্যা দেখা দেয়া খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার।

এজন্য একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস তাদের কার্যক্রমগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে কিনা। এরপর সেই সমস্যা সমাধানের প্রতি কি ভূমিকা পালন করে তাও দেখা প্রয়োজন।

ফাইবার এ ফ্রিল্যান্সার এবং ক্লায়েন্টের মধ্যে সমস্যার সৃষ্টি হলে, সর্বপ্রথমে তাদের নিজেদের মধ্যেই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করতে হয়।

তাতে সমাধান না হলে ফাইবারের প্রতিনিধি এসব ব্যাপারে কাজ করেন। এছাড়াও সেলার চাইলে যেকোনো সময় কন্ট্রাক্ট বাতিল করে দিতে পারেন।

অন্যদিকে আপওয়ার্কে পর্যবেক্ষণ ও বিরোধ নিষ্পত্তিতে বেশ কিছু ব্যবস্থা চালু রয়েছে। আপওয়ার্কে কন্ট্রাক্ট হোল্ড করে রাখার ব্যবস্থাও আছে।

ফ্রিল্যান্সার এবং ক্লায়েন্টের মধ্যে কোন সমস্যার সৃষ্টি হলে রিপোর্ট করার উপর নির্ভর করে আপওয়ার্ক একজন মিডিলম্যান বা মধ্যস্থতাকারি নিয়োগ করেন। যিনি এসকল সমস্যা দূর করতে কাজ করেন।

নতুনদের জন্য কোনটি সুবিধাজনক?

আমি মনে করি নবীনদের জন্য ফাইবারে ফ্রিল্যান্সিং কাজ শুরু করা সুবিধাজনক। কেননা এটি অন্যান্য অনলাইন মার্কেটপ্লেসের চেয়ে তুলনামূলক সহজ।

বর্তমান সময়ে আপওয়ার্কে নতুন একাউন্ট ওপেন করা এবং এপ্রুভাল পাওয়া কিছুটা সময়সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কাজে দক্ষ হলে আপওয়ার্কে অনেক উচ্চমূল্যে এবং দীর্ঘস্থায়ী জব পাওয়া যায়। আমার মতে দুটো মার্কেটপ্লেসেই একাউন্ট করে রাখা যেতে পারে।

শেষ কথা -ঃ

ফাইভার এবং আপওয়ার্ক এই দুটিই টপ লেভেল মার্কেটপ্লেস। এই দুটিই অনলাইন মার্কেটপ্লেসে ফ্রিল্যান্সার এবং ক্লায়েন্টের জন্যই অফুরন্ত সম্ভাবনা নিহিত। এই দুটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে আপনার মতামত কি তা নিচে কমেন্ট বক্সে জানাতে ভুলবেন না। আমাদের লেখা নিবন্ধ যদি আপনার ভাল লাগে তাহলে অবশ্যই শেয়ার করবেন। সম্পূর্ণ নিবন্ধটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Share Is Caring.. ❤️

           

আসসালামু আলাইকুম। আমি পেশায় একজন চাকুরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। আমি ব্লগ পড়তে এবং আর্টিকেল লিখতে পছন্দ করি। অবসর সময়ে ব্লগে বিভিন্ন বিষয়ে লিখে শেয়ার করে থাকি।

Leave a Comment