স্বাগতম প্রিয় পাঠক, কেমন আছেন সবাই? আশা করছি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আপনাদের দোয়ায় আমিও ভালো আছি। আজ আপনাদের সামনে একটি নতুন বিষয়ের আর্টিকেল উপস্থাপন করছি। আজকের আলোচনার বিষয় হল Darkweb।

Darkweb কি?
Darkweb হলো আমাদের ইন্টারনেটের একটি বৃহৎ এবং অজানা জগত, বা রহস্যময় স্থান। আমরা যে অংশটি ব্যবহার করি, তাকে মূলত সার্ফেস ওয়েব বলা হয়…
এই সার্ফেস ওয়েবের পরেও ইন্টারনেটের একটি বিশাল এলাকা রয়েছে যা সাধারণভাবে আমাদের জন্য প্রাপ্য নয়। এর মধ্যে রয়েছে ডিপ ওয়েব এবং ডার্ক ওয়েব। আজকের আলোচনায় আমি শুধু ডার্ক ওয়েবের উপর আলোচনা করব। ডিপ ওয়েবের বিষয়ে পরে বিস্তারিত আলোচনা হবে ইনশাআল্লাহ।
ডার্কওয়েবের মধ্যে অনেক সময় অজানা এবং গোপনীয় তথ্য থাকে, যেমন গোপন সংবাদ, সরকারি প্রমাণপত্র এবং কখনও কখনও কিছু অবৈধ তথ্যও এটি ধারণ করে। এমনকি এখানে কখনও কখনও এমন তথ্যও পাওয়া যায় যা একজনের বিপক্ষে বিপুল ক্ষতি সাধনের জন্য ব্যবহার হতে পারে। এই ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে অনেক সময় অবৈধ লেনদেন, চোরাচালানি এবং অন্যান্য কার্যকলাপ ঘটে যা সাধারণ মানুষের আছলে পৌঁছাতে পারে না।
আমাদের পরিচিত সার্চ ইঞ্জিন যেমন গুগল বা বিং (Bing) এসব তথ্য দেখাতে পারে না. . . ডার্ক ওয়েব এদের নজরের বাইরে এবং এসব তথ্য গোপন সার্ভারে সঞ্চয় করা হয়…।
১৯৯০-এর দশক থেকে সাধারণ মানুষের জন্য ইন্টারনেট উন্মুক্ত হয়। কিন্তু এর ব্যবহারের ক্ষেত্র ছিল সীমিত, মূলত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস এবং বিভিন্ন গবেষণার জন্য। সাধারণ জনগণ খুব বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করতেন না বা তাদের জন্য ব্যবহারের সুযোগ ছিল না। ধীরে ধীরে কিছু বেসরকারি নেটওয়ার্ক তৈরি হলো।

বিশেষ করে সরকারি আইপি ঠিকানা এবং লোকেশন গোপন রেখে এসব নেটওয়ার্কগুলো ব্যবহারকারীদের দ্রুত ইন্টারনেট ব্যবহারে সহায়তা করত। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ফ্রি নেট, যা ২০০০ সালে জনপ্রিয়তা পায় এবং সেই সময়ে একটি বহুল ব্যবহৃত নেটওয়ার্ক ছিল।
বর্তমানে ডার্ক ওয়েবের মূল প্রযুক্তি হলো অনিয়ন রাউটিং, যা মার্কিন নৌবাহিনীর গবেষণা ল্যাব তৈরি করেছিল। এটি মূলত সরকারি প্রতিরক্ষা বিভাগের গোপন ডকুমেন্টগুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে স্থানান্তর করতে ব্যবহৃত হয়। এভাবেই বলা যায় যে ডার্কওয়েবের সূচনা হয়েছিল।
ডার্কওয়েবে কিভাবে প্রবেশ করা যাবে?
ডার্কওয়েব মূলত বিভিন্ন কারণে জনপ্রিয়, যেমন এখানে কিছু অবৈধ কার্যক্রম ঘটে এবং অন্যদিকে এখানে অনেক সফটওয়্যার পাওয়া যায়, যা সাধারণত সহজলভ্য নয় বা উচ্চ দামে কিনতে হয়। কিন্তু অনেক সময় এভাবেও সেই সব সফ্টওয়্যার আমরা খুঁজে পাইনি বা কিনতে পারিনা। ডার্ক ওয়েব এ অনেক সময় পাইরেটেড সফটওয়্যার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যায়…
Also Read
তবে মনে রাখা উচিত যে ডার্ক ওয়েব থেকে প্রাপ্ত এসব সফটওয়্যার বা টুল সবসময় নিরাপদ নয়… অনেক সময় এই টুলগুলিতে স্পাইওয়্যার থাকতে পারে, ফলে আপনি যখন এগুলি ব্যবহার করতে চান, তখন আপনার কম্পিউটারের তথ্য চুরির ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই ডার্ক ওয়েব প্রবেশ করার আগে এবং এটি ব্যবহার করার সময় আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।

ডার্ক ওয়েবের লিঙ্ক সম্পর্কে জানতে চাইলে, বা এখানে প্রবেশের আগে, আপনাদের মাথায় রাখতে হবে যে সিকিউরিটি যে বিষয়টি এখানে একেবারেই ভিন্ন। যেহেতু এটি সাধারণ ওয়েবের আওতায় নেই, তাই প্রবেশের জন্য বিশেষ ব্রাউজারের দরকার হবে। ডার্ক ওয়েবে প্রবেশের জন্য বর্তমানে বিভিন্ন ব্রাউজার রয়েছে, তবে বাজারে টর ব্রাউজার (Tor Browser) সবচেয়ে বেশি পরিচিত এবং গুরুত্বপূর্ণ।
আপনি সহজেই উইন্ডোজ বা লিনাক্সের জন্য টর ব্রাউজার ডাউনলোড এবং ব্যবহার করতে পারেন। তবে আমাদের পরামর্শ হলো, টর ব্যবহার করার আগে একটি ভালো ভিপিএন বা ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক সফটওয়্যার ব্যবহার করুন।
কারণ এই ভিপিএন আপনার সিকিউরিটি অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়। যেমন, এক্সপ্রেস ভিপিএন ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি মিলিটারি গ্রেডের 256-bit এনক্রিপশনের সুবিধা পাবেন, যা আপনার পরিচয়কে সম্পূর্ণ গোপন রাখতে সক্ষম এবং আপনাকে ডার্ক ওয়েবে বিভিন্ন সাইট ব্যবহার করতে সাহায্য করে নিরাপদে।
⚫ ডার্ক ওয়েবের ৮টি পরিচিত ওয়েব
১। হিডেন উইকিপিডিয়া
এটি প্রথম স্থানে রয়েছে কারণ এটি ডার্ক ওয়েবের একটি প্রসিদ্ধ লিঙ্ক। ঠিক যেমন আমরা সাধারণ ওয়েবে উইকিপিডিয়া ব্যবহার করি, এটি ডার্ক ওয়েবের জন্যও তাই বলা যেতে পারে। এখানে বিভিন্ন সাইটের তালিকা সুন্দরভাবে সাজানো আছে, যেখান থেকে আপনি সহজেই বিভিন্ন ডার্ক ওয়েব সাইট পরিদর্শন করতে পারবেন। মনে রাখবেন, এখানে বেশিরভাগ সাইটের ডোমেইন এক্সটেনশন .onion।
২। ডাকডাকগো (Duckduckgo)
ডাকডাকগো হল একটি সার্চ ইঞ্জিন। গুগলে সার্চ করার সময় অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে রাখে, কিন্তু ডাকডাকগো ব্রাউজার এইসব তথ্য সম্পূর্ণ গোপন রাখে। এটি একটি ফ্রি ওয়েবসাইট এবং টর ব্রাউজারের মাধ্যমে এটি ব্যবহার করা সহজ।
৩। হিডেন অ্যানসারস
এটি তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এখানে আপনি এমন কিছু অবিশ্বাস্য স্বীকারোক্তি পাবেন যা বাস্তবে আপনি কখনই শুনেননি। এই ওয়েবসাইটে কিছু সুপরিচিত ব্যক্তিত্বের চমকপ্রদ স্বীকারোক্তি রয়েছে, যা আপনাকে অবাক করে দেবে। তবে স্বীকারোক্তিগুলি গোপন রাখা হয় এবং এর মালিকের পরিচয় গোপন থাকে। যাহোক, প্রকৃত তথ্যের সন্ধানে আপনি এখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।
৪। মেইল টু টর
আমরা যেমন সাধারণত জিমেইল বা ইয়াহু মেইলে ইমেইল পাঠাই, ঠিক তেমনই ডার্ক ওয়েবের জন্য ইমেইল পাঠানোর সেবা হল মেইল টু টর। এখানে আপনি আপনার আইপি ঠিকানা ও পরিচয় গোপন রেখে বিনামূল্যে ইমেইল পাঠাতে পারেন।
৫। প্রো Publica
প্রো Publica ওয়েবসাইটটি হিডেন অ্যানসারসের মতো একটি নিউজ পোর্টাল হিসেবে কাজ করে। এখানে সবাই তাদের মতামত কোন ধরনের বিধিনিষেধ ছাড়াই প্রকাশ করে। বিভিন্ন সরকারি দস্তাবেজ এবং গোপন খবরের তথ্য এখানে পাওয়া যায়। মূলত বাণী স্বীকারোক্তি প্রচার করে এবং এই ওয়েবসাইটে তা মান্য করা হয়।
৬। ফেইসবুকের ডার্ক ওয়েব সংস্করণ
ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়া ফেইসবুক ব্যবহার করার সুযোগ থাকবে। এখানে আপনারা একে অপরের সাথে সম্পূর্ণ গোপনে যোগাযোগ রাখতে পারবেন, এটি ফেইসবুকের বিশেষ অনিয়ন সার্ভিসের মাধ্যমে সম্ভব।
৭। টর লাইব্রেরী
সাত নম্বরে আছে টর লাইব্রেরী। এখানে একাধিক নকল সফটওয়্যার, ই-বুক, সিনেমা ইত্যাদি পাওয়া যায়। টর লাইব্রেরী একটি স্থান যেখানে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার এবং সিনেমা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সংগ্রহ করতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, টর লাইব্রেরী থেকে প্রাপ্ত সকল সফটওয়্যার সবসময় নিরাপদ নয়। তাই আমার পরামর্শ হলো, খুব জরুরি না হলে সেখান থেকে কিছু ডাউনলোড করবেন না এবং ডাউনলোডের আগে আপনার কম্পিউটারে ভালো antivirus সফটওয়্যার দিয়ে চেক করে নিন।
৮। গ্যালাক্সি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক
এটি একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট যা ডার্ক ওয়েব থেকে পৌঁছাতে পারবেন। এখান থেকে আপনি ফেসবুকের মতো অন্যান্যদের সাথে বন্ধুত্ব করতে পারবেন এবং যোগাযোগ রাখতে পারবেন সম্পূর্ণরূপে আপনার তথ্য গোপন রেখে।
ডার্ক ওয়েব ও ডিপ ওয়েবের বিভীষিকাসমূহ:
আমরা যেই অংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করি, সেটি সারফেস। এটি মাত্র ১০ ভাগ, আর অবশিষ্ট ৯০ ভাগ হলো ডার্ক ওয়েব। এখানে ভয়ঙ্কর সব নরপিশাচ ও হিংস্র মানবিকতা দেখা যায়। এখানে নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়। মানুষের প্রতি নির্মম নির্যাতনের ভিডিও এখানে বিক্রি করা হয়।
শিশুদের ওপর নির্মম অত্যাচার ও যৌন নির্যাতনের ঘটনাগুলো ভিডিও করা হয় এবং পরবর্তীতে তা এখানে ছাড়া হয়। কিছু হতভাগ্য ব্যক্তি এসব দেখার জন্য টাকা দেন এবং আনন্দ নেন। এখানকার সদস্যরা একে অপরের সাথে মানুষের গোষত খাওয়ার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এবং নিষ্ঠুর বিষয় হলো, এখানে একজন ব্যক্তিকে বন্দি করে রাখা হয় এবং সদস্যদের ইচ্ছা অনুযায়ী ভিডিও কলের মাধ্যমে তাকে নির্যাতন করা হয়। যার যেভাবে নির্যাতন করার ইচ্ছা, সেভাবেই তা করা হয়। যেমন, কেউ বললে “তার হাত কেটে ফেলো,” সেটাই ঘটবে। victim-এর চিৎকার শুনেই আনন্দ পাবে তারা। এমন প্রচুর ভয়ঙ্কর কাহিনী সেখানে ঘটে।
শেষ কথা
এদেরকে আপনি কি বলবেন? ডার্ক ওয়েব ইন্টারনেটের একটি অত্যন্ত উন্নত বিশেষ বিষয়। ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করার আগে আপনাদের পুরোপুরি সচেতন হতে হবে। ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই VPN ব্যবহার করবেন। যদি কোনো প্রয়োজন না হয় তবে ডার্ক ওয়েব থেকে দূরে থাকা সর্বদা উত্তম। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাদের সময় দেওয়ার জন্য। আশা করি আমি আপনাদের মূল্যবান তথ্য দিতে পেরেছি। নিয়মিত itshohorbd.com ভিজিট করতে ভুলবেন না। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।


