ফ্রিল্যান্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিং করতে চাই এখন কি করা উচিৎ?

5/5 - (2 votes)

ফ্রিল্যান্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিং কি কিভাবে করতে হয়? কিভাবে একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হওয়া যায়? দেশে এখন নাম মাত্র লক্ষাধিক ফ্রিল্যান্সার আছে, কিন্তু নিয়মিত আয় করছেন বা ভালো পর্যায়ে আছেন এমন ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা খুবই কম। এর প্রধান কারণ হলঃ

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফ্রিল্যান্সিং খাতকে শেষ পর্যায় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পড়াশুনা শেষ করতে পারছেন না? কোন সমস্যা নেই, ফ্রিল্যান্সিং আছে। চাকরির খোঁজে হারিয়ে গেছেন? কোন সমস্যা নেই, ফ্রিল্যান্সিং আছে।

আরেক দল আছে যারা ফ্রিল্যান্সিং এর আশায় স্কুল ছেড়ে দেয়। পড়ে কি হবে, ফ্রিল্যান্সিং তো আছেই। ল্যাপটপ বা কম্পিউটার কিনে ঘরে বসে ২-৩ মাসের মধ্যে হাজার হাজার ডলার আসতে শুরু করবে।

কি এমন পরিশ্রমের কাজ কয়েকদিন দেখলেই পারব। এইসব ভুল ধারনা নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে প্রবেশ করে। আজ এই বড় ভাই তো কাল সেই বড় ভাইয়ের টিউটোরিয়াল গাইড লাইন অনুসরণ করতে গিয়ে এক সময় হারিয়ে যায়।

ফ্রিল্যান্সিং কি শিখতে চাই করণীয় কি -itshohorbd
ফ্রিল্যান্সিং কি

আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হতে চান তাহলে আপনাকে প্রথমে এই ভুল ধারনাগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সমাজের অন্য ০৫টি সম্মানজনক পেশাকে যেভাবে দেখেন। ফ্রিল্যান্সিংকেও একইভাবে দেখতে হবে। এবং অন্য ০৫টি পেশায় যতটা পরিশ্রম প্রয়োজন তার দ্বিগুণ পরিশ্রম করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং কি খুব কঠিন?

মনে অনেক প্রশ্ন? ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে আপনার সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্রে সফল হতে হলে প্রথমেই আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং আপনার দক্ষতা বাড়াতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং কি? কিভাবে শিখবেন? একজন ফ্রিল্যান্সার এবং উদ্যোক্তা হওয়ার বিষয়ে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পড়ুন।

১) ফ্রিল্যান্সিং কি?

ফ্রিল্যান্সিং কি – ফ্রিল্যান্সিং হল নিজের যোগ্যতা ব্যবহার করে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করা। বর্তমানে এটি একটি খুব জনপ্রিয় কর্মক্ষেত্র। ফ্রিল্যান্সিং শুরু করা যায় খুব সহজে কোন প্রকার বিনিয়োগ ছাড়াই।

বর্তমানে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পেশা। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা অনেক বেশি এবং ফ্রিল্যান্সিং এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চাইলে আপনিও ফ্রিল্যান্সিং প্লার্টফর্মে যুক্ত হয়ে কাজ করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং প্লার্টফর্মে কাজের জন্য আপনাকে যেকোনো একটি বা একাধিক কাজে দক্ষ হতে হবে। পাশাপাশি আপনার ভাল ইংরেজি জানা থাকতে হবে। দুশ্চিন্তার কিছু নেই বর্তমানে এসব কাজ শেখা খুবই সহজ।

বর্তমানে দেশে অনলাইনে এবং অফলাইনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কোর্স করানো হয় ফ্রিল্যান্সিং এর উপর। আপনি যেকোনো বিষয়ের উপর একটি কোর্স করে খুব সহজে এই ফ্রিল্যান্সিং প্লার্টফর্মে যুক্ত হয়ে কাজ করতে পারেন। আশা করি বুঝতে পেরেছেন ফ্রিল্যান্সিং কি?

২) কেন ফ্রিল্যান্সিং জনপ্রিয়?

ফ্রিল্যান্সিং এর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ হল আপনি ঘরে বসেই আয় করতে পারবেন। এর জন্য কোনো অফিস বা নির্ধারিত স্থানের প্রয়োজন নেই। আপনার ইন্টারনেট এবং কম্পিউটার সংযোগ থাকলে আপনি বিশ্বের যে কোনও জায়গা থেকে কাজ করতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে অনেক বেশি আয় করা যায়। অনেক বেশি আয় করা যায় একথা যেমন সত্য তেমনি এই প্লাটফর্মে কাজ করাটাও অনেক কষ্টের। বর্তমানে এই প্লাটফর্মে কাজের প্রতিযোগিতা অনেক। আপনি ফ্রিল্যান্সিং প্লার্টফর্মে টিকে থাকতে চাইলে আপনাকে অনেক বেশি দক্ষ হতে হবে কারণ, বর্তমানে প্রতিযোগিতা অনেক।

৩) ফ্রিল্যান্সিং এর মার্কেটপ্লেস কি?

upwork, freelancer, fivrr, ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে জনপ্রিয়। কিছু ব্যতিক্রম সহ মার্কেটপ্লেসের মধ্যে রয়েছে নাইনটি নাইন ডিজাইন, পিপল পার আওয়ার, ডিজাইন ক্রিয়েটিভ। আরও অনেক প্ল্যাটফর্ম রয়েছে ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য। এই সমস্ত মার্কেটপ্লেসগুলি বিনামূল্যে নিবন্ধন করে পরিচালনা করা যেতে পারে।

৪) ফ্রিল্যান্সিং এর ভবিষ্যৎ কি?

ফ্রিল্যান্সিং এর জনপ্রিয়তা বাড়ার সাথে সাথে নতুন মার্কেটপ্লেসের সংখ্যাও বাড়ছে। ফলে কাজের কমতি নেই। ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে অনেক বেশি আয় করা যায়। বর্তমানে দেশে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স আসে ফ্রিল্যান্সিং থেকে। আমাদের দেশে অনেক মেধাবী মানুষ আছে। সেই মেধাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে গার্মেন্টস সেক্টরকে ছাড়িয়ে যেতে হবে।

ভবিষ্যতে দেশের বেশিরভাগ রেমিট্যান্স আসবে এই ফ্রিল্যান্সিং থেকে। শিগ্রই এটি একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে পরিচিতি পাবে। মানুষ নিজেকে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতে পছন্দ করবে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ফ্রিল্যান্সার হতে উৎসাহিত করবেন।

৫) ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে কি কি জানতে হবে?

আপনার কাজের বিষয় বা আপনি কি কাজ করবেন তা আপনাকে ভাবতে হবে। আপনি যেকোনো বিষয়ে কাজ খুঁজে পেতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং, কন্টেন্ট রাইটিং, ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট, অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট, গেম ডেভেলপমেন্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, এসইও পরিষেবা, ভিডিও তৈরি, ভিডিও এডিটিং বা আরও অনেক কিছু দিয়ে শুরু করতে পারেন।

কিন্তু, আপনি ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে যে নিশ বা টপিক ভাবছেন, টিকে থাকার আগে আপনাকে অবশ্যই এই ৪টি জিনিস দেখতে হবে।

  • আপনার বাছাইকৃত টপিক এমন একটি হওয়া উচিত যে সম্পর্কে আপনার সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং জ্ঞান রয়েছে।
  • যে কাজটি ভালো লাগে সেই কাজটি করবেন এবং নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে জানবেন।
  • আপনি যে নিশ বা টপিক নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার কথা ভাবছেন তার মার্কেট কতটা প্রয়োজন বা তার চাহিদা কতটা তা জানা জরুরী।
  • আপনাকে সেই বিষয় বা নিশে কাজ করতে হবে, যে বিষয়ে আপনার আবেগ বা প্যাশন আছে। এইভাবে, আপনি কাজ করার সময় বিরক্ত হবেন না এবং দীর্ঘ সময় কাজ করতে সক্ষম হবেন।

সুতরাং, ফ্রিল্যান্সিং ব্যবসার জন্য কী কাজ করবেন তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, আপনাকে অবশ্যই উপরের ৪ টি পয়েন্ট মনে রাখতে হবে।

এখন আপনি কি জেনে গেছেন কিভাবে Skill Develop করবেন। এখন একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একটি মাইনসেট তৈরি করুন। এই সময়ের মধ্যে যাই ঘটুক না কেন, আপনি স্কিল ডেভেলপ বন্ধ করবেন না।

প্রতিদিন নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যান। আপনি যে সেক্টরে আপনার দক্ষতা বাড়াচ্ছেন না কেন, অন্তত ১ বছর হাতে নিন, এই ১ বছরে কোনও ডলার উপার্জন করার কথা ভাববেন না।

৬) ভালো কাজ না জেনে ফ্রিল্যান্সিং করতে আর কি লাগে?

প্রথমে আপনাকে ইংরেজিতে পড়তে, বলতে, লিখতে, অর্থাৎ যোগাযোগ করতে জানতে হবে। সাবলীল ইংরেজি জানা প্রয়োজন নয়, কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য জ্ঞান থাকতে হবে। গুগল সার্চও জেনে রাখুন, আপনি যদি গুগলের সাথে চিন্তার আদান-প্রদান করতে পারেন, তাহলে আপনি গুগলে গিয়ে আপনার চিন্তা প্রকাশ করতে পারবেন যতবার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে হোঁচট খাবেন, আপনি সমাধান নিতে পারবেন।

এটিই একমাত্র দক্ষতা যা আপনাকে যেকোনো কাজে সাহায্য করতে পারে, আপনি যদি গুগল সার্চ করতে পারেন তাহলে আপনাকে কোনো মেন্টর বা কোনো পেইড কোর্স বড় ভাইয়ের পেছনে দৌড়াতে হবে না।

৭) ফ্রিল্যান্সিং হুমকির কারণ কি?

আমাদের দেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ফ্রিল্যান্সের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে, তাদের ব্যবসা সফল করতে আগ্রহী ফ্রিল্যান্সারদের ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিচ্ছে। অনেকে আবার ভাবেন- ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে ক্লিক বা ডাটা এন্ট্রির কাজ।

কেউ কেউ ইউটিউব ভিডিও দেখে খুব সহজে ঝাঁপিয়ে পড়ে ফ্রিল্যান্সিং এর দিকে। এর পরিণতি ও ফল দ্বারায় ভয়াবহ। যারা মনে করেন যে ফ্রিল্যান্সিং মানে হাজার হাজার ডলার খুব সহজে, তাদের জন্য বলছি- ফ্রিল্যান্সিং আপনার জন্য নয়, দয়া করে এখনই কেটে পরুন।

কারণ, ফ্রিল্যান্সিংয়ের কোনো শর্টকাট নেই। আপনি যদি হাজার হাজার ডলার আয় করতে চান, কিন্তু আপনার প্রয়োজনীয় শ্রম, ধৈর্য, ​​মেধার সঠিক ব্যবহার না থাকলে আপনি এই সেক্টরে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবেন না। সঠিক নির্দেশনার জন্য সফল ফ্রিল্যান্সারদের সাহায্য নিন।

৮) আমি ফ্রিল্যান্সিং করতে আগ্রহী, আমি কি করতে পারি?

আপনার সামর্থ্য থাকলে ফ্রিল্যান্সিং ছেড়ে দেওয়ার আগে নিজেকে সময় দিন। আপনি অন্য লোকেদের প্রতি যে সহায়তা প্রদান করেন তার সাথে আপনাকে আরও বৈষম্যমূলক হতে হবে। আপনাকে ভাবতে হবে এখানে আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সারদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে হবে।

আপনি যে কাজ করতে আগ্রহী তা নিয়ে কিছুদিন লেগে থাকুন। আগে নিজেকে তৈরি করুন। তারপর এই সেক্টরে প্রবেশ করুন। চেষ্টা চালিয়ে যান, সফলতা আসবেই। আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য, ​​দক্ষতা ছাড়া ফ্রিল্যান্সিং সম্ভব নয়।

গান শুনে, সেলফি তুলে, সারাদিন ফেসবুক ব্রাউজ করে সময় নষ্ট না করে, এই সময়কে কাজে লাগান। কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা তৈরি করুন। তবেই আপনি একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিং বাংলাদেশের তরুণদের ভবিষ্যতের পেশা।

সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করে বেকারত্ব দূর করার পাশাপাশি দেশকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। ফ্রিল্যান্সিংকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিন, সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আপনার যাত্রা শুরু করুন। এভাবেই একদিন আজকের ফ্রিল্যান্সাররা আগামীকালের উদ্যোক্তা হয়ে উঠবে।

শেষ কথাঃ

আশা করি ফ্রিল্যান্সিং কি এ বিষয়ে আপনি বুঝতে পেরেছেন। আপনার যদি এবিষয়ে আরও কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে নিচে কমেন্ট বক্সে অবশ্যই জানাবেন। যতটুকু সম্ভব উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। সম্পূর্ণ পড়াটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Share Is Caring.. ❤️

           

আসসালামু আলাইকুম। আমি পেশায় একজন চাকুরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। আমি ব্লগ পড়তে এবং আর্টিকেল লিখতে পছন্দ করি। অবসর সময়ে ব্লগে বিভিন্ন বিষয়ে লিখে শেয়ার করে থাকি।

Leave a Comment