কিভাবে একজন সফল ইউটিউবার হওয়া যায়? রইল সেরা ৭ টিপস

5/5 - (2 votes)

সফল ইউটিউবার হওয়ার সেরা ৭ টিপসঃ

বর্তমান সময়ে ইউটিউব এমন একটি প্লাটফর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে , যেখানে অনেকেই নিজস্ব কোন সার্ভিস ভিডিও তৈরি করে ঐ ভিডিও প্রচার করে ঘরে বসে অনলাইন দ্বারা হাজার হাজার টাকা উপার্জন করছে।

কিন্তু চাইলেই যে কেউ অতি সহজে ইউটিউব থেকে হাজার হাজার টাকা উপার্জন করতে পারে না। ইউটিউব থেকে উপার্জন করতে হলে অবশ্যই দক্ষ ইউটিউবার হতে হবে।

ইউটিউব ভিডিও সহজে ভাইরাল হবার উপায়
ইউটিউব ভিডিও সহজে ভাইরাল হবার উপায়

তাই একজন দক্ষ বা সফল ইউটিউবার কিভাবে হওয়া যায় কিংবা হওয়ার কোন উপায় আছে কি না? এ বিষয়ে অনেকেই জানতে আগ্রহী।

একজন দক্ষ বা সফল ইউটিউবার হচ্ছে যার ইউটিউব চ্যানেলটিতে হাজার হাজার সাবস্ক্রাইবার রয়েছে এবং যার ভিডিওগুলো প্রচুর পরিমানে ভিউ হয় ।

সফল ইউটিবার যারা তারা তাদের ইউটিউব চ্যানেল থেকে মাসে এত টাকা উপার্জন করছে, যে তাদের আর আলাদা করে অন্য কোন কাজ করতে হচ্ছে না। অর্থাৎ ইউটিউবই এখন তাদের ক্যারিয়ার।

আজ বিশ্বে ৯০% ইউটিউব চ্যানেলের মালিকগণ মনে করে ইউটিউবের সফলতা মানে চ্যানেলে লক্ষ লক্ষ সাবস্ক্রাইবার এবং সেই চ্যানেলের ভিডিওগুলোতে হাজার হাজার ভিউ ।

কেননা যেই ইউটিউব চ্যানেলের হাজার হাজার সাবস্ক্রাইবার রয়েছে, ঐসব চ্যানেলের ভিডিওতে হাজার হাজার ভিউ এমনিতেই পরে।

আপনি চিন্তাও করতে পারবেন না যে, একবার দাঁড়িয়ে যাওয়া ইউটিউব চ্যানেল আপনাকে মাসে মাসে কত হাজার হাজার টাকা দিবে। বর্তমান সময়ে এমন অনেকেরই ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে, যাদের চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার মিলিয়ন মিলিয়ন।

তাদের একটা মাত্র ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রত্যেকটা বছরে কম করে হলেও বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার উপার্জন হয়। আর কথা না বারিয়ে এবার চলুন শুরু করি 

একজন সফল ইউটিউবার হতে কি লাগে?

বর্তমান সময়ে পৃথিবীর বেশির ভাগ লোকই ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে কিছু টাকা উপার্জন করতে। চ্যানেল তৈরি করে তাতে নিয়মিত ভিডিও আপলোড দিছে। আপনিও হয়তোবা এমন কাজই করছেন।

কিন্তু দেখা যাচ্ছে কিছুদিন খুব মনযোগ দিয়ে আগ্রহ নিয়ে কাজ করার পর হয়তো আপনি নিরাশ হয়ে পড়ছেন। এর বড় কারণ হল আপনি এত এত কষ্ট করে ভিডিও তৈরি করে সেই ভিডিওগুলো আপনার চ্যানেলে আপলোড করছেন। কিন্তু তাতে খুব বেশি ভিউজ বা সাবস্ক্রাইবার আসছেনা ।

কি ঠিক বলেছি আমি? তাই একজন সফল ইউটিউবার হওয়া খুব একটা সহজ বিষয় নয়, যতটা সহজ আমরা মনে করি।

কিন্তু সামান্য কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললে আপনি চাইলে সহজেই একজন সফল কিংবা ভাল ইউটিউবার হতে পারবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।

সর্বপ্রথম সফল ইউটিউবার হতে হলে আপনার প্রয়োজন হবেঃ-

  • নিজের কাজের প্রতি আত্ববিশ্বাস।
  •  ধৈর্য।
  • একাগ্রতা।
  • কাজে পূর্ণ মনোযোগী থাকা।
  • সফল হব এমন প্রবল ইচ্ছা থাকা।

এমন সকল গুণাবলি যদি আপনার মধ্যে থেকে থাকে তাহলে আপনিও কোন একদিন সফল ইউটিউবার হতে পারবেন ।

একজন সফল বা ভাল ইউটিউবার হবার জন্য আপনাকে নিচে লেখা কথাগুলো খুব ভালভাবে বুঝতে হবে, তাহলে খুব সহজে আপনি একজন সফল ইউটিবার হতে পারবেন।

সফল ইউটিউবার হওয়ার উপায়ঃ-

একজন পূর্ণাঙ্গ সফল ইউটিউবার হতে হলে আপনাকে মনযোগ দিয়ে কাজ পাশাপাশি আরও অনেক কিছু করতে হবে। আর কাজ করার প্রতি আগ্রহ ও ধৈর্য এবং সফল হওয়ার প্রবল ইচ্ছা থাকতে হবে।

এগুলো আপনার মধ্যে থাকলে আপনি সফল হতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস। অনেকেরই এগুলো থাকেনা। কিছুদিন আবেগের বশবর্তী হয়ে প্রথমে শুরু করে কিছুদিন পর হারিয়ে যায়।

১) সফল ইউটিউবার হতে হলে জনপ্রিয় এবং প্রয়োজনীয় বিষয়ের উপর ভিডিও তৈরি করাঃ-

আপনার কাছে আমার প্রথম সাজেশন থাকবে জনপ্রিয় বিষয়ের উপর ভিডিও বানানোর। আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ী ভিডিও না বানিয়ে চেষ্টা করুন আপনার বিষয়ের উপর আপনার দর্শকদের পছন্দ অনুযায়ী ভিডিও তৈরি করার।

কারণ আপনার পছন্দমত ভিডিও দর্শক পছন্দ নাও করতে পারে। আপনার পছন্দ আর আপনার দর্শকদের পছন্দ আলাদা হবে এটাই স্বাভাবিক।

আপনি আপনার পছন্দের উপর ভিডিও বানাবেন কিন্তু সেগুলো আপনার দর্শক ভালোবাসবে না । এজন্য আপনার ভিডিওর ভিউ কম হবে এবং চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার কমে যাবে।

এজন্য আপনার প্রতিটি ভিডিওতে অধিক ভিউস পাওয়ার জন্য, এমন সব টপিক খুঁজতে হবে যে বিষয় মানুষের কাছে অধিক জনপ্রিয় এবং প্রয়োজন ।

২) ইন্টারেস্টিং এবং তথ্যমূলক ভিডিও তৈরি করাঃ-

সব সময় চেষ্টা করবেন এমন সব ভিডিও তৈরি করতে যে ভিডিওগুলো মানুষ দেখতে খুব পছন্দ করে। এইমুহুর্তে আপনি যে টপিকের উপর ভিডিও বানানোর কথা ভাবছেন সেই বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান নিয়ে ভিডিওতে প্রতিটি জিনিস বিস্তারিত ভাবে বুঝিয়ে তারপর ভিডিওটি তৈরি করবেন।

যে ব্যাক্তি আপনার ভিডিও দেখবে সে যেন আপনার ভিডিও দেখে ঐ বিষয়ের উপর এ টু জেড বুঝতে পারে । এতে খুব অল্প সময়ে আপনার চ্যানেলের ভিডিও অধিক জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

সবসময় মনে রাখবেন যত বেশি বিস্তারিত তথ্য দিয়ে আপনি ভিডিও তৈরি করবেন ঠিক তত বেশি মানুষ আপনার ভিডিও দেখতে পছন্দ করবে।

আপনি ইউটিউবে বা গুগলে সার্চ করে দেখুন সার্চ লিষ্টের প্রথমদিকে যেসব ভিডিও রয়েছে সেই ভিডিও গুলির মধ্যে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে ভিডিও বানানো হয়েছে। তাই সর্বোপরি চেষ্টা করুন বিস্তারিত তথ্যমূলক ভিডিও তৈরি করতে।

৩) কোয়ালিটি এবং ক্রিয়েটিভ ভিডিও তৈরিঃ-

বর্তমান সময়ে ইউটিউবে যেকোনো বিষয়ে সার্চ করলে দেখা যায় একই টপিকের উপর অনেক অনেক ভিডিও চলে আসে।

অর্থাৎ বর্তমান সময়ে ইউটিউবে একই বিষয়ের উপর হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন ভিডিও আপলোড করছে।এজন্য আগের চেয়ে এখন প্রতিযোগিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

যেকোন সমস্যা সমাধানের জন্য মানুষ ইউটিউবে সার্চ করে এবং অনেক ভিডিও পায় যেগুলো দেখে সে যেকোনো সমস্যার সমাধান করে নিতে পারে।এক্ষেত্রে এখনকার সময়ে আপনি যদি সৃজনশীল ভিডিও তৈরি করতে না পারেন সেক্ষেত্রে বর্তমান সময়ে ইউটিউবে আপনার জন্য অনেকটাই কঠিন।

আপনি খুঁজে বের করুন যেসব বিষয়ে বিশেষ কিছু অর্থাৎ খুব সামান্য পরিমাণ ভিডিও ইউটিউবে বা ইন্টারনেটে রয়েছে এবং তার প্রতি মানুষের অধির আগ্রহ রয়েছে । আপনার নিশ সিলেকশন করার আগে অবশ্যই বুঝে শুনে তারপর নিশ সিলেক্ট করবেন।

৪) ভিডিও এসইও এর দিকে মনযোগ দিনঃ-

ইউটিউবের ভিডিওতে প্রচুর ভিউ পাওয়ার জন্য ভিডিও সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন ( ভিডিও এসইও) সব থেকে জরুরি। ইউটিউবের ভিডিওতে সঠিকভাবে এসইও করলে গুগল সার্চ ইঞ্জিনে এবং ইউটিউব ভিডিও সার্চ থেকে প্রচুর পরিমানে ভিউ পাওয়া যায়।

ফলস্বরূপ আপনার চ্যানেল ধীরে ধীরে সফলতার দিকে এগিয়ে যায়। তাই চ্যানেলে প্রতিটি ভিডিও আপলোড করার পর অবশ্যই সঠিকভাবে এসইওর কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে।

এক কথায় বলতে গেলে আপনাকে এমন বিষয়ের উপর ভিডিও বানাতে হবে যে বিষয়ে মানুষ জানতে আগ্রহী, কিন্তু সেই বিষয়ের উপর আগে থেকেই ইউটিউবে খুব বেশি ভিডিও নাই।

অন্যান্য মানুষের থেকে আপনার মধ্যে আলাদা কোন বিষয়ের উপর ট্যালেন্ট আছে? আর ইউটিউবে সেই বিষয়ের ভিডিওর পরিমাণ খুবই কম এমন বিষয় বের করে আপনাকে ভিডিও বানাতে হবে ।

এভাবে সৃজনশীল কাজ করলে খুব সহজেই আপনার চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার বাড়বে। তাহলে আপনি সফলতার শীর্ষে পৌঁছে যাবেন।

আর একটা কথা বর্তমান সময় দ্রুত ইন্টারনেটের যুগ, আপনার ভিডিও কোয়ালিটি ফুল এইচডি হওয়া দরকার এবং ভিডিওতে অবশ্যই কিছু আকর্ষণীয় তথ্য ব্যবহার করবেন ।

৫) নিয়মিত ভিডিও আপলোড করাঃ-

সাধারণত প্রতিটা নতুন ইউটিউবাররা এই ভুলটাই করেন। তারা তাদের ইউটিউব চ্যানেলে নিয়মিত ভিডিও আপলোড করেন না।

অনেকেই আছেন চ্যানেলে কিছুদিন নিয়মিত ভিডিও আপলোড করার পর যখন তাদের চ্যানেলের ভিডিওতে খুব বেশি ভিউ আসেনা তখন তারা ভিডিও বানানো পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।

আর নতুন করে ভিডিও আপলোড করার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলে। আবার অনেকেই আছে হতাশ হয়ে চ্যানেলে ভিডিও পাবলিশ করা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। কিন্তু এই কাজ টাই তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল।

কারণ যেকোনো বিষয়ে সফল হতে কিছুটা সময় লাগবে তাই ধৈর্য নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যেতে হবে।তাই প্রথমে সবকিছু বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ভাল এবং প্রয়োজনীয় তথ্যমূলক ভিডিও তৈরি করুন।

আর প্রতিদিন না হোক ১৫ দিনে একদিন অথবা মাসে একদিন যে কোন নির্দিষ্ট একটা সময়ে আপনার চ্যানেলে ভিডিও আপলোড করতে থাকুন । আপনার ভিডিওর বিষয়বস্তু যদি ভালো হয় এবং ভিডিও কোয়ালিটি যদি ভাল হয় তাহলে মানুষ আপনার ভিডিওগুলো পছন্দ করবে।

ফলে ধীরে ধীরে আপনার ভিডিওর ভিউ এবং চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার দুটোই বাড়বে।অবশ্যই মনে রাখবেন ভিডিওতে ভিউ হচ্ছে কি হচ্ছে না এটা নিয়ে বেশি হতাশ হবেন না।

আপনি কেবল ভাল ভাল ভিডিও তৈরি করে নিয়মিত আপনার ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করতে থাকুন। কিছুদিন পর এটার ফল আপনি নিজেই চোখের সামনেই দেখতে পাবেন।

৬) চ্যানেলের বিষয়টি মনে রাখুনঃ-

একজন সফল ইউটিউবার হতে হলে আপনাকে অবশ্যই আপনার চ্যানেলের প্রধান বিষয়টি মাথায় রেখে ভিডিও তৈরি করতে হবে। আর তারপর আপনার চ্যানেলে একটা একটা করে নিয়মিত ভিডিও আপলোড করে যেতে হবে।

অর্থাৎ আপনি যে বিষয় নিয়ে ভিডিও বানাবেন আপনাকে সবসময় ঐ একই বিষয়ের উপর ভিডিও বানাতে হবে। এক কথায় বলতে গেলে আপনার ভিডিওর টপিক কখনো পরিবর্তন করা যাবেনা।

যেমন ধরুন আপনি বিভিন্ন টেকনোলজি বিষয়ক ভিডিও তৈরি করে থাকেন, এক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে আপনার বানানো প্রত্যেকটি ভিডিও যেন টেকনোলজি বিষয়ক হয়।

এতে আপনার চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার যে টপিকের উপর তারা ভিডিও দেখতে চায় তারা সব সময় একই বিষয়ে ভিডিও পাবেন। এতে আপনার চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার খুব দ্রুত বৃদ্ধি পাবে এবং আপনার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করা লোকজন আপনাকে সবসময় সাপোর্ট করবে।

এর কারণ যারা কেবল টেকনোলজি বিষয়ক ভিডিও দেখার জন্য আপনার ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করেছেন।

অর্থাৎ হঠাৎ করে আপনি যদি আপনার চ্যানেলে কমেডি, ফানি কিংবা মোটিভেশনাল টাইপ ভিডিও আপলোড করেন তাহলে হয়তো দেখা যাবে আপনার বেশিরভাগ সাবস্ক্রাইবারগণ ভিডিওটি দেখবেন না।

এতে আপনার ইউটিউব চ্যানেল দিন দিন ডাউন হতে থাকবে এবং আপনার ভিডিওতে ভিউ কমে যাবে এবং অনেকে আপনার চ্যানেলটি আনসাবস্ক্রাইব করে দিতে পারে।

এজন্য অবশ্যই মনে রাখবেন সফল ইউটিউবার হতে হলে আপনার ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করার সময় নিজের ভিডিওর বিষয়টি মাথায় রেখেই তারপর ভিডিও বানিয়ে চ্যানেলে আপলোড করতে হবে ।

৭) বিনা কারণে ভিডিও লম্বা বানাবেন নাঃ-

আপনার ভিডিও যে মেইন বিষয়বস্তু আছে সেটি নিয়ে কথা বলুন। বেশিরভাগ ইউটিউবারগণ এই ভুল করে থাকেন। আপনি যে বিষয় বা টপিক নিয়ে ভিডিও তৈরি করছেন সেই বিষয়ের ব্যাপারে সবকিছু জেনে শুধুমাত্র সেই বিষয়ের উপর ভিডিও বানাবেন।

এর ফলে যেসব মানুষ আপনার ভিডিওটি দেখবে তারা ভিডিওটি দেখতে খুব পছন্দ করবে এবং কোন ধরনের বিরক্ত হবেনা।

আপনি যদি ভিডিও লম্বা বানানোর জন্য অপ্রয়োজনীয় আর অপ্রাসঙ্গিক তথ্য ভিডিওতে যোগ করে ভিডিও তৈরি করেন তাহলে, সেই ভিডিও দেখে মানুষ খুব বিরক্ত হবে এবং সেই সাথে আপনার ভিডিওটি না দেখেই তারা চলে যাবে।

এতে আপনার চ্যানেলের ভিডিও ইউটিউবের নজরে মূল্যহীন আর অপ্রাসঙ্গিক হয়ে দাঁড়াবে। এরজন্য ইউটিউব আপনার চ্যানেলের ভিডিওকে ইউটিউব সার্চ রেজাল্টে উপরের দিকে এবং রিলেটেড ভিডিও সেকশনে কখনো দেখাবে না।

একারণে আপনার চ্যানেলের ভিডিওগুলোর ভিউ কমতে শুরু করবে এবং চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার বাড়ার সম্ভাবনা একেবারে কমে যাবে। এজন্য আপনি যে বিষয় ভিডিও তৈরি করছেন শুধুমাত্র সেই বিষয়টি খুব ভালোভাবে উপস্থাপন করুন।

যত বেশি সময় মানুষজন আপনার চ্যানেলের ভিডিও দেখবে ততটাই আপনার ভিডিওগুলো পছন্দ করবে অর্থাৎ আপনার ভিডিওটি ইউটিউব সার্চ রেজাল্টের একদম উপর দিকে চলে আসবে।

উপরোক্ত তথ্যগুলো মনে রেখে কাজ করলে আপনি অবশ্যই একজন সফল ইউটিউবার হতে পারবেন এবং এর ফল আপনি নিজেই টের পাবেন। গুণীজনেরা বলছেন যা অতি সহজে পাওয়া যায় তা আবার অতি সহজেই হারিয়ে যায়।

এজন্য সামান্য একটু কষ্ট করে যদি ইউটিউবে সিস্টেমটা আপনি একবার বুঝতে পারেন তাহলে আর আপনার সফলতা কেউ কখনো আটকাতে পারবেনা।

এখানে সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল নিজের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে মনযোগ দিয়ে কাজ করা এবং সেই কাজের ফলাফল পাওয়ার জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা। অদূর ভবিষ্যতে আপনার ইউটিউব চ্যানেল থেকে ঠিক কত টাকা উপার্জন করতে পারবেন সেই বিষয়ে মনযোগ না দিয়ে কেবল শুধুমাত্র কাজ করে গেলে সফলতা নিশ্চিত।

তবে একজন সফল ইউটিবার হতে ঠিক কত সময় লাগবে সেটা শুধুমাত্র আপনার নিজের কাজের উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করবে।

ইউটিউব এর সফলতা পেয়ে কি লাভ ?

আপনি হয়ত খুব ভাল করেই জানেন ইউটিউবে সফলতা পেয়ে কি লাভ হবে? বর্তমান সময়ে ইউটিউব দ্বারা অনলাইনে টাকা উপার্জন করার সবথেকে জনপ্রিয় এবং লাভজনক একটি বড় মাধ্যম হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

পৃথিবীর অনেক সফল ইউটিউবার নিজের ইউটিউব চ্যানেল থেকে মাসে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করছে। একজন সফল ইউটিউবার হতে পারলে, আপনি নিজেই নিজের একটি টাকা উপার্জনের রাস্তা তৈরি করে নিতে পারবেন। ইউটিউব ভিডিও ভাইরাল করার সেরা টিপস পেতে এই পোস্ট টি পড়ুন-

শেষ কথাঃ

আপনার হাতে যদি পর্যাপ্ত পরিমাণ সময় থাকে তাহলে আপনিও শুরু করতে পারেন ইউটিউব। তবে শুরু করার আগে অবশ্যই মনে রাখবেন এই প্লাটফর্মে কাজ করতে হলে শুরুর দিকে আপনার পর্যাপ্ত ধৈর্য থাকতে হবে।

অনেকেই আছেন আবেগের বশবর্তী হয়ে প্রথমে শুরু করেন। পরবর্তীতে ধৈর্যহারা হয়ে কিছুদিন পর ছেড়ে দেন। এতে শ্রম ও সময় দুটোই নষ্ট হয়। তাই আপনি শুরু করার আগে ভালভাবে বুঝে শুনে তারপর আরম্ভ করুন।

এগুলো নিয়ে আমি উপরেও আলোচনা করেছি। পরিশেষে আপনার জন্য রইল আমার পক্ষ থেকে শুভ কামনা। এই পোস্ট সম্পর্কে যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন। ভাল লাগলে শেয়ার করবেন। 

Share Is Caring.. ❤️

           

আসসালামু আলাইকুম। আমি পেশায় একজন চাকুরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। আমি ব্লগ পড়তে এবং আর্টিকেল লিখতে পছন্দ করি। অবসর সময়ে ব্লগে বিভিন্ন বিষয়ে লিখে শেয়ার করে থাকি।

Leave a Comment