ম্যাকবুক প্রো ল্যাপটপটিকে সাধারণত অ্যাপেলের জাদুর বক্স বলে অভিহিত করা হয়। কারণ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লাগাতার নতুন নতুন ল্যাপটপ তৈরি করছে। তবে, অ্যাপেলের ম্যাকবুকের তুলনায় অন্য কোনো ল্যাপটপ মডেল তেমন উন্নতি লাভ করতে পারেনি। অ্যাপল একটি বড় প্রযুক্তি কোম্পানি, এবং তারা দুই ধরনের ম্যাকবুক বাজারে ছাড়ে।
- ১। ম্যাকবুক এয়ার এবং
- ২। ম্যাকবুক প্রো।
ম্যাকবুক প্রো কেনার আগে যা জানা প্রয়োজন
প্রথম দেখায় অনেকে হয়তো দুটি মডেলের মধ্যে খুব বেশি ব্যবধান লক্ষ্য করবেন না, কিন্তু আসলে তাদের মধ্যে considerable পার্থক্য রয়েছে। যদি আপনি একটু বেশি দাম দিয়ে ল্যাপটপ কিনতে ইচ্ছুক হন, তাহলে উন্নত ফিচার এবং ক্ষমতাসম্পন্ন সিরিজের ম্যাকবুক ক্রয় করা উচিত।

প্রসেসর
ম্যাকবুক এয়ার এবং ম্যাকবুক প্রো সম্পর্কে আলোচনা করলে, বেশিরভাগেই প্রো মডেলকে এগিয়ে রাখেন। এর কারণ হলো এর ফিচার এবং স্পেসিফিকেশন। ম্যাকবুক প্রো এর সিপিইউ, জিপিইউ, এবং গ্রাফিক্স কার্ড অন্যান্য ডিভাইসের তুলনায় বেশি কার্যকর এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন।
প্রয়োজন হলে আপনি সহজেই অতিরিক্ত র্যাম সংযুক্ত করতে পারেন বা প্রসেসরও পরিবর্তন করতে সক্ষম হবেন। এটি আমাদের জন্য একটি দারুণ সুযোগ, কারণ আপনি আপনার কাজের ধরণ অনুযায়ী র্যাম, রম, এবং এসএসডি পরিবর্তন করতে পারেন একটু বাড়তি বাজেট দিয়ে।
ফিচার এবং দাম
দামের এবং মডেলের মধ্যে যে ভিন্নতা আছে, সেগুলো বোঝার জন্য অনলাইনে সার্চ করে দেখতে পারেন। এলাকা এবং মুদ্রার রেট অনুসারে বাংলাদেশ এবং অন্যান্য দেশের মধ্যে দাম এবং কিছু ফিচারে পার্থক্য থাকতে পারে।
ধরুন, আপনার বাজেট অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত ম্যাকবুক প্রো কিনতে পারছেন না, তাহলে আপনি কিছুদিন অপেক্ষা করে প্রয়োজনীয় প্রো মডেলটি সংগ্রহ করতে পারেন। যেহেতু আপনি দীর্ঘ সময়ের জন্য ডিভাইসটি ব্যবহার করতে মনস্থির করেছেন এবং এটি কেনায় ভালো অর্থ ব্যয় করতে চাচ্ছেন, তাই ভাল-মন্দ চিন্তা ভাবনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
কালার (Colours)
ম্যাকবুক প্রো এর বিভিন্ন রঙ বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। রঙের উপস্থিতি যতটা গুরুত্বপূর্ণ হোক, কার্যকারিতার দিক থেকে এই ডিভাইসটি কখনোই আপশ করে না। এর ডিজাইন এবং কার্যকারিতা উভয়ই অসাধারণ মানের।
ডিসপ্লে
সাধারণত আমরা ১৩-১৪ ইঞ্চির ছোট্ট অ্যাপেলের ম্যাকবুক দেখি। তবে, সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে যে ম্যাকবুক প্রো মডেলে সর্বোচ্চ ১৬ ইঞ্চি পর্যন্ত ডিসপ্লে পাওয়া যাচ্ছে। যারা বড় পর্দায় কাজ করতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি একটি দারুন সুযোগ। যদি একই ফিচারস থাকে, তবে শুধুমাত্র ডিসপ্লের আকারের কারণে মূল্য কিছুটা বেশি হতে পারে।
ব্যাটারি
যারা নিয়মিতভাবে অ্যাপেলের পণ্য ব্যবহার করেন কিংবা এ সম্পর্কে জানেন, তারা জানেন যে এই ডিভাইসগুলোর ব্যাটারি স্বাস্থ্য খুব ভালো। গবেষণা এবং বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে অ্যাপল তাদের প্রো সিরিজের ল্যাপটপগুলোর জন্য প্রায় ২০ ঘণ্টার মতো ব্যাটারি ব্যাকআপ দিচ্ছে। কেনার আগে অবশ্যই খেয়াল করবেন, ব্যাটারি ক্যাপাসিটি কেমন এবং দ্রুত চার্জিং সুবিধা আছে কি না।
Also Read
ওজন
যদিও ম্যাকবুকগুলো সহজে বহনযোগ্য, তবুও আপনার চলনসই সুবিধার ওপর ভিত্তি করে আপনার প্রো ম্যাকবুক নির্বাচন করা উচিত। উদাহরণ হিসেবে, ১৪ ইঞ্চি মডেলের ম্যাকবুক প্রোর ওজন প্রায় ১.৫ কেজি, যেখানে ১৬ ইঞ্চি ম্যাকবুকের ওজন প্রায় ২.১ কেজির কাছাকাছি। আবার, নতুন ১৩ ইঞ্চি মডেলের প্রোর ওজন ১.৩৬ কেজি।
বাজেট
যখন অ্যাপলের ডিভাইস কেনার কথা আসে, প্রথম যে বিষয়টি মাথায় আসে সেটি হলো দাম। নিশ্চিতভাবেই বাজেট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ডিসপ্লের আকার, চিপ, এবং প্রসেসর অনুযায়ী প্রতিটি মডেলের জন্য দাম আলাদা করে নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশে ম্যাকবুক প্রো এর দাম ১ লাখ ২০ হাজার টাকার কাছাকাছি শুরু হচ্ছে এবং এটি ৬ লাখ টাকার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
আপনার বাজেটের উপর ভিত্তি করে আপনি কোন ধরনের শক্তিশালী ডিভাইস পাবেন তা নির্ধারিত হবে। আমি সুপারিশ করবো নতুন M2 ভেরিয়েন্ট ম্যাকবুক প্রো কেনার, যা ৮ কোর সিপিইউ এবং ১০ কোর জিপিইউ নিয়ে তৈরি। যেহেতু এই ধরনের ডিভাইস পরিবর্তন করা কঠিন, তাই কেনার আগে যথাযথভাবে চিন্তা করা উচিত।
মেইনটেইনেন্স
এছাড়াও, ম্যাকবুক প্রো ক্রয়ের আগে একবার খোঁজ নিতে হবে যে আপনি সেই ডিভাইসের দেখাশোনা করতে পারবেন কিনা। আপনাকে এটিকে আগুন এবং পানির মতো ক্ষতিকর বিষয় থেকে রক্ষা করতে হবে। অতিরিক্ত সময় ধরে এটি ব্যবহার করা উচিৎ নয় এবং সেই সঙ্গে ব্যাটারির যত্নও নিতে হবে।
কানেক্টিভিটি
ম্যাকবুক প্রো তে প্রধানত USB-C পোর্ট এবং Thunderbolt 4 পোর্ট থাকে। যা দ্রুত ডেটা ট্রান্সফার এবং 4K/5K ডিসপ্লে সাপোর্ট দেয়। কিছু কিছু ম্যাকবুক প্রো মডেলে HDMI এবং SD কার্ড স্লট ফিরে এসেছে। তবে কিছু মডেলে এটা নেই। যদি আপনি এই পোর্টগুলো প্রয়োজন মনে করেন, তবে ১৪-ইঞ্চি বা ১৬-ইঞ্চি মডেল আপনার জন্য ভালো হতে পারে।
কুলিং সিস্টেম
প্রো মডেলের ম্যাকবুক গুলোতে অ্যাকটিভ কুলিং সিস্টেম থাকে। বিশেষ করে ১৪-ইঞ্চি এবং ১৬-ইঞ্চি মডেলে এটি বেশি দেখা যায়। যার ফলে লং টাইম Heavy কাজ করার সময়ও ল্যাপটপের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
টাচবার এবং টাচআইডি
বর্তমানে ১৬-ইঞ্চি ম্যাকবুক প্রো তে টাচবার ও টাচআইডি ফিচার থাকে। যা খুব ফাস্ট লক আনলক, অ্যাপস সোয়াইপ এবং ফাংশন নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত হয়। সাধারণত ১৩-ইঞ্চি মডেলে এটি থাকে না।
রেটিং ও রিভিউ
আপনি যদি প্রথমবার ম্যাকবুক কেনার চিন্তা করেন, তাহলে একবার অনলাইন রিভিউ এবং ইউজার রেটিং দেখে নিন। এ থেকে আপনি বিস্তারিত তথ্য পাবেন এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা বুঝতে পারবেন।
সফটওয়্যার ইকোসিস্টেম
macOS: এটি একটি ইউজার-ফ্রেন্ডলি অপারেটিং সিস্টেম। যা অন্যান্য Apple ডিভাইসের সাথে নিখুঁতভাবে সিঙ্ক্রোনাইজ হয়। আপনি যদি ইতিমধ্যে iPhone, iPad, অথবা Apple Watch ব্যবহার করেন, তাহলে আপনার জন্য ম্যাকবুক প্রো একটি সেরা চয়েস হতে পারে।
Apple Ecosystem: Continuity এবং Handoff ফিচারের মাধ্যমে আপনি এক ডিভাইসে কাজ শুরু করে সেটি আবার অন্য ডিভাইসে চালাতে পারবেন।
ওয়ারেন্টি এবং সার্ভিস
AppleCare+ এই প্যাকেজটি এক্সটেন্ডেড সার্ভিস এবং ওয়ারেন্টি অফার করে। এটি থেকে আপনি আপনার ম্যাকবুকে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতি অথবা মেরামতের জন্য অতিরিক্ত সুরক্ষা পাবেন। এছাড়াও Apple এর সার্ভিস সেন্টার সাধারণত খুব ভালো এবং ফাস্ট।
ব্যবহার
আপনি কোন কাজে আপনার ম্যাকবুক ব্যবহার করতে চান? যদিও আপেলের সব ল্যাপটপ নানা ধরনের কাজে ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুত, তবুও কিনার আগে এটা ঠিক করুন আপনি কি উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার করবেন। সেই অনুযায়ী সিপিইউ, জিপিইউ, এবং র্যাম দেখে নেবেন কোনটি আপনার জন্য সর্বাধিক কার্যকর হবে।
ম্যাকবুক প্রোর বিভিন্ন রঙ রয়েছে, এবং অনেকে তাদের ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী রঙ নির্বাচন করছেন। আগে আপনাকেই ভাবতে হবে কেন আপনি এটি কিনছেন এবং বাজেট কত, এই বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিন।
পার্টস এবং অন্যান্য
অ্যাপলের ল্যাপটপে ক্যামেরা, ইউএসবি পোর্ট এবং অন্যান্য উপকরণ প্রত্যেকটি উচ্চমানের। সাউন্ড সিস্টেমেও নতুন চমক দেখা যায়। যদি আপনি গেমিং স্ট্রিমিং করতে চান, তাহলে অতিরিক্ত হেডফোনের প্রয়োজন পড়বে না। কিছু মডেলে ৩ বা ৪টি আলাদা মাইক্রোফোন এবং স্পিকার থাকার কারণে মিটিং কিংবা সিনেমা দেখার সময় কোনো সমস্যা হবে না।
যদি গ্রাফিক্স সংশ্লিষ্ট কাজে আপনি নিয়োজিত থাকেন, তাহলে গ্রাফিক্স কার্ড নির্বাচনেও সতর্ক থাকুন। যেমন, এম ১ প্রসেসরের পরিবর্তে এম ২ এবং একটি ভালো গ্রাফিক্স কার্ড কিনলে আপনার কাজের সুবিধা বাড়বে, তাই এটি বেছে নিন। দাম কিছুটা বেশি হলেও, যেহেতু এটি দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার করা যাবে।
শেষ কথা
ম্যাকবুক প্রোর দাম কার্যকরভাবে প্রসেসর, র্যাম, গ্রাফিক্স কার্ড এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে। প্রয়োজন হলে, কেনার আগে ফিচারসহ দামের তুলনা করে দেখতে পারেন। বাজেট, ফিচার, ডিসপ্লের ধরন এবং ব্যাটারি পাওয়ারসহ সবকিছু বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিন। আমি আশা করি, এই পরামর্শগুলো আপনাকে ম্যাকবুক প্রো কেনার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে।


