ব্লগ এবং ইউটিউব বর্তমানে খুব জনপ্রিয় এবং দুটি প্ল্যাটফর্মের জন্য ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু আপনি ব্লগ অথবা ইউটিউব যেটাই বলেন না কেন, দুই সেক্টরে ভবিষ্যৎ রয়েছে। এটা নির্ভর করে আপনি কোন সেক্টরে ভালো দক্ষতা অর্জন করতে পারেন।

যেখানে Youtube এ ভালো কন্টেন্ট এবং ইউটিউবে কিছু রিসার্চ করলে প্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়া যায়। সেখানে ভালো কন্টেন্ট তৈরির জন্য ব্লগিংই শেষ জিনিস নয়, এই ক্ষেত্রে একটু বেশি রিসার্চ প্রয়োজন। আপনি যদি সফল হতে চান তবে আপনাকে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে, তা ইউটিউব হোক বা ব্লগিং।
ব্লগ কি?

ব্লগ এর পূর্ব নাম ছিল”ওয়েব্লগ”। ওয়েব্লগ শব্দটি সর্বপ্রথম, ১৯৯৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর জর্ন বার্গার দ্বারা উদ্ভাবিত হয়েছিল। পরবর্তীতে সংক্ষিপ্ত রূপ, “ব্লগ” শব্দটি পিটার মেরহোলজ দ্বারা উদ্ভাবিত হয়েছিল।
১৯৯০ এর দশকের শুরুতে ব্লগ কে একটি ব্যক্তিগত ডায়েরি হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্লগের পরিবর্তন আসতে শুরু করে, এখন ব্লগাররা তাদের ব্লগে এমন কন্টেন্ট লেখেন যা মানুষের প্রয়োজন। বর্তমানে, ওয়েবে ৫৭০ মিলিয়নেরও বেশি ব্লগ সাইট রয়েছে।
মূলত, ব্লগ হলো একটি তথ্যপূর্ণ ওয়েবসাইট। blog শব্দটি “weblog” থেকে নেওয়া হয়েছে। এবং এর বাংলা প্রতিশব্দ হল ব্লগ। সহজ কথায়, ব্লগ হল এক ধরণের অনলাইন ডায়েরি, এখানে এক বা একাধিক লেখক লিখে মনের ভাব প্রকাশ করে, পোস্ট করেন, এটিকে ডিজিটাল কন্টেন্ট বা আর্টিকেলে বলে।
লেখক এই ব্লগ পোস্ট, কন্টেন্ট, বা আর্টিকেলের মাধ্যমে অন্যদের সাথে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বা ব্যক্তিগত জ্ঞান শেয়ার করেন। অনেকগুলো আর্টিকেল নিয়ে গঠিত হয় একটি ব্লগ ওয়েবসাইট। আর যে ব্যক্তি এই নিবন্ধগুলি লেখেন এবং প্রকাশ করেন তিনি একজন ব্লগার৷
ইউটিউব কি?

YouTube হল একটি অনলাইন ভিডিও প্ল্যাটফর্ম পরিষেবা সাইট। এটি হলো সান ব্রুনো, ক্যালিফোর্নিয়ার ভিত্তিক অনলাইন ভিডিও প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। যা ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়েছিল।
এরপর ২০০৬ সালের অক্টোবরে, গুগল 1.65 বিলিয়ন ডলারে সাইটটি কিনেছিল। এখন শুধু ইউটিউবে ভিডিও শেয়ার করাই নয়, ভিডিও ক্লিপ, সিনেমা, গান, ডকুমেন্টারি এবং অন্যান্য ধরনের ভিডিওর বিশাল ভান্ডারে পরিণত হয়েছে।
এছাড়াও, এখন বিজ্ঞাপনের বিষয়টি YouTube-এ যোগ করা হয়েছে, আপনি চাইলে YouTube-এর মাধ্যমে আপনার ব্যবসার যেকোনো পণ্য বা পরিষেবা প্রচার করতে পারবেন।
Also Read
ব্লগ এবং ইউটিউব এর মধ্যে পার্থক্য
ইউটিউব এবং ব্লগিং দুটি ভিন্ন প্লার্টফর্ম, কিন্তু দুটির মধ্যে অনেক বিষয়ে মিল রয়েছে। YouTube এবং ব্লগিংয়ের মধ্যে পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো –
☛ ১। আপনাকে অবশ্যই ব্লগিংয়ের জন্য ডোমেন-হোস্টিং কিনতে হবে। তবে শুরুতে ডোমেইন হোস্টিং না কিনেও ব্লগিং শুরু করা যায়, তবে সেটি বেশি ফলপ্রসূ হবে না। প্রফেশনালভাবে শুরু করতে হলে আপনাকে ব্লগিংয়ের ক্ষেত্রে ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনতেই হবে।
অপরদিকে আপনাকে কিন্তু YouTube-এর জন্য কোনো ডোমেইন-হোস্টিং কিনতে হবে না। আপনি সরাসরি ইউটিউবে একটি চ্যানেল খুলেই ভিডিও আপলোড করতে পারবেন।
☛ ২। ব্লগিং-এ আপনি নিবন্ধ, অডিও, ভিডিও, ছবি ইত্যাদির মতো যেকোনো কিছু আপলোড করতে পারেন, তবে ভিডিও ছাড়া অন্য কোনো কিছু ইউটিউবে আপলোড করা যাবে না। তবে আপনি যদি চান আপনি ইউটিউবে মার্কেটিং করতে পারেন, আপনি বিজ্ঞাপন দিতে পারেন।
☛ ৩। একটি ব্লগিং ওয়েবসাইট আপনি আপনার পছন্দের ডিজাইন দ্বারা অপ্টিমাইজ করতে পারেন। কিন্তু এটা ইউটিউবে করা যাবে না। ইউটিউবের পলিসি মেনে আপনাকে কাজ করতে হবে।
☛ ৪। ব্লগিংয়ের ক্ষেত্রে, আপনি ওয়েবসাইট এবং কন্টেন্ট সবকিছুর মালিক আপনি নিজে এবং আপনার নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। আপনি যদি YouTube-এর নীতি অনুসরণ না করেন, YouTube আপনার চ্যানেল বন্ধ করে দিতে পারে।
☛ ৫। ব্লগিং এর ক্ষেত্রে আয়ের উৎস বেশি। আপনি যদি চান, আপনি অ্যাডসেন্স ছাড়াই যেকোনো কোম্পানির বিজ্ঞাপন দেখিয়ে সরাসরি অর্থ উপার্জন করতে পারেন। এছাড়াও এফিলিয়েট মার্কেটিং, স্পনসরশিপ, নিজের ব্যবসার পণ্য প্রচার করে আয় করতে পারেন।
অন্যদিকে, ইউটিউবে আয়ের উৎস তুলনামূলকভাবে কম। আপনি ইউটিউবে গুগল এডসেন্স ছাড়া অন্য কোন থার্ড পার্টি কোম্পানির বিজ্ঞাপন দেখাতে পারবেন না।
☛ ৬। ব্লগিং ওয়েবসাইট ডিজাইন করা এবং পরিচালনা করাও একটু বেশি জটিল। অন্যদিকে, ইউটিউবের এই ধরণের ডিজাইনের প্রয়োজন নেই এবং চ্যানেলটি পরিচালনা করা খুব সহজ। কিন্তু ইউটিউব প্লার্টফর্মে আপনার অবশ্যই ভিডিও এডিটিং সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকতে হবে।
ব্লগিং করতে কি কি প্রয়োজন হয়?
ব্লগিং নতুন মানুষের জন্য খুব কঠিন মনে হতে পারে।কিন্তু যখন আপনি নতুন উপায়ে সম্পূর্ণরূপে ব্লগিং শুরু করবেন, তখন আপনার যা দরকার তা হবে সেগুলো হলো-
- ✔ ডোমেন
- ✔ হোস্টিং
- ✔ থিম
- ✔ প্লাগইন
- ✔ কন্টেন্ট
সাধারণ ভাবে আপনি উপরের জিনিসগুলির সাথে ব্লগিংয়ের যাত্রা শুরু করতে পারেন৷ কিন্তু পরবর্তীতে কখন কি করবেন সেটা আপনাকে অবশ্যই ব্লগিং গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে।
ব্লগ বা ইউটিউব কোনটি সেরা?
ব্লগ এবং ইউটিউব, আপনাকে এই দুটি সম্পর্কে একটু ধারণা দেওয়া হয়েছে, এবং এখন আমি আপনাকে এই দুটি সেক্টর থেকে কীভাবে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন তার একটি ছোট ধারণা দেব। যেন আপনি ভবিষ্যতে ব্লগিং করবেন নাকি ইউটিউবিং করবেন এ বিষয়ে আপনার আর যেন কোন কনফিউশান না থাকে।
ইউটিউব এর মাধ্যমে টাকা আয়
ইউটিউবে গুগুল এডসেন্স এর বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আয় করা যায়। তবে যাইহোক, আপনার YouTube চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য YouTube-এর কিছু নীতি মালা রয়েছে।
সর্বপ্রথম হল প্রথম অবস্থায় আপনার YouTube চ্যানেলে কমপক্ষে ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার এবং ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচটাইম বাধ্যতামূলক থাকতে হবে। আপনার ইউটিউব চ্যানেলের কন্টেন্ট অনুযায়ী গুগুল এডসেন্স বিজ্ঞাপন দেখিয়ে থাকে।
সেই বিজ্ঞাপনে ভিউ/ক্লিক অনুযায়ী ইউটিউব পেমেন্ট দেয়।এছাড়াও আপনি ইউটিউব থেকে স্পনসরশিপ মেথড দ্বারা আয় করতে পারবেন। বাংলাদেশে অনেক ইউটিউবার আছে যারা প্রতি মাসে ইউটিউব থেকে লাখ লাখ টাকা আয় করে।
ব্লগিং এর মাধ্যমে টাকা আয়
YouTube-এ একজন ইউটিউবার বিভিন্ন ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করে শেয়ার করে টাকা আয় করেন। ব্লগিং ঠিক তেমনি, কিন্তু ব্লগিং, বিভিন্ন আর্টিকেল লিখে শেয়ার করে অর্থ অর্জিত হয়। অনেকে মনে করতে পারেন যে ব্লগিং একটি খুব জটিল কাজ।
অনেক লোক ওয়েবসাইট সম্পর্কে চিন্তা করে এবং কোডিং সম্পর্কে চিন্তা করেই হয়ত এটি জটিল বলে মনে করতে পারে। কিন্তু আপনি চাইলে কোডিং ছাড়াই গুগুলের blogger বা WordPress এর মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে একটি ব্লগ সাইট তৈরি করতে পারেন।
ব্লগ থেকে টাকা আয়ের সহজ উপায়গুলো সম্পর্কে জানতে নিচের পোস্টগুলো পড়ে আসতে পারেন –
ইউটিউবিং করতে কি কি প্রয়োজন?
নতুনরা ইউটিউব নিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করতে চাইলে কি কি জিনিস প্রয়োজন হবে সেই বিষয় নিয়ে চিন্তিত থাকেন। YouTube শুরু করার জন্য, আপনার প্রথমেই প্রয়োজন
- ✔ ভিডিও ক্যামেরা।
- ✔ ভিডিও এডিটিং সফ্টওয়্যার এবং
- ✔ ভিডিও নিয়ে কাজ করা যায় এমন কনফিগারেশনের ল্যাপটপ।
শুধুমাত্র এই ৩টি ছোট জিনিস দিয়ে ইউটিউবে কাজ শুরু করা যায়। ভিডিও এডিটিং করতে আপনাকে অবশ্যই একটি ভাল এডিটিং সফ্টওয়্যার ব্যবহার করতে হবে। আপনি ইন্টারনেটে অনেক বিনামূল্যের ভিডিও এডিটিং সফ্টওয়্যার পাবেন। তবে এগুলো ব্যবহার না করাই ভালো।
আপনি যে সফ্টওয়্যার ব্যবহার করতে চান, সেটি কিনুন এবং ব্যবহার করুন। আপনি নিজেই ভিডিও এডিটিং করতে পারবেন। কয়েকদিন ধৈর্য সহকারে কাজ শেখা কারও পক্ষে কঠিন কাজ নয়।
ইউটিউব ভিডিও সহজে ভাইরাল করতে নিচের পোস্ট টি পড়তে পারেন –
শেষ কথা
প্রিয় পাঠক আজকের আর্টিকেলে আমরা আপনার সাথে আলোচনা করেছি কেন ব্লগ বা ইউটিউব আপনার জন্য সেরা। আমরা আগেই বলেছি যে এই দুটি সেক্টর থেকে প্রকৃত আয় করা যায়।
এখন আপনি আমাদের আলোচনা অনুসরণ করে কোন সেক্টরে কাজ করতে চান তা নির্ধারণ করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন আপনি যেই প্লার্টফর্মকেই বেছে নেন না কেন, আপনাকে সবসময় উন্নতমানের কন্টেন্ট ডেলিভারি করতে হবে।
ইউটিবের ক্ষেত্রে ভিডিও কন্টেন্ট আর ব্লগিংয়ের ক্ষেত্রে টেক্সট কন্টেন্ট। আমি আশা করি আপনি যে বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন সেটি দিয়েই ক্যারিয়ার শুরু করুন তাহলে আপনি দ্রুত সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবেন।


